Tuesday, 31 January 2012

হূতিকের অগ্নিপরীক্ষা

  • অগ্নিপরীক্ষা ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও হূতিক রোশন অগ্নিপরীক্ষা ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও হূতিক রোশন
  • সঞ্জয় দত্ত সঞ্জয় দত্ত
অভিষেক বচ্চন বরাবরই বলে এসেছেন, বাবা অমিতাভ বচ্চন অভিনীত সব ছবির মধ্যে অগ্নিপথ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ছবি। সুযোগ পেলে বিজয় দীননাথ চৌহান চরিত্রে চেষ্টার শেষ বিন্দু দিয়ে কাজ করবেন বচ্চন জুনিয়র। কিন্তু ভাগ্যের লিখন, না যায় খণ্ডন! অভিষেকের বাল্যবন্ধু হূতিক রোশন যেখানে বরাবর পত্রিকা মারফত জানিয়েছিলেন, পুরোনো কোনো ক্ল্যাসিক ছবির রিমেকে তাঁর অরুচি; সেখানে প্রযোজক করন জোহর অভিষেক নয়, হূতিকের কাছেই ছুটে গিয়েছিলেন অগ্নিপথ রিমেকের প্রস্তাব নিয়ে। ভারত থেকে সুদূর স্পেন পর্যন্ত করন গিয়েছিলেন হূতিককে ছবির গল্প শোনাতে। কিন্তু হূতিক তো ’৯০ সালেই অমিতাভ বচ্চনের এ ছবিটি পরপর দুই শোতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো গিলেছিলেন। তাঁর গল্প শোনার প্রয়োজন কী? মনে মনে করনকে ‘না’ বলার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন হূতিক। কষ্ট পাচ্ছিলেন বেচারা করন। এত দূর ভ্রমণ করেছেন শুধু তাঁকে রাজি করানোর জন্য। হূতিক বুঝতে পারেন, ছবির প্লট এক হলেও অমিতাভ বচ্চনের বিজয় দীননাথ চৌহান আর নতুন বিজয় দীননাথ চৌহান সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চরিত্র। এরপর হূতিক শুধু ছবিটি করতে রাজিই হননি, পারিশ্রমিকও এক ধাপে কমিয়ে ফেলেন। প্রযোজক করন জোহরের বাবা প্রয়াত যশ জোহর চেয়েছিলেন করন কোনো একদিন তাঁর এ প্রিয় ছবিটি রিমেক করুক। সেই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা থেকেই হূতিক তাঁর পারিশ্রমিক ছাড় দিয়েছেন। অনেকেই জানেন না, অমিতাভ বচ্চন তাঁর বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে মাত্র তিনবার সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন; যার প্রথম পুরস্কারটি ছিল ’৯০-এ মুক্তি পাওয়া অগ্নিপথ-এর জন্য। বিভিন্ন সময় দর্শকধন্য হলেও বক্স অফিসে কিন্তু সে সময় ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল। অগ্নিপথ-ব্র্যান্ডের পাগল ভক্ত করন জোহরের সহকারী করন মালহোত্রাকে পরিচালকের চেয়ারে বসিয়েছেন করন জোহর। অমিতাভ বচ্চনকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই হূতিকের বিজয় দীননাথকে নতুন ঢঙে উপস্থাপন করেছেন করন। মিঠুন চক্রবর্তীর চরিত্র বাদ দিয়ে নতুন একটি চরিত্র ঋষি কাপুরকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
অগ্নিপথ-এর ট্রেলার মুক্তির পর ইউটিউবে এত হিট পড়েছে, যা সম্প্রতি অন্য কোনো ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। হূতিক রোশন তো বটেই, তবে সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন ‘কাঞ্চা’ সঞ্জয় দত্ত। হূতিক নিজেই বলেন, ‘শুটিং করতে গিয়ে আমি নিজেই সঞ্জু স্যারকে দেখে ভয় পেয়েছি।’ পরিচালক করন মালহোত্রা কাঞ্চাকে দেখতে চেয়েছেন ন্যাড়া মাথার ভ্রুহীন একজন ভয়ংকর মানুষ হিসেবে। কিন্তু সঞ্জয় অন্য ছবির শুটিং থাকায় ন্যাড়া হতে রাজি হননি। বাধ্য হয়েই প্রযোজক করন জোহর এলএ থেকে নকল টাক এনে শুটিং শুরু করেন। কিন্তু অজপাড়াগাঁয়ে শুটিংয়ের সময় অতিরিক্ত গরমে সঞ্জয়ের টাক গলে পড়তে থাকে। বাধ্য হয়েই তৎক্ষণাৎ সঞ্জুবাবা সিদ্ধান্ত নেন, অন্য ছবিগুলোর শুটিং পিছিয়ে দেবেন। মুহূর্তেই মাথা কামিয়ে নতুন রূপে হাজির হন তিনি। হূতিক বলেন, গব্বর সিং, মোগাম্বোর পাশাপাশি আরও একটি নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে—কাঞ্চা। এ ছবির জন্য সঞ্জু স্যারের পুরস্কার সুনিশ্চিত।’
এক যুগ আগে কহো না পেয়ার হ্যায় মুক্তির আগেই মিশন কাশ্মীর ছবিতে সঞ্জয়ের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন হূতিক। তখন থেকেই সঞ্জুবাবাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করেন ডুগ্গু ওরফে হূতিক। তিনি বলেন, ‘রিয়েলিটি শো জাস্ট ড্যান্সের শুটিং শেষ করে গ্রামে গিয়ে ব্যায়াম করার জন্য অত সময় পেতাম না। সঞ্জু স্যারই আমার দুরবস্থা চিন্তা করে সেখানে জিম তৈরি করে দেন। তাঁর নিজের বাবুর্চিদের দিয়ে আমার জন্য স্পেশাল খাবার অর্ডার করেছেন প্রতিদিন। যখন ক্লান্ত হয়ে যেতাম, তখন তাঁকে দেখেই অনুপ্রেরণা পেতাম, পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সেও তাঁর সে কী উদ্যম! অগ্নিপথ-এর ক্লাইমেক্স দৃশ্য ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিনতম দৃশ্য। শরীরের সব কাপড় ছেঁড়া, সারা শরীরে রক্ত, প্রতিদিনই আঘাত পেয়েছি। রক্ত ঝরেছে। এভাবে টানা ২২ দিনে ক্লাইমেক্সের কাজ শেষ করেছি। তবে সঞ্জু স্যার না থাকলে কাজটা আরও কষ্টসাধ্য হতে পারত।’
অগ্নিপথ কোনো প্রেমের গল্প নয়। তবে ছবির নায়িকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে হূতিকের প্রাণশক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। হূতিকের ভাষায়, ‘প্রিয়াঙ্কার “কালী” চরিত্রটি বেশ ছোট। তবে এ চরিত্রেই প্রিয়াঙ্কা সবাইকে কাঁদিয়ে ছাড়বে। আর ক্যাটরিনা কাইফ? ছবির আইটেম গান চিকনি চামেলি তো বাম্পার হিট!’ হূতিক বলেন, ‘অনেকেই বলেছিলেন ক্যাটরিনার সঙ্গে আমারও নাচ করা উচিত। আমিও তা-ই ভেবেছিলাম। কিন্তু মহড়ায় ক্যাটের মুদ্রা দেখে আমি অপলক চেয়ে ছিলাম। বলা যায়, ভয় পেয়েছিলাম। সত্যি বলছি, মাধুরী, অ্যাশ এর পর এই প্রথম কোনো নায়িকাকে দেখে মনে হয়েছে আমি নাচতে পারি না। করন জোহর জানান, ‘চিকনি চামেলি’ সংগীত পরিচালক অজয়-অতুলের মারাঠি ছবি যাত্রার ‘কোম্বাডি পালেলি’ গানের হিন্দি সংস্করণ। ক্যাটরিনা এ গানের জন্য ১০ দিনে টানা আট ঘণ্টা করে মহড়া করেছেন। এরপর ১০ দিনে শুটিং করেছেন। অথচ করনের কাছ থেকে একটি কানাকড়িও নেননি পারিশ্রমিক হিসেবে। করনকে ভালোবেসেই ক্যাট এ ছবিতে কাজ করেছেন। করনও তাঁর প্রতিদান দিয়েছেন ক্যাটকে একটি ফেরারি উপহার দিয়ে।
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আজ মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এ ছবিটি। সবার চোখ এখন অগ্নিপথ-এর দিকে। শুধু সুপারহিট তকমা নয়, অগ্নিপথ হূতিক-করন জোহরকে প্রথমবারের মতো ১০০ কোটির ছবি এনে দেবে—ভবিষ্যদ্বাণী করতে বসেছেন অনেকেই।
[টাইমস অব ইন্ডিয়া, রেডিফ, আইএএনএস, ডিএনএ ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, মুম্বাই মিরর, আইবিএন, বলিউড হাঙ্গামা ডট কম অবলম্বনে]
 রুম্মান রশীদ খান
[বলিউড হাঙ্গামা, আইএমডিবি, রেডিফ, আইবিএন লাইভ, ইন্ডিসিনে অবলম্বনে]

বিজয়রথে 'অগি্নপথ'

ফয়সাল আহমেদ
ঠিক এক যুগ পর ঋতি্বক রোশন আবার টপকে গেলেন সবাইকে। ২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছিল তার ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রথম ছবি 'কহো না পেয়ার হ্যায়'। এর ঠিক আগের সপ্তাহেই [৭ জানুয়ারি] মুক্তি পেয়েছিল আমির খানের 'মেলা'। আর পরের সপ্তাহে [২১ জানুয়ারি] শাহরুখ খানের 'ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি'। দুটোই গিয়েছিল ফ্লপের ঘরে। কিন্তু ব্লকবাস্টার হয়েছিল ডুগ্গুর [ঋতি্বকের ডাকনাম] 'কহো না পেয়ার হ্যায়'। ফলে বলিউড সেদিন নতুন সুপারস্টার পেয়েছিল। ২০১২ সালে এসে জানুয়ারিতে আবার ঋতি্বক-বন্দনা। তার 'অগি্নপথ' প্রথম দিনেই ব্যবসা করেছে ২৩ কোটি রুপি। এটা কী করে সম্ভব? ঈদে ছবি মুক্তি দিয়েও সালমান খানের 'বডিগার্ড' প্রথম দিনে আয় করেছিল ২১ কোটি ৬২ লাখ রুপি। দীপাবলিতে 'রা.ওয়ান' দিয়ে শাহরুখ প্রথম দিনে পকেটে ভরেছিলেন ১৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি। সেখানে কোনো ধরণের উৎসব ছাড়াই বছরের শুরুতে মানুষ যখন ব্যস্ত সময় পার করে, তখন ছবি মুক্তি দিয়ে ঋতি্বক ইতিহাস গড়লেন। 'অগি্নপথ'-এর অগ্রিম টিকিট বিক্রি দেখেই প্রথম দিনের ব্যবসা যে সাফল্যময় হবে তা ভেবেছিলেন বলিউড বিশ্লেষকরা। কিন্তু সেটা যে ২৩ কোটিতে গিয়ে পেঁৗছবে তা ধারণা করতে পারেনি কেউই। বক্স অফিস বিশেষজ্ঞ তরণ আদর্শ বলেন, 'বছরের শুরুতে কোনো ছবি যে ভালো ব্যবসা করতে পারে, তা ঋতি্বক দেখিয়েছিলেন বারো বছর আগে। আর এক যুগ পর তিনি এমন একটা লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করলেন, যা টপকানো বছরের যে কোনো সময়ের জন্যই কঠিন কাজ হবে।'
গত শুক্রবার কর্মব্যস্ত দিনেও ছবিটির আয় ১৮ কোটি রুপি। মোট তিন দিনে এখন পর্যন্ত ছবির আয় দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি। ধারণা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহে এই ছবির আয় ১০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাবে। তাতেই ঋতি্বক ঢুকে পড়বেন খানের রাজ্যে। এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই ঋতি্বক বেশ উচ্ছ্বসিত। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, "ধন্যবাদ সাবইকে। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমের ছবি। আমার পরিশ্রমের মূল্য ভক্তকুল দিয়েছে বলে বেশ আনন্দ হচ্ছে। এখন শান্তিতে 'কৃষ' ছবির কাজ চালিয়ে যেতে পারব।"
এদিকে এই সাফল্যে প্রিয়াংকা চোপড়া খুশি হলেও তা উপভোগ করতে পারছেন না। কারণ অনুরাগ বসু পরিচালিত 'বরফি'র কাজ নিয়ে ব্যস্ত ২৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। 'আমাদের পরিশ্রম সার্থক। কিন্তু কি করবো, ব্যস্ততা ছাড়ছেই না!'
'অগি্নপথ'-এর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যক্তি কাঞ্চা চিনা চরিত্রের অভিনয়শিল্পী সঞ্জয় দত্ত বলেছেন, 'সবাইকে ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করার জন্য।' মজার বিষয় হলো, এতে সঞ্জুবাবাকে এতটাই ভয়ঙ্কর দেখায় যে, তার যমজ সন্তান ছবিটি দেখার সাহস পাচ্ছে না। পর্দার বাইরে বাবাকে এতটা সহিংস রূপে দেখতে মোটেই অভ্যস্ত নয় তারা। তার স্ত্রী মান্যতা দত্তের খুব ভালো লেগেছে 'অগি্নপথ' ও স্বামী সঞ্জয়ের শিহরণ জাগানো অভিনয়। কিন্তু সঞ্জুবাবা নিজে কিন্তু খুব বেশি সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, 'চরিত্রটি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারতো।' অবশ্য ছবি মুক্তির আগে কাঞ্চা চিনাকে গাব্বার সিংয়ের সঙ্গে তুলনা করেন ঋতি্বক। অনেকের মত, 'খলনায়ক' ছবির পর সঞ্জয় দত্তের এটাই একমাত্র ছবি, যা দেখে মানুষ তাকে মন্দ মানুষ ভাবতে পারে!
ছবিটির আইটেম গান 'চিকনি চামেলি'ও সাড়া জাগিয়েছে। এই গানে ক্যাটরিনা কাইফের নাচের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন হাসির ছবির পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া অমিতাভ বচ্চন অভিনীত 'অগি্নপথ'-এর রিমেক এটি। কিন্তু মূল ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। সেদিক থেকেও সফল এই 'অগি্নপথ'। মূল ছবির প্রযোজক ছিলেন করন জোহরের বাবা যশ জোহর। করণ জোহরও ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, 'আমি দারুণ খুশি। কারণ আমি বাবার স্বপ্নকে সত্যি করতে পেরেছি।' একটি কালজয়ী ছবিকে নতুনভাবে গড়া কঠিন কাজ। পরিচালক করন মালহোত্রা, ঋতি্বক, প্রিয়াংকা ও সঞ্জয় দত্ত মিলে সেই কঠিন কাজই করেছেন। অথচ করনের একটা দুশ্চিন্তা ছিল ছবির দৈর্ঘ্য নিয়ে। 'বডিগার্ড' এবং 'রা.ওয়ান'-এর চেয়ে অনেক লম্বা এটি। এ কারণে সব প্রেক্ষাগৃহে দিনের প্রদর্শনীর সংখ্যা একটি করে কমাতে হয়েছে। তারপরও যে ছবিটি এতটা ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে, তা ভাবতেই পারছেন না অনেকে। এ-ও ভাবা হচ্ছে, 'অগি্নপথ'ই ঋতি্বকের বৃহত্তম হিট হতে যাচ্ছে কি-না। এর আগে 'জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা' ব্যবসা করেছিল ৯০ কোটি রুপি।
বিজয় দীনানাথ চৌহানের চরিত্রে বিগ বির স্থানে 'অগি্নপথ'-এ ঋতি্বকের অভিনয় নিয়ে এখন তুলনার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, ঋতি্বকই এই চরিত্রে ভালো করেছেন। কিন্তু এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'বিগ বির সঙ্গে আমাকে তুলনা করা মোটেও ঠিক নয়।
তিনি অনেক উঁচুমাপের অভিনেতা। আমার ইচ্ছা ছিল ছবিটি প্রথমে তাকেই দেখানোর কিন্তু তার ব্যস্ততার কারণে সেটা পারিনি। তবে আশা করব, তিনি ছবিটি দেখবেন এবং পর্যালোচনা করবেন। তার সমালোচনা শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।'
এদিকে ২৬ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া 'অগি্নপথ' দেখে বলিউড তারকাদের বেশিরভাগই ফিদা! শিল্পা শেঠি টুইটারে মাত্র দুটি শব্দ লিখেছেন, 'পয়সা উসুল।' তার স্বামী রাজ কুন্দ্রও মুগ্ধ। এ ছাড়া অর্জুন রামপাল, রনবীর সিং, জায়েদ খান, মাধবন, আরবাজ খান, দিনো মোরেয়া, আলী জাফর, পরিচালক কুনাল কোহলিসহ অনেকেই টুইটারে ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রীতি জিনতা তার ব্লগে লিখেছেন, 'দারুণ একটা ছবি দেখলাম অনেকদিন পর। সবচেয়ে মজার কথা বলেছেন গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। তিনি লিখেছেন_ 'অগি্নপথ' দারুণ একটা মসলা। চালিয়ে যাও!' হ

টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির সংখ্যা ৩১৩

  • স্যার ডন ব্র্যাডম্যান স্যার ডন ব্র্যাডম্যান
  • বিল মারডক বিল মারডক
  • জাভেদ মিয়াঁদাদ জাভেদ মিয়াঁদাদ
  • নাথান অ্যাস্টল নাথান অ্যাস্টল
  • ব্রায়ান লারা ব্রায়ান লারা
 টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির সংখ্যা ৩১৩। করেছেন ১৬৭ জন ব্যাটসম্যান।
 অভিষেকেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন পাঁচ জন—‘টিপ’ ফস্টার, লরেন্স রো, ব্রেন্ডন কুরুপ্পু, ম্যাথু সিনক্লেয়ার ও জ্যাক রুডলফ।
 সবচেয়ে বেশি, ৬৫টি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা।
 সবচেয়ে বেশি, ৬২টি ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
 এক বছরে সবচেয়ে বেশি ১৪টি ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে।
 টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়ার বিল মারডকের। ১৮৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালে করেছিলেন ২১১ রান।
 সবচেয়ে কম বয়সে ডাবল সেঞ্চুরির কৃতিত্ব জাভেদ মিয়াঁদাদের (১৯ বছর ১৪১ দিন)।
 দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরিটি নাথান অ্যাস্টলের। ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন ১৫৩ বলে। সময়ের হিসেবে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি ব্র্যাডম্যানের (২১৪ মিনিট)।
 সবচেয়ে বেশি বয়সে (৪২ বছর ৭ দিন) ডাবল সেঞ্চুরি করার রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার এরিক রোয়ানের (২৩৬, ১৯৫১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলিতে)।
 সবচেয়ে বেশি, ১৯টি ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে অ্যাডিলেড ওভালে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮টি ওভালে।
 সবচেয়ে ধীরগতির ডাবল সেঞ্চুরিটি শ্রীলঙ্কার ব্রেন্ডন কুরুপ্পুর। ৭৭৭ মিনিট উইকেটে থেকে ৫৪৮ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সেটিও অভিষেকেই।
 টানা দুই ম্যাচে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব আছে ব্র্যাডম্যান, হ্যামন্ড, কাম্বলি, স্মিথ, পন্টিং ও সাঙ্গাকারার।
 ১৯৩৮ সালের অ্যাশেজ দেখেছিল এক সিরিজে সবচেয়ে বেশি, ৫টি ডাবল সেঞ্চুরি।

সবচেয়ে বেশি
স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ১২
ব্রায়ান লারা ৯
কুমার সাঙ্গাকারা ৮
ওয়ালি হ্যামন্ড ৭
৬ টি করে ডাবল সেঞ্চুরি আছে আতাপাত্তু, শেবাগ, মিয়াঁদাদ, মাহেলা জয়াবর্ধনে, পন্টিং ও টেন্ডুলকারের।

ব্রায়ান লারা শচীন টেন্ডুলকার রিকি পন্টিং -কে সেরা?

  • ব্রায়ান লারা    শচীন টেন্ডুলকার     রিকি পন্টিং ব্রায়ান লারা শচীন টেন্ডুলকার রিকি পন্টিং
  • ইয়ান চ্যাপেল ইয়ান চ্যাপেল
1 2
টেন্ডুলকার ও লারাকে নিয়ে তর্ক হতো। পন্টিং থাকতেন একটু আড়ালে। বাজে সময় কাটিয়ে পন্টিংয়ের স্বরূপে ফেরা আধুনিক তিন ব্যাটিং গ্রেটের মধ্যে কে সেরা—এই আলোচনায় নতুন রসদ জুগিয়েছে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল ক্রিকইনফোতে লেখা তাঁর কলামে খুঁজেছেন এই প্রশ্নের উত্তর

গত কয়েক মাসে রিকি পন্টিংয়ের অসাধারণ পুনর্জাগরণ শীর্ষবিন্দু ছুঁয়েছে অ্যাডিলেড ওভালের লড়াকু ডাবল সেঞ্চুরিতে। সম্ভাব্য অবসর থেকে মোড় পাল্টে আলোচনা এখন খেলাটায় পন্টিংয়ের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে।
যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিন ব্যাটসম্যান হিসেবে শচীন টেন্ডুলকার ও ব্রায়ান লারার সঙ্গে যে রিকি পন্টিংকেই রাখা উচিত, এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে দুর্দান্ত এই তিন স্ট্রোকমেকারের মধ্যে সেরা কে?
টেন্ডুলকারের পক্ষে অনেক যুক্তির কারণ, এক শ কোটির বেশি লোকের এক দেশে নিজেকে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে ও, স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান নিজে টেন্ডুলকারকে তাঁর সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এটি অসাধারণ এক কৃতিত্ব, যা ওর দক্ষতা ও স্থায়িত্বের পরিচায়ক।
পন্টিংয়ের পক্ষে যুক্তি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওর বৈচিত্র্য এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই চালানোর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। সব সময়ই প্রতিপক্ষের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে ব্যাটিং করতে চেয়েছে ও, আবার টেস্ট বাঁচাতে সর্বকালের সেরা ইনিংসগুলোর একটি খেলেছে ২০০৫ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখে কখনো মুখ লুকায়নি পন্টিং, বয়সের সঙ্গে ওর সাম্প্রতিক লড়াই যেটির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। নান্দনিকতায় পন্টিং হয়তো টেন্ডুলকারের পেছনে থাকবে, কিন্তু অধ্যবসায়ে ও কারও চেয়েই পিছিয়ে থাকবে না।
চোখের আড়াল মানেই মনের আড়াল—এটার ধ্রুপদি উদাহরণ অবসরে যাওয়া ব্রায়ান লারা এখন আর সেভাবে আলোচনায় আসে না। ওকে আলোচনার বাইরে রাখা ঠিক নয়। হারিয়ে যাওয়া রেকর্ড আবার নিজের করে নিয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখনো তাঁর এবং টেস্ট ক্রিকেটে ‘বড়’ সেঞ্চুরির দিক থেকে ও আছে ঠিক ব্র্যাডম্যানের পরই। টেস্ট ক্রিকেটে ৪০০ রানের একমাত্র ইনিংসের সঙ্গে একটি ট্রিপল ও সাতটি ডাবল সেঞ্চুরি। বড় রানের অসাধারণ কৃতিত্ব এই রেকর্ড, আরও যদি ভাবা যায়, টেন্ডুলকার বা পন্টিংয়ের কারও ট্রিপল সেঞ্চুরি নেই।
বড় ইনিংস কীভাবে গড়তে হয়—এই ক্ষেত্রে লারা বাকি দুজনের চেয়ে এগিয়ে। দ্রুত রান করতে কোন বোলারকে টার্গেট করতে হবে আর কোন বোলার তার জন্য বিপজ্জনক—এটা বোঝার একটা সহজাত ক্ষমতা ছিল লারার। এভাবেই হঠাৎই ও দারুণ দ্রুতগতিতে রান করত, বাকি সময়টায় ধীরে-সুস্থে। নিজের সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগে ও বিশাল সব ইনিংস খেলত। সেরা বোলাররা তরতাজা থাকার সময় তাদের বিপক্ষে দ্রুত রান করার ঝুঁকি ও নিত না, কিন্তু সুযোগমতো দ্রুত রান করে রানরেটের দ্রুতগতি ঠিকই ধরে রাখত।
এই ব্যাটিংয়ের জন্যই ও ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই গতিতে ব্যাটিং করে যেতে পেরেছে, যেটা এমনকি ব্র্যাডম্যানও পারেননি। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়ার ১০ বছর পর আবার সেটা ছিনিয়ে নেওয়ার অনন্যসাধারণ কীর্তি লারা এ জন্যই গড়তে পেরেছে।
ক্রিকেট-বিশ্ব যখন টেন্ডুলকারের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির অপেক্ষায়, পন্টিং তখন নীরবে আড়াল থেকে স্বরূপে ফিরেছে। কঠোর পরিশ্রম করে ও স্বরূপে ফিরেছে। অ্যাডিলেডে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওকে আরও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে এবং ইনিংসটাকে ডাবল সেঞ্চুরি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ায় ‘কখন অবসর নেবে’ থেকে আলোচনাটা এখন ‘কত দিন খেলে যাবে?’
কোনো সন্দেহ নেই, পন্টিং নতুনভাবে শুরু করতে পেরেছে এবং ওর ঝলমলে ক্যারিয়ারে আরও অনেক কিছুই যোগ হবে। পরিসংখ্যানের পাতায় পন্টিং টেন্ডুলকারকে কখনোই ছুঁতে পারবে না, কিন্তু আলোচিত সেঞ্চুরিটা নিয়ে টেন্ডুলকার যখন বারবার হোঁচট খাচ্ছে, মূলত মানসিক অস্থিরতার কারণে, পন্টিং তখন মুগ্ধতা ছড়িয়েছে মানসিক শক্তিতে।
যা-ই হোক, আমাকে যদি তিনজনের মধ্যে একজন বেছে নিতে বলা হয়, আমি নেব লারাকেই। স্পিন বোলিংটা ও যেভাবে খেলত, সেটা আমি ভীষণ পছন্দ করতাম। শ্রদ্ধা করতাম সবকিছুই ওর নিজের মতো করে করার সাহসকেও।

‘বিশ্বকাপের পরই শচীনের অবসরে যাওয়া উচিত ছিল’

ইমরান খান ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েই। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচটিই ছিল ইমরান খানের শেষ ক্রিকেট ম্যাচ। এরপর আর একদিনের জন্যও ক্রিকেট ব্যাট-বল ছুঁয়ে দেখেননি তিনি।
শচীন টেন্ডুলকারেরও এমনই করা উচিত ছিল বলে মনে করেন সেই ইমরান খান। তাঁর মতে, ভারত যেদিন বিশ্বকাপ জিতল, সেদিনই শচীনের ক্রিকেটকে ‘বিদায়’ বলে দেওয়া উচিত ছিল।
একজন ক্রিকেটার কখন ক্রিকেটকে বিদায় জানাবে, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর নিজের বলে বর্ণনা করলেও সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক সময়ে নেওয়াটা জরুরি বলে মত দিয়েছেন এই ক্রিকেট গ্রেট।
ইমরান খান বলেন, শচীন বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলেছিল। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে ওর অবদান অস্বীকার করা যায় না। শচীনের উচিত ছিল ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর জন্য ওই সময়টাকেই বেছে নেওয়া। বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে বড় অর্জন একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে আর কী হতে পারে? শচীনের উচিত হয়নি, ওর গ্রেট ক্যারিয়ারটা ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটো ৪-০ হোয়াইটওয়াশের মধ্যে ফেলে দেওয়া।
দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলে বিদায় বেলার সিদ্ধান্তটা ঠিকমতো নেওয়াকে চ্যালেঞ্জই মানেন ইমরান খান। অনেক ভালো ক্রিকেটারই অতীতে অবসরের সিদ্ধান্ত ঠিকমতো নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শচীন টেন্ডুলকার শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিটি পেতে গিয়েও পাচ্ছেন না—ব্যাপারটি নিয়ে একেবারেই মাথাব্যথা নেই ইমরান খানের। তিনি বলেন, একজন গ্রেট খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান কোনো কিছু নির্দেশ করে না। শচীন একজন গ্রেট ব্যাপারটি অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত। সে ১০০টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করতে পারল কি পারল না, এতে কিছুই প্রমাণিত হয় না। পিটিআই।

টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়তে প্রস্তুত ধোনি

চারদিকে কেবল সমালোচনা। অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট সিরিজে ভারতীয় দল ‘ধবলধোলাই’ হওয়ার পর জোর দাবি উঠেছে, মহেন্দ্র সিং ধোনির টেস্ট অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া হোক। গণমাধ্যমেও জোর গুঞ্জন—টেস্ট অধিনায়কত্ব হারাতে চলেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এ পরিস্থিতি ধোনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছাড়তে প্রস্তুত তিনি।
কাল বুধবার মাঠে গড়াবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এই ম্যাচকে সামনে রেখে আজ ধোনি সাংবাদিকদের বলেন, এটি (অধিনায়কত্ব) কারও একার নয়। এই পদ দায়িত্ব বাড়ায়। যতক্ষণ এই দায়িত্বে আছি, ততক্ষণ ভালো করতে চাই আমি। তবে আমি এই পদ আঁঁকড়ে রাখতে চাই না। আমার চেয়ে যদি ভালো কেউ থাকেন, তিনি আসতে পারেন।’
ধোনি বলেন, ‘সবাই চায়, ভারত ভালো খেলুক। যদি ভালো করার মতো কেউ থাকে, নেতৃত্ব তাঁকেই দেওয়া উচিত।’
টেস্ট সিরিজ চলার সময় ধোনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ২০১৩ সালের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেট ছাড়তে পারেন তিনি। তবে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলবেন। এ প্রসঙ্গে ধোনি এখন বলছেন, ‘২০১৩ সাল শেষ হতে প্রায় দুই বছর বাকি। এত দিন বাঁচব কি না, এটাই জানি না। এর মধ্যে আইপিএল, চ্যাম্পিয়নস লিগ, অনেক সিরিজ থাকবে। আগে-ভাগেই সূচি নির্ধারণ করে দেওয়া সম্ভব নয়।’ ওয়েবসাইট।

ওয়েব গাইড

বিনা মূল্যে ই-মেইল ঠিকানা
এখন অধিকাংশ চাকরির আবেদন করার জন্যই ই-মেইল ঠিকানা থাকতে হয়। এমনকি ফেসবুক থেকে শুরু করে যেকোনো ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে চাইলেও একটি ই-মেইল ঠিকানা লাগেই। আইডি প্রয়োজন হয়। যাঁদের এখনো নিজস্ব কোনো ই-মেইল ঠিকানা নেই, তাঁরা খুব সহজেই এটি করে নিতে পারেন একেবারে বিনা মূল্যে। তেমন কিছু ওয়েবসাইটের ঠিকানা—
জিমেইল www.gmail.com
ইয়াহু মেইল www.mailyahoo.com
উইন্ডোজ লাইভ/হটমেইল www.hotmail.com
ইনবক্স মেইল www.inbox.com
মেইল www.mail.com
জোহো মেইল www.zoho.com/mail
জিএমএক্স মেইল www.gmx.com
আই ক্লাউড মেইল www.icloud.com (শুধু আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য)

Sunday, 29 January 2012

টেস্ট অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন ধোনি

কদিন আগেই মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ওয়ানডে বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছে ভারত। ২০০৭ সালে এই ধোনিই ভারতকে উপহার দিয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তাঁর নেতৃত্বে টেস্ট ফরম্যাটেও শীর্ষ দলের মর্যাদা ভারতের হাতের মুঠোয় এসেছিল। কিন্তু সেই ধোনিকেই ক্রমাগত ব্যর্থতার রেশ ধরে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেট থিংক-ট্যাংকের বড্ড অসহ্য ঠেকছে।
ভারতীয় ক্রিকেটের কর্তাব্যক্তিদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। বিদেশের মাটিতে পর পর আটটি টেস্টে শোচনীয় হারের পর কোনো দলে অধিনায়কের পক্ষে যুক্তিতর্ক খুব একটা বেশি থাকে না। ধোনির পক্ষেও নেই। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ধবলধোলাই হওয়ার পর বিসিসিআই মোটামুটি সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছে—ধোনিকে সরে যেতে হবে। তবে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাবেন দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো দ্বিতীয় এই ভারতীয় অধিনায়ক।
ভারতের অন্যতম শীর্ষ সংবাদপত্র ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক খবরে বলা হয়েছে, আপাতত টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে ধোনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বীরেন্দর শেবাগ।
এদিকে, লক্ষ্মণ ও দ্রাবিড়ের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের ক্রমাগত ব্যর্থতা ভাবিয়ে তুলেছে কর্তাব্যক্তিদের। যদিও এই দুই ক্রিকেটার বলেছেন, আপাতত ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই। তবে এদের ভবিষ্যত্ যে খুব একটা উজ্জ্বল নয়, সেটা একপ্রকার বলে দেওয়াই যায়। নির্বাচকেরা যদি এই দুই ক্রিকেটারকে পরের সিরিজগুলোতে দলে না ডাকেন, সে ক্ষেত্রে তাঁদের করণীয় থাকবে না কিছুই। ভারতীয় ক্রিকেটের ওপরমহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা নাকি খুবই সোচ্চার।

ব্যাপক পরিবর্তন দরকার: সৌরভ

ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী অস্ট্রেলিয়া সফরের শোচনীয় ব্যর্থতার পর দলে ব্যাপক পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দল যদি এভাবে একের পর এক টেস্টে হারতে থাকে, তাহলে দলে পরিবর্তন আনা ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা আছে কি না, আমি জানি না।’
অস্ট্রেলিয়ায় ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে দলকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে সৌরভের। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর বিশ্লেষণ, ‘ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।’ তবে দলের প্রতি তাঁর আহ্বান, এই ব্যর্থতায় তারা যেন নিজেদের হারিয়ে না বসে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে সবগুলো টেস্টেই ভারতের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল বলে মনে করেন সৌরভ। তিনি বলেন, প্রতিটি টেস্টে বেশ কয়েকবার ভারতের সামনে সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগগুলো দল কাজে লাগাতে পারেনি। সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে হয়তো সিরিজের ফলাফল অন্য রকম হতে পারত।
সৌরভ গাঙ্গুলী আরও বলেন, এই সিরিজে মেলবোর্ন টেস্টে ভারত জয়ের মতো জায়গায় ছিল। সেই টেস্ট জিতে গেলে ফল এত খারাপ না-ও হতে পারত।
ধোনির প্রতি সমালোচনামুখর সৌরভ গাঙ্গুলী। সৌরভ বলেন, ধোনি অস্ট্রেলিয়ায় একেবারেই পারফর্ম করতে পারেননি। অধিনায়ককে অবশ্যই পারফর্ম করতে হবে। অধিনায়কত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ধোনিকে অবশ্যই নিজের পারফরম্যান্সে উন্নতি ঘটাতে হবে। অধিনায়ক যখন নিজে আত্মসমর্পণ করেন, তখন এর প্রভাব দলের ওপরও পড়ে।
ভারতীয় পেসারদের মধ্যে ইশান্ত শর্মার ব্যাপারে বেশ সমালোচনামুখর গাঙ্গুলী। তিনি বলেন, টেস্টে উইকেট কীভাবে পেতে হয়, সেটা খুব দ্রুতই ইশান্তকে শিখতে হবে।
কোচ ডানকান ফ্লেচারকে উদ্দেশ করে সৌরভ বলেছেন, ‘আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে ভারতের কোচ হিসেবে আপনি যোগ্য।’
দীর্ঘ সফরে খেলোয়াড়দের স্ত্রীদের তাঁদের খেলোয়াড় স্বামীদের সঙ্গে ভ্রমণের ব্যাপারটিও তুলেছেন সৌরভ। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে পরিবার সঙ্গে থাকলে উপকার পাওয়া যায়।’ ওয়েবসাইট।

Saturday, 28 January 2012

নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ সুপার হিরো

হুমায়ূন আহমেদ হুমায়ূন আহমেদ
হিরো একটি পশ্চিমা কনসেপ্ট। এদের কমিক বইয়ে হিরো আছে (ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যান, সুপারম্যান), বাস্তবেও আছে।
আমাদের তেমন কিছু নেই। মাঝেমধ্যে এক-আধজনকে পাওয়া যায়— ভাঙা রেললাইনের সামনে গামছা নিয়ে দাঁড়িয়ে ট্রেন থামায়। অনেকের জীবন রক্ষা করে। আমরা কিছুদিন তাকে নিয়ে হইচই করে ব্যাক টু দ্যা প্যাভিলিয়ন। উল্টো ব্যাপারও আছে, পুরো ট্রেন জ্বালিয়ে দেওয়া।
পশ্চিমা একজন হিরোর গল্প দিয়ে আজকের লেখা শুরু করছি। তার নাম টেরি ফক্স। কানাডার এক যুবক। মাত্র বাইশ বছর বয়সে ভয়াবহ ক্যানসার (osteosarcoma) তাকে আক্রমণ করল। তার একটি পা কেটে ফেলে দিতে হলো। টেরি ফক্স হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভাবলেন, ক্যানসার গবেষণার জন্যে আরও অর্থ প্রয়োজন। তিনি ঘোষণা করলেন, এক পা নিয়েই তিনি কানাডার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দৌড়ে ক্যানসারের জন্যে অর্থ সংগ্রহ করবেন।
আটলান্টিক সমুদ্রে পা ডুবিয়ে তিনি দৌড় শুরু করলেন। তত দিনে একটা নকল পা লাগানো হয়েছে। এক শ তেতাল্লিশ দিন পর্যন্ত তিনি নকল পায়ে দৌড়ালেন। ৩,৩৩১ মাইল অতিক্রম করে তাকে থামতে হলো। কারণ ক্যানসার তখন ফুসফুস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র তেইশ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তিনি ক্যানসার রিসার্চের জন্যে রেখে গেলেন সংগ্রহ করা এক শ মিলিয়ন ডলার। এখন সংগ্রহ পাঁচ শ মিলিয়ন ছেড়ে গেছে।
ক্যানসার রিসার্চের অর্থ সংগ্রহের জন্যে বিশ্বজুড়েই টেরি ফক্স ম্যারাথন হয়। পঁচিশতম ম্যারাথনে পৃথিবীর তিন মিলিয়ন মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। আমার যতদূর মনে পড়ে, বাংলাদেশেও এই ম্যারাথন হয়েছে।
ক্যানসার হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্রের জন্যে আমরা অর্থ সংগ্রহে নামতে যাচ্ছি। আমাদের গুরু অবশ্যই টেরি ফক্স।
আমি টেকনাফে বঙ্গোপসাগরে পা ডুবিয়ে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত যাব। আমার পক্ষে দৌড়ানো সম্ভব না। কারণ শিশুপুত্র আমার দুই পা চেপে ধরে থাকবে। এরা পা চেপে ধরায় ওস্তাদ। আমি পরিবার ছাড়া এক দিনও একা থাকতে পারি না। আমার সঙ্গে আমার দুই শিশুপুত্র এবং তাদের মা থাকবে। আমরা প্রতীকী অর্থে মাঝে মাঝে দৌড়াব। বাকিটা গাড়িতে। এই আনন্দযাত্রায় সবাইকে আমন্ত্রণ।
ক্যানসার ইনস্টিটিউটের জন্যে আমি যে সাড়া পেয়েছি তাতে আমার মনে হয়েছে আমার মানবজীবন ধন্য। কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।
অভিনেতা রহমত (নয় নম্বর বিপদ সংকেত) আমাকে জানিয়েছেন রাজশাহীতে তাঁর পাঁচ বিঘা জমি দিতে চান। যদি ক্যানসার ইনস্টিটিউট ঢাকায় হয় তাহলে তিনি তাঁর সঞ্চিত পাঁচ লাখ টাকা দিতে চান। এর বেশি তাঁর আর নেই। থাকলে তাও দিতেন।
নিউইয়র্কের বাঙালি ডাক্তার নাহরিন মামুন জানিয়েছেন ঢাকায় তাঁর জমি আছে। পুরোটাই তিনি ক্যানসার ইনস্টিটিউটকে দিয়ে দিতে চান। আমি যখন বলব তখন।
জেনেভা থেকে আনজু ফেরদৌসী জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয় ১০ হাজার ডলার শুরুতে দিতে চান। এক্ষুনি দিতে চান। পরে যদি কিছু খরচ হয়ে যায়।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আমেরিকার প্রধান প্রধান হাসপাতালে বাংলাদেশের ডাক্তার সন্তানরা প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করে যাচ্ছেন।
পৃথিবীর সেরা অনকোলজিস্টের অনেকেই বাংলাদেশি। একজন অনকোলজিস্ট রথীন্দ্রনাথ বসু ওভারিয়ান ক্যানসারে যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন।
এঁরা সবাই বাংলাদেশের ক্যানসার ইনস্টিটিউটের জন্যে যা করণীয় তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অনলাইনে দেখলাম, ২৫০ জন নিজেদের ভিক্ষুক ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা অর্থ সংগ্রহের জন্যে ভিক্ষার থালা নিয়ে পথে বের হবেন।
আর হিমুর দল তো হলুদ পাঞ্জাবি পরে তৈরি হয়েই আছে। তারা নাচুনি বুড়ি। ঢোলের বাদ্যের অপেক্ষা।
কনফুসিয়াসের বিখ্যাত বাণী সবাইকে মনে করিয়ে দেই। ‘আ জার্নি অব আ থাউজ্যান্ড মাইলস বিগিনস উইথ আ সিংগল স্টেপ’। আমরা কিন্তু প্রথম ‘স্টেপ’ নিয়ে নিয়েছি।
আল্লাহপাক বলেছেন, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করবে হিংসামুক্ত অবস্থায়।
আমাদের ক্যানসার হাসপাতালে একই অবস্থা। তবে হিংসা না, সবাইকে প্রবেশ করতে হবে রাজনীতিমুক্ত অবস্থায়। ডাক্তাররা আওয়ামী লীগ, বিএনপি করবেন, ইলেকশন হবে, মারামারি হবে—তা কখনো না।
পৃথিবীর কোথাও আমি ছাত্রদের এবং শিক্ষকদের রাজনৈতিক দল করতে দেখিনি। এই অর্থহীন মূর্খামি বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যাপার। এই মূর্খদের মধ্যে আমিও ছিলাম। ড. আহমদ শরীফ এবং অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অতি শ্রদ্ধেয় দুজন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাদা দলে ইলেকশন করেছি। এখন নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হয়। মূর্খ মনে হয়। আমাদের ক্যানসার ইনস্টিটিউটে মূর্খদের প্রবেশাধিকার নেই।
বিশ্বমানের গবেষণা শুরুতেই আমাদের ইনস্টিটিউটের পক্ষে সম্ভব হবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। তবে সারা বিশ্বের ক্যানসারের ওপর গবেষণার ফলাফল তারা ব্যবহার করতে পারবেন।
বিদেশি ডাক্তারদের প্রতি আমাদের এক ধরনের মোহ আছে। মোহভঙ্গের সময় এসেছে। বাংলাদেশের সেরা অনকোলজিস্টরা ইনস্টিটিউট চালাবেন। একটি আমেরিকান হাসপাতালে সর্বাধুনিক যেসব যন্ত্রপাতি থাকবে তার সবই থাকবে আমাদের ইনস্টিটিউটে। যন্ত্রপাতি দেখাশোনা এবং পরিচালনার জন্যে দক্ষ শক্তিশালী টিম থাকবে। বর্তমান চিকিৎসা অতিমাত্রায় যন্ত্রনির্ভর।
দামি যন্ত্রপাতি কেনার বাংলাদেশি স্টাইলে আমরা যাব না। কোনো টেন্ডার না। ইনস্টিটিউট ঠিক করবে তার কী যন্ত্র দরকার। তারা সরাসরি কিনবে।
বাংলাদেশি স্টাইল হলো—প্রথমে টেন্ডার ডাকা হবে। ক্ষমতাসীন দল এবং তাদের পোষা ছাত্র দল ঝাঁপিয়ে পড়বে। টেন্ডার হয়ে যাবে। এখন বিদেশ ভ্রমণ পালা। নানান টিম আলাদা আলাদাভাবে যন্ত্র কেনা এবং তার প্রয়োগ জানতে বিদেশ ভ্রমণ করবে। সবশেষে যাবেন মন্ত্রী মহোদয় (স্ত্রী এবং শ্যালিকাসহ)।
যন্ত্র কেনার পর সবার আগ্রহ শেষ হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরে যন্ত্র পড়ে থাকবে দিনের পর দিন। কেউ ছুটিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে না। ছুটানোর দায়িত্ব কার এই নিয়ে জটিলতা। যন্ত্র ছোটানোতে আর মালকড়ি পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।
এক সময় যন্ত্র ছাড় করা হবে। যন্ত্র বসাতে লাগবে প্রায় এক বছর। তত দিনে যন্ত্র বেঁকে বসেছে। এটা একটা সুসংবাদ, কারণ যন্ত্র কেন কাজ করছে না এটা জানার জন্যে বেশ কিছু দল আবার বিদেশ সফর করবে। স্ত্রী-শ্যালিকাসহ মন্ত্রী মহোদয় আবারও যাবেন।
পাদটীকা
বাংলাদেশের একজন রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্যে আমেরিকায় এসেছেন। নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি সেরা ডাক্তারকে দিয়ে চিকিৎসা করাবেন। তাঁর রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বিভাগীয় প্রধান রোগী দেখতে এসে বললেন, আপনার কী কী সমস্যা আমাকে বলবেন?
রোগী চোখ কপালে তুলে বললেন, আপনি বাংলাদেশি নাকি?
হ্যাঁ। আমার বাড়ি চিটাগাং।
রোগী থমথমে গলায় বললেন, এত টাকা-পয়সা খরচ করে আমেরিকায় এসে আমি বাংলাদেশি ডাক্তারের চিকিৎসা নিব না। আমেরিকান ডাক্তার লাগবে। বাংলাদেশি দিয়ে চলবে না।

একটা ব্যাপার আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা যখন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়েছি, তখন পশ্চিমারা বাঁদরের চেয়ে সামান্য ওপরে অবস্থান করছিল।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের শুরুটা আমরা করেছি। চৈনিক ও আরবদের অবস্থান আমাদের নিচে। পাঁচ হাজার বছর আগে আমাদের সার্জনরা প্লাস্টিক সার্জারি করতেন।
কর্কট রোগ (ক্যানসার) সম্পর্কে পাঁচ হাজার বছর আগের ভারতীয় চিকিৎসকেরা নিদান দিয়ে গেছেন। শূন্য এবং অসীম—এই দুই সংখ্যা আমাদের আবিষ্কার।
আমাদের সবার উচিত শৈশবের একটি কবিতা নতুন করে পড়া—
‘আমরা যদি না জাগি মা
কেমনে সকাল হবে?’

গৌরীর প্রেমে শাহরুখ


আজ আনন্দ ডেস্ক
প্রিয়াঙ্কা আর শাহরুখের সম্পর্ক নিয়ে এ মুহূর্তে যতই জল্পনা-কল্পনা থাকুক না কেন নিন্দুকদের মুখে চুনকালি দিলেন কিং খান নিজেই। বিদেশের মাটিতে একটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে দুজনের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি এবং সেখানে একসঙ্গে পারফর্ম করার বিষয়টি যারা দেখেছেন তারা অন্তত এমনটাই মানছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সূত্রে এ অনুষ্ঠানে শাহরুখ গৌরীকে তার সঙ্গে নাচার জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। গৌরীও ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মঞ্চে শারুখের সঙ্গে ব্যালে নাচে অংশ নেন। এ জুটির চমৎকার রসায়ন দিয়েই নিন্দুকদের বুঝিয়ে দিলেন এখনো তারা একে অপরকে ভালোবাসেন। সেখানে কোনো দ্বিতীয় ব্যক্তির অধিকার নেই। এ ঘটনার পর নিন্দুকরাও বলছেন, শাহরুখ এমন এক ব্যক্তি যিনি ভালো করেই জানেন কখন কথা না বলেও নিন্দুকের জবাব দেওয়া যায়। কয়েকদিন ধরেই শাহরুখ ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে গুজব ওঠে। তারা শুধু রুপালি পর্দায়ই প্রেমিক-প্রেমিকা নয়_ বাইরেও তাদের মধ্যে গোপন একটা সম্পর্ক আছে।

আইফেল টাওয়ার : লজ্জা থেকে অহঙ্কারের ১২৫ বছর

যাযাদি ডেস্ক ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত আইফেল টাওয়ারকে কি ধাতব কবিতা বলা যায়? না বলে উপায়ই বা কি? অথচ ধাতুর এই খাঁচা তৈরির সময় তার কদরই বোঝেনি প্যারিসের মানুষ। অথচ আজ আইফেল টাওয়ার প্যারিস শহরের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে গোটা বিশ্বে পরিচিত। এই টাওয়ারটিই বৃহস্পতিবার অহঙ্কারের ১২৫ বছর পূর্ণ করল। ১৮৮৭ সালের ২৬ জানুয়ারি আইফেল টাওয়ার চালু হয়েছিল। শহরের মানুষ তখন বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, প্যারিসের সৌন্দর্যই এতে নষ্ট হয়ে গেল। বিশিষ্ট জনরা গর্জে উঠেছিলেন, 'এ যেন এক দৈত্য_ শহরের লজ্জা'। এমনকি কমিটি গড়ে রীতিমতো 'আইফেল টাওয়ার হটাও' আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফরাসি সেনাবাহিনী নাৎসিদের অপব্যবহার রুখতে টাওয়ারের অংশ বিশেষ ভেঙে ফেলার কথা ভেবেছিল। তারপর হিটলার স্বয়ং আইফেল টাওয়ার ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদিও তার সেই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছিল। এমন অবস্থা হয়েছিল ২০১০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন বোমা হামলার আশঙ্কায় আইফেল টাওয়ার দর্শকদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোনো বোমা পাওয়া না যাওয়ার পরদিন আবারো তা খুলে দেয়া হয়। ফরাসি বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সে সময় শহরে বসেছিল আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আসর। এই ঘটনাকে স্মরণীয় করে তুলতে গড়ে তোলা হয়েছিল এই টাওয়ার। ১৮৮৭ থেকে ১৮৮৯_ দুই বছর লেগেছিল টাওয়ারটি তৈরি করতে। এত কা- করে তৈরি করে চট করে আবার তা খুলে না নিয়ে পরিকল্পনা ছিল, মেলা শেষ হওয়ার ২০ বছর পর সেটি আবার খুলে নেয়া হবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর কার্যকর হয়নি। কারণ ততদিনে আইফেল টাওয়ারের খ্যাতি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দলে দলে পর্যটকরা আসতে শুরু করে এই 'আয়রন লেডি'কে দেখতে, যা ততদিনে আইফেল টাওয়ারের ডাকনাম হয়ে গেছে। আশেপাশের দোকানে বিক্রি হচ্ছে আইফেল টাওয়ারের ক্ষুদ্র সংস্করণ। কবি, সাহিত্যিক, গায়ক, চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই টাওয়ার দেখে প্রেরণা পেতে শুরু করেছেন। এই সব কা-কারখানা দেখে প্যারিসের মানুষ অবাক। অবাক স্বয়ং গুস্তাভো আইফেল-ও, যিনি এই টাওয়ারের স্থপতি। উদ্বোধনের দিন ফরাসি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার সময় তিনি ভাবতেই পারেননি যে, তার এই সৃষ্টি অমরত্বের পথে যাচ্ছে। গুস্তাভো আইফেল রেলের জন্য সেতুর নকশা প্রণয়ন করতেন এবং টাওয়ারটি নির্মাণে তিনি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন। মনে রাখতে হবে, সেই যুগে প্রায় ৩০০ মিটার লম্বা এই টাওয়ার ছিল গোটা বিশ্বে মানুষের তৈরি সবচেয়ে উচু কোনো সৃষ্টি। ১৯৫৭ সালে একটি অ্যান্টেনা বসানোর পর উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ৩২৪ মিটার। ৭ হাজার ৩০০ টন ইস্পাত দিয়ে তৈরি হয়েছে এই টাওয়ার। আর লোহার খ- ছিল ১৮ হাজার ৩৮টি। ৩০০ জন শ্রমিক এই নির্মাণ যজ্ঞে অংশ নিয়েছিল। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে পরবর্তী ৪০ বছর ধরে পৃথিবীর উচ্চতম টাওয়ার ছিল এটি। টেলিগ্রাফ এবং রেডিও সঙ্কেত পাঠানোর কাজেও ব্যবহার করা হয়েছে এই টাওয়ারকে। ১৯২১ সালে ফ্রান্সের প্রথম পাবলিক রেডিও সমপ্রচারও শুরু হয় সেখান থেকেই। এখন সূর্যাস্তের পর থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিট করে আলোর সাজে সেজে ওঠে 'লা তুর দিফেল'। প্রায় ২০ হাজার বাল্বের সেই আলোর ছটা অপরূপ এক দৃশ্য উপহার দেয়। আইফেল টাওয়ারকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনার অভাব নেই। আর পর্যটকদের ঢলও কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সূত্র : ডিডাবিস্নউ নিউজ, উইকিপিডিয়া

Friday, 27 January 2012

ফ্রান্সে কৃত্রিম স্তন প্রস্তুতকারী কোম্পানির প্রধান গ্রেফতার

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সের পুলিশ কৃত্রিম স্তন প্রস্তুতকারী কোম্পানি পিআইপি'র প্রতিষ্ঠাতা জ্যাঁ ক্লাদ মেসকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে। পলি ইমপ্ল্যান্ট প্রোথিসি বা পিআইপি কোম্পানির কৃত্রিম স্তন ব্যবহারের কারণে এ পর্যন্ত অনেক নারীর দেহে ক্যান্সার দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠার পর এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারী এক বিচারকের নির্দেশেই পিআইপি'র প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অননুমোদিত জেল দিয়ে কৃত্রিম স্তন তৈরি করার দায়ে এরইমধ্যে পিআইপি কোম্পানিটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফ্রান্সসহ বিশ্বের ৬৫টি দেশের চার থেকে পাঁচ লাখ নারী ওই কোম্পানির কৃত্রিম স্তন দেহে প্রতিস্থাপন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য বিভাগ দেশটির প্রায় ত্রিশ হাজার নারীকে তাদের কৃত্রিম স্তন সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে।
ফরাসি স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন,পিআইপি'র কৃত্রিম স্তন দেহে প্রতিস্থাপনের পর উচ্চ হারে তা ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত পিআইপি'র স্তন ব্যবহারকারীদের মধ্যে কয়েক জনের দেহে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। বেশ কয়েক জন নারীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর দেশটির সরকার এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।

এবারের বাজেট ‘রা.ওয়ান’-এর চেয়েও বড়

‘রা.ওয়ান’ ছবির সাফল্যের পর এবার মহাকাব্য ‘মহাভারত’ অবলম্বনে ছবি বানানোর পরিকল্পনা করছেন বলিউড অভিনেতা-প্রযোজক শাহরুখ খান। আর এই ছবি বানাতে তিনি ‘রা.ওয়ান’-এর চেয়েও বড় বাজেট নিয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লন্ডনভিত্তিক একটি পত্রিকাকে দেয়া শাহরুখের সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে ভারতীয় একটি দৈনিক জানিয়েছে, এই ছবিটি বানানোর জন্য  শাহরুখ  এরইমধ্যে বিদেশী একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিকভাবে ছবিটি মুক্তি দেয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে কিং খানের। এই চলচ্চিত্রে ‘অ্যাভাটার’-এর চেয়েও বেশি আধুনিক স্পেশাল ইফেক্টস ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শাহরুখ। এটি ‘লর্ড অফ দ্য রিংস’-এর মতো ট্রিলজি হবে বলেই স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

স্পেনে ৫৩ লাখ বেকার

২০১১ সালের শেষ ৩ মাসে স্পেনে বেকারত্বের হার ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। স্পেনের ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে ৫৩ লাখ মানুষের কোন কর্মসংস্থান ছিল না। দেশটিতে বেকারত্বের এ হার ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরের তৃতীয় ভাগে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেকারত্বের এ হার ছিল ৪৯ লাখ। এ খবর দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বেকারত্বের হার বাড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন রেকর্ড। এরই মধ্যে ইউরোপীয় অঞ্চলের ১৭টি দেশের মধ্যে স্পেনে বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি। স্পেনের অর্থমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, এ সংখ্যা ৫৪ লাখের নিচে।

Wednesday, 25 January 2012

ওয়েবসাইটের হিসাব-নিকাশ

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত ওয়েবসাইট কোনটি, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট কোনটি, অথবা নিজের ওয়েবসাইটটির অবস্থান দেশে-বিদেশেকত (র‌্যাঙ্ক)—সেটা জানতে চান? কোনো চিন্তা নেই, জানা যাবে খুব সহজে। এ জন্য ওয়েবভিত্তিক তথ্য প্রতিষ্ঠান অ্যালেক্সার (www.alexa.com) ওয়েবসাইটে যেতে হবে।
এর প্রথম পৃষ্ঠা থেকে ‘টপ সাইট’-এ ক্লিক করে নতুন পেজে যেতে হবে। এখানে ‘গ্লোবাল’-এ ক্লিক করলে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ৫০০ ওয়েবসাইটের তালিকা পাওয়া যাবে। অ্যালেক্সার হিসাবমতে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো গুগল। এরপরই দুই ও তিনে রয়েছে যথাক্রমে ফেসবুক এবং ইউটিউব। বাংলাদেশে কোন ওয়েবসাইট বেশি জনপ্রিয়, সেটাও চাইলে দেখতে পারবে। এ জন্য ‘বাই কান্ট্রি’ লিঙ্কে ক্লিক করলে সব দেশের একটি তালিকা আসবে। এখান থেকে বাংলাদেশ নির্বাচন করে দিলেই বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের একটি তালিকা দেখা যাবে। আলেক্সার হিসাবমতে বাংলাদেশ থেকে যেসব ওয়েবসাইট সবচেয়ে বেশি দেখা হয়, তাতে সবার প্রথমে রয়েছে গুগল। এর পরে ২ থেকে ৬ নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে ফেসবুক, ইউটিউব, ইয়াহু, গুগল-বাংলাদেশ ও ব্লগস্পট। এর পরে ৭ নম্বর স্থানে রয়েছে একটি বাংলাদেশি ওয়েবসাইট প্রথম আলো। এ তালিকায় বাংলাদেশি আরও বেশ কিছু ওয়েবসাইট স্থান করে নিয়েছে। যেমন ৮, ১০ ও ১১ নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে বিডিনিউজ ২৪, বাংলাদেশ নিউজ ২৪ ও সামহোয়্যার ইন ব্লগ।
অ্যালেক্সা থেকে চাইলে ক্যাটাগরি ভিত্তিতেও সেরা ওয়েবসাইটের তালিকা দেখা সম্ভব। এ জন্য ‘বাই ক্যাটাগরি’ লিংকে গিয়ে তালিকা থেকে ক্যাটাগরি, সাব-ক্যাটাগরি নির্বাচন করে দিতে হবে। আর যদি জানতে চান আপনার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটটির অবস্থান কত, তা-ও জানা সম্ভব। এ জন্য অ্যালেক্সা ওয়েবসাইটের সার্চ বারে ওয়েবসাইটের ওয়েব ঠিকানা লিখে সার্চ দিন। তাহলেই বাংলাদেশে অথবা বিশ্বে সেই সাইটের অবস্থান কত তা জানতে পারবেন। —ফয়সালহাসান

গিনেস বুকে হালিম

আবদুল হালিম আবদুল হালিম
আবদুল হালিমকে কাল সুসংবাদ দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে বেশি দূরত্ব মাথায় বল রাখার স্বীকৃতি পেয়েছেন মাগুরার হালিম। গত বছরের ২২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বল মাথায় নিয়ে ১৫.২ কিলোমিটার পেরোনোর পর হালিম গিনেস বইয়ে নাম তুলতে আবেদন করেন। কাল গিনেসের ওয়েবসাইটে উঠেছে হালিমের নাম, যাতে বলা হয়েছে, ‘সবচেয়ে বেশি দূরত্ব বল মাথায় রেখেছেন হালিম।’
এর আগে বাংলাদেশ থেকে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন জোবেরা রহমান লিনু। তাঁরটা অবশ্য ছিল খেলোয়াড়ি কৃতিত্বের স্বীকৃতি।

গেটস ভ্যাক্সিন ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পেলেন ডা. আমজাদ

মেলিন্ডা গেটস (বায়ে) ও বাংলাদেশী চিকিত্সক আ স ম আমজাদ হোসেন মেলিন্ডা গেটস (বায়ে) ও বাংলাদেশী চিকিত্সক আ স ম আমজাদ হোসেন
বাংলাদেশের চিকিত্সক আ স ম আমজাদ হোসেন গেটস ভ্যাক্সিন ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। এ বছরই প্রথম বিল অ্যান্ড মেলিন্দা গেটস ফাউন্ডেশন এই পুরষ্কার প্রবর্তন করল। ফাউন্ডেশন বলছে, শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অভিনব ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বিল গেটস তাঁর বাত্সরিক চিঠিতে লিখেছেন ‘ড. হোসেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নিজের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে টিকাদান কর্মসূচী সম্প্রসারণের চেষ্টা করে সফল হয়েছেন। গর্ভবতী মায়েদের তথ্য সংগ্রহ করা, টিকার তারিখগুলো সংগ্রহ করা ও এলাকাবাসীকে জানানো ইত্যাদি কাজ তিনি করেছেন। আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে, এ কাজগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু পুরনো সমস্যাগুলোকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’
জেলা পর্যায়ে টিকা কর্মসূচী পরিচালনার দায়িত্বে থাকা চিকিত্সা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে কাজ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জে প্রায় দেড় লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর। তিনি ওই দুটি এলাকায় টিকা দেওয়ার হার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পেরেছেন।
আ স ম আমজাদ হোসেন গেটস ভ্যাক্সিন ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড হিসেবে পাচ্ছেন আড়াই লাখ মার্কিন ডলার। এর বড় অংশ তিনি তাঁর পছন্দমত খাতে দান করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি।

Tuesday, 24 January 2012

ডন -২ না হয়ে চোর -২ হলে হয়ত ভাল হত

প্রচণ্ড হতাশ হলাম ডন-২ দেখে । ইনি কি সেই শাহরুখ যিনি my name is khan, veer-zara এর মত ভাল সিনেমা করতে পারেন । আশাহত হলাম এই কারনে যে , উনি ও বলিউড এর নায়ক সর্বশ সিনেমায় অভিনয় করলেন । যে খানে নায়কের হাঁটাচলা, স্টাইল প্রধান হয়ে পড়ে । যে খানে নায়ক জন্য কাহিনী, কাহিনী জন্য নায়ক নয় । তাই ডন- ২ হয়ে দাঁড়াল one man show ছাড়া কিছু না ।
ডন বলতে আমরা তাঁকে বুঝি , যিনি হবেন বিশাল অপরাধী চক্রের নেতা । তার হয়ে অন্যরা তার নির্দেশ মোতাবেক কাজ করবে । কিন্তু দুঃখের বিষয় শাহরুখের দলের লোকরা তার হয়ে কাজ করে না । মনে হয় তাদের অন্য কাজ আছে । তাই সব কাজ শাহরুখেই করতে হয় । মারামারি, খুন, বিজিনেস ডিল , এমন কি পাতি গুণ্ডাদের পেটান ......সব কিছু তাঁকে নিজ হাতে করতে হবে । সিনেমার প্রতিটা ইভেন্ট এত হস্যকর । তার মধ্য অন্যতম জেল পালানো । ইউরো ছাপার প্লেট চুরি করতে যে বিদ্যা লাগে, তাতে ডন না হলেও চলে । হলিউডের চোরেরা এর চেয়ে অনেক কঠিন চুরি করে ফেলতে পারে আনায়েসে । মনে হয় হলিউড চোররা বলিউড এসে ডন হয়ে যায় । এখানে ডন কে ডন মত কোন কাজ করতে দেখলাম না । তাই একে ডন -২ না বলে চোর -২ বললে মনে হয় ভাল হয় । মারদাঙ্গা ছাড়া এই সিনেমা তেমন কোন entertainment নেই । একবার দেখার জন্য ঠিক আছে, তার বেশী কোনো ভাবেই নয়।

শাহরুখের একজন সুপার স্টার । তার কাছে সবার প্রত্যাশা অনেক বেশী থাকে । যারা ডন- ২ দেখে বিমহিত হয়েছেন তাদের মনে কষ্ট দেওয়ার জন্য দুঃখিত । তবে এই সিনেমা কিছু কিছু ডায়লগ ভাল লেগেছে ।



  • ১৩ টি মন্তব্য
  • ২৮৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে
১. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৫
নাঈম আহমেদ আকাশ বলেছেন: এইটা কি ছবির রিভিউ ছিল?
যাই হোক,শাহরুখের একশন মুভি কেউ ই দেখতে চায় না ।
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:০৮
লেখক বলেছেন: এটা রিভিউ না । সিনেমা টা দেখে যা মনে হয়েছে তাই লিখেছি । একশন মুভি একশনের মত হলে তো হয় ।
২. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৭
রিফাত হোসেন বলেছেন: বিশাল অপরাধী চক্রের নেতা হবার কারনেই ডন সে ;)

আমি শাহরুখ ফ্যান না কিন্তু তার সিনেমার মূল্যায়ন করি ।
কোয়ালিটি আছে ।

ডন একারনেই যে সে পাতি হেল্পার থেকে নিজেই সবকিছুর ঠিক করতে পছন্দ করে ।

যেমন ভল্ট থেকে প্লেট বাহির করতে গিয়ে সে নিজেই যায় । অন্য কেউ সাহস করে নাই ।

কে বলল সে লোক দিয়ে কাজ করায় নাই ??????ß

এত বড় ছবিটা চলল দুই ঘন্টা চোখ কই ছিল আল্লাহই মালুম । লোল

অনেক জরুরী কাজ এর লোকদিয়েও করিয়েছে , যা থেকে তথ্য সংগ্রহন করে সে তার কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে ।

সে কি একাই যুদ্ধ করেছে নাকি !!! ব্যাংক এর ভোল্টে তার সাথে আরও অনেকে যায় ।

আর ডন সাহেব কি বিরাট আর্মি নিয়ে ঘুরবে নাকি ? যেখানে সারা ইউরোপ আর এশিয়ার পুলিশ তাকে খুজতেছে !!!

সে ডন বিধায় সে নিজেই নিজেকে সেইভ করতে সক্ষম ।


এইটাই আমরা সিনেমাতে দেখতে চাই, হিরো একাই হিরো ;)

নাইলে ঐ সিনেমরা বেইল নাই, ঐ বেটা কিসের হিরো ! যে নিজেকে সেইভ করতে পারে না, আরেক থার্ড পার্টির হেল্প লাগে ।

লোল ।



আর চোর -২ বা ধুম-২ এর সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে তারা পুলিশ থেকে চুরি করে ভাগছে তো ভাগছে ।

আর ডন তো পুলিশের কাছে নিজেকে সৌপর্দ করেই নির্ভেজাল প্রমাণ করেই সবার সামনে দিয়ে চলে গিয়েছে ।
আর পৃথিবীর সামনে প্লেটগুলি ধ্বংস হলেও তার কাছেই আছে !!


ছবিটা আরেকবার দেখবেন প্লেট গুলি কিভাবে তার কাছে আসে ।

তাহলেই বুঝবেন সে একা অভিনয় করে নাই ।
=p~ =p~ =p~ =p~


২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:১২
লেখক বলেছেন: আপনি কি আমার একটা প্রশ্নের উওর দিবেন :????

যে ডনকে ১১ টি দেশের পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে সে কিরে হুট করে বার্লিন চলে আসে কি ভাবে ????

৩. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৭
সকাল বেলার ঝিঝি পোকা বলেছেন: দেখার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু যে রিভিউ পাচ্ছি তাতে ইচ্ছে টা মারা যাচ্ছে।
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:১৩
লেখক বলেছেন: :-B :-B :-B
৪. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:০১
সকাল বেলার ঝিঝি পোকা বলেছেন: রিফাত ভাইয়া,

আপনার মন্তব্যের কারনে দেখার সাহস পাইলাম। থাঙ্কু

পেক পেক পেক
৫. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:১৩
জাহুমুজামা বলেছেন: um also disappointed by DON-2...i had a lot f expectation..
I decided dat I will never expect anything 4 SRK's movie...Ra.One n Don-2...a total disappointment...SRK er ruchi din din kharap hocche
:(
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:১৪
লেখক বলেছেন: সহমত
৬. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৫৬
লাভ ভাই বলেছেন: B:-) B:-) B:-) B:-) B:-)
৭. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:০৩
মোঃ মোশারফ হোসেন বলেছেন: সিনেমা কি বাস্তবের মতো নিখুঁত হয় নাকি?
৮. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৪৪
আমি-মুসাফির বলেছেন: ভাই দয়া করে একবার অমিতাভের ডন দেখুন। তাহলে বুঝবেন কেন ডন এতবার রিমেক হচ্ছে?
৯. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৩ রিফাত হোসেন বলেছেন: লেখক বলেছেন: আপনি কি আমার একটা প্রশ্নের উওর দিবেন :????

যে ডনকে ১১ টি দেশের পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে সে কিরে হুট করে বার্লিন চলে আসে কি ভাবে ????


প্রথমে একটু হেসে কেশে নেই । =p~ =p~ =p~ =p~ :D :) =p~ =p~ =p~ অই আমায় কে আছিস , কই আছিস ধর ধর , হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম তো । :)



এবার শুরু করি ।এত বড় সুন্দর নাদুস নুদুস রিভিউ এর উত্তর দিতে পেরেছি তো এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না ?


বাস্তব থেকেই শুরু করি , পৃথিবীতে মাফিয়ার শুরুটা ভাল কর্মকান্ডকে ঘিরে তৈরী হলেও ২য় মহাযুদ্ধের পর তা পরিবর্তন হয়ে যায় কাল কর্মকান্ডে । আর যারা জড়িত তারা সমাজের বড় বড় মাথা :) তাদের খোদ আমেরিকা আর ইউরোপ আর খোদ ইটালী কিছুই করতে পারে না ।
ইসরাইলের মোসাদ পার্টি আরবের অঞ্চলে ঢুকে সবার সামনেই কাজ সাফাই করে চলে যায়, কচু করতে পারে ;)

সুতরাং ডন যা করেছে তাতো ছবির শেষে ধরাই পড়ে গেল । কঠিন টুইস্ট দিয়ে । আমি নিজেও মনে করি নাই এই ধরনের টুইস্ট দিতে পারে ;) তার প্লেন এ কোন স্কেপ প্লেনই ছিল না !!!

যাউগ্গা মূল কথায় যাই, পুলিশ খুজলেই তো হয় না, স্থানীয় ব্যাপার গুলো ক্র্যাক করা থাকে । অতএব বাস্তব জগতে এফবি আই , সি আই এ এর লিস্ট এ যারাই আছে তারা হুহু করে ধরা পড়ত । কিন্তু পক্ষান্তরে পড়ে না ।

আর বার্লিন এ ইন করতে হলে কি ? জার্মান এর বিশেষ পারমিশন লাগে নাকি ??? সীমান্তে হেটে হেটেই পার হইতে পারবেন নো প্রবলেম । :) আর সে তো প্রাইভেট জেট এ আসছে ।

মানুষ নামে আর বেনামে প্রাইভেট জেট কিনতে পারে আর যে কোন দেশেই ঢুকতে সক্ষম । মূল কথা হল থাকতে হবে .... পয়সাাাাাাাাাাাা পয়াসা পয়সা,,

আর একজন মাফিয়া ডন হিসেবে ডনের ভাল চ্যানেল থাকার কথা ।
বার্লিন পর্যন্ত পৌছানোর এইটা তার প্রমাণ ।

আর বার্লিন বা ইউরোপ ইন করার পর মাফিয়া জগতে থাকা রিস্কি ব্যাপার এই জন্যই সে হেরে যায় এবং সে পুলিশের কাছে নিজেকে সৌপর্দ করে ...............................



কিন্তু এটাই তার প্ল্যান ছিল ;) টুইস্ট টুইস্ট সে যা পাবার, সে পেয়ে গিয়েছে ।


আর জার্মান প্রশাসন যে ক্র্যাক করা সম্ভব তা ব্যাংকের নিয়োগ ব্যাপারটা নিয়েই ছবিতে দেখি :)





আরও কোন প্রশ্ন ? :)