
স্পোর্টস রিপোর্টার
বিপিএলের প্রথম আসরের নিলামে গতকাল বিক্রি হয়েছেন দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৯৬ ক্রিকেটার। তবে তাদের মধ্যে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি এবং ক্রিস গেইল। সর্বোচ্চ ৭ লাখ ডলার (৫৮ কোটি টাকা) খরচ করে আফ্রিদিকে দলে টেনেছে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স। অন্যদিকে ক্রিস গেইলকে কিনতে বরিশালকে গুনতে হয়েছে ৫ লাখ ৩১ হাজার ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২ কোটি টাকা। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছেন তরুণ তুর্কি নাসির হোসেন। আইকন ক্রিকেটারদের নাম নিলামে না থাকলেও তারা পাবেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রিকেটারদের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি বেতন। অর্থাৎ বিপিএলের সর্বোচ্চ পরিশ্রমিক পাচ্ছেন ছয় আইকন ক্রিকেটারই।
পাকিস্তানের অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাককে দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিলামপর্ব শুরু হয়। এ পাক অলরাউন্ডারকে ফ্লোর প্রাইজ ১ লাখ ডলারেই নিজেদের করে নেয় দুরন্ত রাজশাহী; কিন্তু আসল নাটক এরপরই অপেক্ষা করছিল। স্বাভাবিক হিসাব অনুযায়ী দেশীয় ক্রিকেটারদের চেয়ে বিদেশি দুই ক্রিকেটার শহিদ আফ্রিদী ও ক্রিস গেইলকে দলে টানতে রীতিমতো যুদ্ধে নেমে পরে দলগুলো। শেষ অবধি ক্রিস গেইল নামের দানবীয় ক্রিকেটারকে জিতে নেয় বরিশাল। রাজশাহীকে টপকে ৫ লাখ ৫১ হাজার ডলারে দলে নিয়েছে বরিশাল বার্নার্স। তাকে নিতে দুরন্ত রাজশাহীর সঙ্গে 'টাই' হয় বরিশালের। ৫ লাখ ডলারে উভয় দল ঘোষণা করে বিপাকে ফেলে দেয় বিপিএলকে। পরে রাজশাহীর ৫ লাখ ৩১ হাজার ডলারকে টপকে গেইলকে পায় বরিশাল। ১৪ এপ্রিল থেকে গেইলকে বিপিএল টুর্নামেন্টে পাওয়া যাবে। অর্থের ধাক্কায় ক্রিস গেইলকে পেছনে ফেলেছন পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি। তাকে নিয়ে নাটকীয়তা আরো বেশি জমে ওঠে। তাকে নিয়েই সবচেয়ে বড় যুদ্ধে নামে দলগুলো। বরিশাল গেইলকে কেনার পর আফ্রিদির বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। বাকি পাঁচ দলই তার জন্য ৫ লাখ ডলার দর হাঁকে একইসঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ৭ লাখ ডলারে আফ্রিদিকে ঢাকা টাই করে পেয়ে যায়। ১১ এপ্রিল থেকে আফ্রিদিকে পাওয়া যাবে। সিলেট ৫ লাখ ১০ হাজার ডলার, চট্টগ্রাম ৬ লাখ ডলার, রাজশাহী ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার, খুলনা ৬ লাখ ১২ হাজার ডলার হাঁকে আফ্রিদির জন্য। স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হলেন নাসির হোসেন। সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলারে খুলনা কিনে নিয়েছে নাসির হোসেনকে। এ নিলামে ছয় দলের মধ্যে চার দলের আইকন ক্রিকেটাররা উপস্থিত থাকলেও আশরাফুল আর তামিম আইকন ক্রিকেটার হিসেবে নিজ দলে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সব তালিকা শেষ হয়ে যায়। ঢাকা ও চট্টগ্রামই এ সময়ের মধ্যে স্থানীয় ক্রিকেটারের কোটা পূর্ণ করে। তবে নিলামে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় ছিল ভারতীয় ক্রিকেটাররা; কিন্তু বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের বক্তব্য মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। নিলামে কোনো ভারতীয় ক্রিকেটারের নাম তালিকায় ছিল না। প্রথম পর্বের নিলামে মোট ৮৬ জন দেশি আর ৪৬ জন বিদেশি ক্রিকেটার বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশের তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৮৬ ক্রিকেটারের মধ্যে অবিক্রীত রয়েছে ৩৪ জন ক্রিকেটার। আর অবিক্রীত রইলেন তারকা পেসার শাহদাত হোসেন, মিডল অর্ডারের রকিবুল হাসান, মেহেরাব হোসেন জুনিয়র আর নাফীস ইকবাল। বাকি চার দলের বিদেশি বা দেশি কোনো কোটাই পূর্ণ হয়নি। বাধ্য হয়েই কর্তৃপক্ষ আবার দ্বিতীয় দফায় ক্রিকেটারদের নিলাম কার্যক্রম শুরু করে। দ্বিতীয় পর্বে আবারো শুরু হয় নিলাম কার্যক্রম। শেষ পর্যন্ত বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ঘোষণায় শুরু হওয়া নিলামে স্থানীয় ক্রিকেটারদের দিকে খুব বেশি আগ্রহী করতে পারেনি। দ্বিতীয় পর্বে বিক্রীত ক্রিকেটারদের তালিকা ৯৬-তে উনি্নত হয়। বিকাল পর্যন্ত দুই পর্বে অনুষ্ঠিত নিলাম কার্যক্রমে দেশি ক্রিকেটারই বেশি অবহেলিত হয়েছে। সব দলেরই আগ্রহ ছিল বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি।
No comments:
Post a Comment