Wednesday, 21 December 2011

নারীর কাছে পুরুষের চাওয়া


নারী-পুরুষের পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ চিরন্তন ও সহজাত। আকর্ষণের মিথস্ক্রিয়াটা যথাযথ হলে দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে সুন্দর সম্পর্ক। আর তেমনটা না হলেই দেখা দেয় নানা সমস্যা। তবে নারী ও পুরুষের পরস্পরের প্রতি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন চাওয়া। নারীর কাছে পুরুষ কী চায়, এর ভিত্তিতেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। নারীর কাছে পুরুষের চাওয়ার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
নিজের জগত্ থাকুক: পছন্দের মানুষটির সঙ্গে আঁঠার মতো লেগে থাকতে চাইবেন না। এমন মেয়েদের ছেলেরা পছন্দ করে না। ছেলেরা চায়, তাঁর পছন্দের সঙ্গীটির বন্ধু-পরিজন নিয়ে নিজস্ব একটা জগত্ থাকবে।
সঙ্গীকে আগে যেতে দিন: নিজের জগত্ থাকা মেয়েদের পছন্দ করলেও, ছেলেরা কিন্তু চায় না তাঁর সঙ্গীটি তাঁর আগে চলুক। বরং এ ক্ষেত্রে ছেলেরা চান, তাঁকে আগে যেতে দিয়ে মেয়েটি মেয়েসুলভ আচরণ করুক।
স্বাচ্ছন্দ্যময় বোধ: ছেলেরা চান, সঙ্গীটি তাঁর সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ বোধ করুক। এ আস্থার সম্পর্ক দুজনের মধ্যকার সম্পর্কের ভিতটাকে আরও শক্তিশালী করে।
উদ্বিগ্ন নয়, যত্নশীল হন: ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হওয়াটা ছেলেরা পছন্দ করে না। তবে তাঁরা সব সময়ই চান, মেয়েরা তাঁদের প্রতি যত্নশীল মনোভাবটা দেখাক। ছোট ছোট বিষয়ে যত্নশীল আচরণ সম্পর্কের মাত্রাটাই পরিবর্তন করে দিতে পারে।
অগোছালো নয়, আবেদনময়ী: যেমন-তেমন, অগোছালো থাকা মেয়েদের ছেলেরা তেমন পছন্দ করে না। ছেলেদের কাছে আবেদনময়ী নারীই কাম্য।
সম্মানিত হন: সম্মান করতে পারবেন, এমন মেয়েকেই ছেলেরা পছন্দ করে। কাজেই নিজেকে তাঁর সম্মান পাওয়ার যোগ্য করে তুলুন।
ভালো বন্ধু: ভালো বন্ধুত্ব যেকোনো সম্পর্কের পূর্বশর্ত। ভালো বন্ধুত্ব না হলে সম্পর্কটা যেন টিকতেই চায় না। তাই ভালো বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। ছেলেটির বন্ধু-পরিজনের সামনে তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি কিংবা ছোট করে নয়, বরং তাঁর বন্ধু হিসেবে থাকুন।
প্রশ্নবাণে জর্জরিত নয়: কে ফোন করল, কে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠাল, কে কী মেইল করল—এসব নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করবেন না। এমন মেয়েদের ছেলেরা পছন্দ করে না। বরং এটাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিন। এ নিয়ে সন্দেহ করলে, প্রশ্ন করলে কিংবা অযথা ভাবলেই সম্পর্ক খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
নিজের আচরণ-মূল্যবোধ বুঝিয়ে দিন: ছেলেটির আদব-কায়দা ভালো হলে, মেয়েটিকেও সেভাবেই আচরণ করতে হবে। তাঁকে বুঝাতে হবে, আপনিও একই মূল্যবোধ ধারণ করেন। পুরুষ সঙ্গীটিকে আপনি সত্ ও নির্ভরযোগ্য হিসেবেই ভাবেন।

৩০ এর আগেই খ্যাতির শীর্ষে


বয়স ৩০ হওয়ার আগেই সুমান ও খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছেন এমন মার্কিন নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বস। ওই তালিকার একেবারে ওপরে আছেন ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, মানবাধিকার কর্মী রোনান ফারাও, পপ তারকা লেডি গাগা, অভিনেতা জাস্টিন বিবার। এছাড়া আর্টিস্ট জেআর, চলচ্চিত্র প্রযোজক ডেভিড এলিসনও ওই তালিকায় আছেন।
১২টি ক্যাটাগরিতে ‘৩০ আন্ডার ৩০’ নামে ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়। ফোর্বসের মতে, এরাই হবেন আগামী দিনের উজ্জ্বল তারকা।
ফোর্বসের নির্বাহী সম্পাদক মাইকেল নোয়েরের মতে, তালিকার অনেকের নামই হয়তো সবার জানা। তবে ডেনিয়েল ফংয়ের মতো তরুণের এই প্রথম সবার সামনে আসার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এটা নিশ্চিত যে, আগামীতে তাদের কাছ থেকে আমরা আরও ভালো কিছু শুনব।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞ ফারওকে সম্প্রতি রোডস স্কলার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফারও অভিনেত্রী মিয়া ফারাও এবং চলচ্চিত্র পরিচালক উডি অ্যালেনের সন্তান। ফোর্বসের আইন ও নীতি নির্ধারণ বিষয় তালিকায় তিনি স্থান করে নিয়েছেন।
ডোনাল্ড গ্লোভার, জোনাহ হিল, জেনিফার লরেন্স এবং অভিনেতা উইল স্মিথের মেয়ে ১৩ বছর বয়সী জাডেন স্মিথ সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে বিনোদন ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছেন। সংগীতের তালিকায় স্থান পেয়েছেন কেটি পেরি, রিহান্না ও লিল ওয়েইন। এছাড়া আর্ট ও ডিজাইন, ফুড অ্যান্ড ওয়াইন, মিডিয়া, স্যোশাল/মোবাইল প্রযুক্তি ক্যাটারিতে তরুণ প্রতিভাবানদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

তারকাদের যত কেলেঙ্কারি!


তারকা আর কেলেঙ্কারি—যেন সমার্থক। তারকার জীবন নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ। তারকারা ভালো কিছু করলে ভক্তরা খুশিতে আত্মহারা হয়। আবার তারকাদের ভুল কিংবা কেলেঙ্কারি তাদের বিব্রত করে, দুঃখ দেয়। অবশ্য এমন কেলেঙ্কারির জন্য তারকাদেরও কম মূল্য দিতে হয় না। ২০১১ সালে তারকাদের এমন কিছু কেলেঙ্কারি নিয়েই এই প্রতিবেদন।
আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার: এ বছরই খবর বের হয়, ১৩ বছর আগে হলিউড তারকা শোয়ার্জনেগার তাঁর বাড়ির গৃহকর্মীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের একটি সন্তানও আছে। শোয়ার্জনেগার এ খবর স্বীকার করলে ক্ষুব্ধ স্ত্রী মারিয়া শ্রাইভার বিয়ে-বিচ্ছেদের আবেদন করেন।

ক্রিস্টোফার চেনি: স্কারলেট জোহানসনসহ বহু তারকার ব্যক্তিগত ই-মেইল ও ছবি হ্যাক করার অভিযোগে অভিযুক্ত হন ‘তারকা হ্যাকার’খ্যাত ক্রিস্টোফার চেনি।

লার্স ভন ট্রিয়ার: হিটলারকে বুঝতে পারেন—নিজের ‘মেলানকলিয়া’ ছবি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করে ফেঁসে যান ডেনিস পরিচালক লার্স ভন ট্রিয়ার। কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। যুদ্ধাপরাধকে যথার্থ প্রমাণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। পরে অবশ্য ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

হিলারি সোয়েঙ্ক: মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী চেচেন নেতা রাজমান কাদিরভের ৩৫তম জন্মদিনের উত্সবে যোগ দিয়ে সমালোচিত হন মার্কিন অভিনেত্রী হিলারি সোয়েঙ্ক। কড়া বাক্যবাণে জর্জরিত হতে হয় তাঁকে।

চার্লি শিন: ‘টু অ্যান্ড এ হাফ ম্যান’ অনুষ্ঠান নিয়ে প্রকাশ্যে প্রযোজক চাক লরির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন মার্কিন অভিনেতা চার্লি শিন। এর খেসারত হিসেবে তাঁকে এই অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়। যদিও গুজব আছে, আপসরফার জন্য তিনি এক কোটি ডলার পেয়েছিলেন।

জন গালিয়ানো: ফরাসি ফ্যাশন হাউস ডিওরের প্রধান ডিজাইনার ছিলেন জন গালিয়ানো। তবে প্যারিসের এক পানশালায় মদ্যপ অবস্থায় ইহুদিবিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েন তিনি। অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, মদ্যপ গালিয়ানো এক নারীকে বলছেন, তিনি হিটলারকে ভালোবাসেন। এ মন্তব্যের জেরে গালিয়ানোকে ডিওরের ওই পদ ছাড়তে হয়।

Monday, 19 December 2011

মাননীয় হুকুমদাতা, আপনাকে বলছি...

অকস্মাত্ চোরাগোপ্তা হামলায় সিলেটে আগুনে পুড়ে এক বাসযাত্রীর মৃত্যুর দৃশ্য অকস্মাত্ চোরাগোপ্তা হামলায় সিলেটে আগুনে পুড়ে এক বাসযাত্রীর মৃত্যুর দৃশ্য
ইশ, সকালবেলা উঠে এ কী দৃশ্য দেখতে হলো প্রথম আলোর প্রথম পাতায়! দাউ দাউ করে পুড়ছে একটা বাস, দোজখের আগুনের মতো, ‘সিলেট-হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেস’ লেখাটা স্পষ্ট আর সৌকর্যময়। জানালা দিয়ে বেরিয়ে আছে একজোড়া পা, মানুষের দুটো পা, জুতো পরা। পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে ওই মানুষটা। সকালবেলা তিনি বের হয়েছিলেন জুতামোজা পরে; নাশতা করেছিলেন, প্রিয়জনের কাছে বিদায় নিয়েছিলেন, কাজে যাচ্ছিলেন কিংবা যাচ্ছিলেন আপন ঠিকানাতেই। তাঁরও জনক-জননী আছে, তাঁরও জন্মের সময় মুখে মধু বা কানে আজান দেওয়া হয়েছিল। ওই মানুষটিও স্কুলে গেছেন, লেখাপড়া শিখেছেন; তাঁরও আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব আছে, তিনিও ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে গেছেন। একটা মানুষ। একটা জলজ্যান্ত মানুষ। বিবাহিত হলে তাঁর স্ত্রী-সন্তান আছে, হয়তো। তাঁর কী অপরাধ? কেন তাঁকে জ্বলন্ত বাসের মধ্যে কাবাবের মতো পুড়তে হলো?
এ কোন রাজনীতি? এ কোন মানবিকতা? এ কোন আদর্শ? রাজনীতি মানে না নীতির রাজা? নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মারার নাম নীতির রাজা? মানুষ মেরে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা?
১৮ ডিসেম্বর ২০১১ ঢাকাসহ সারা দেশে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো কী ঘটতে দেখলাম আমরা! সারা দেশে একযোগে বাসে আগুন, গাড়িতে আগুন, বাস ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ। ককটেল বিস্ফোরণে ঢাকার মতিঝিলে মারাও গেছেন এক তরুণ।
এ তো স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ নয়। রাস্তায় আন্দোলন আমরাও করেছি, নব্বইয়ের দশকের উত্তাল গণ-আন্দোলনের দিনগুলোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে পুলিশের সঙ্গে ঢিল ছোড়াছুড়ির অভিজ্ঞতা আমাদেরও কিছু আছে। বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ছিল ওই দিন, তাতে আসার পথে পুলিশ বাধা দিয়েছে। তাতেই একযোগে সারা দেশে এতগুলো ককটেল সকালবেলাতেই ফুটতে পারে না, এতগুলো বাসে আগুন জ্বলে উঠতে পারে না, যদি না আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে, প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে থাকে। একটা ঠান্ডা মাথার পূর্বপরিকল্পনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগে থেকেই নির্দেশ দিতে হয়েছে, ককটেল বানাও। গাড়ি পোড়ানোর সিদ্ধান্তটাও কাউকে না কাউকে নিতে হয়েছে এবং সেটা সারা দেশের কর্মীদের জানিয়ে দিতে হয়েছে।
জনাব পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতা, অভিনন্দন! আপনার পরিকল্পনা আমাদের কল্পনাকেও হার মানিয়েছে। আজ আপনি যখন নাশতা করছেন, প্রথম আলোর ১৯ ডিসেম্বর ২০১১-এর কাগজটা হাতে নিন। ওই যে মানুষটা বাসের জানালা দিয়ে পা বের করে দিয়ে ভেতরে দাউ দাউ আগুনে পুড়ে যাচ্ছেন, যাঁর মাংসের পোড়া গন্ধে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চণ্ডীপুলে বদিকোনার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে, তাঁর মৃত্যুর গন্ধ, পোড়া মাংসের গন্ধে আপনার আজকের ব্রেকফাস্ট কি আরও জমে উঠল?
পত্রিকায় নানা কথাই লেখা হয়েছে। বলা হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পনা ছিল মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার নাম করে সারা দেশ থেকে লক্ষ মানুষকে ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জড়ো করে সেখান থেকে সচিবালয়ের দিকে যাত্রা করে রাজধানী অচল করে দেওয়া। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগেই সেটা টের পেয়ে গিয়ে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা সমাবেশে প্রবেশে বাধার প্রতিক্রিয়া ককটেল-বোমার গণবিস্ফোরণ নয়, হতে পারে না। যাত্রীভরা চলন্ত বাসে আগুন দেওয়াটাকেও গণ-আন্দোলন বলে না।
একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেল চ্যানেল আইয়ের সংবাদ থেকে। ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, গোলাম আযমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ হলো তারই প্রতিক্রিয়া। গোলাম আযমের কথিত গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়া দেখাতে এত বিপুলসংখ্যক গাড়ি ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন আর বোমা ফাটানোর মহড়া!
হরতালের আগের দিন গাড়িতে আগুন একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এখন হরতালের দিনে গাড়ি চলে নিরাপদে, কিন্তু হরতালের আগের সন্ধ্যায় গাড়ি পাওয়া যায় না, রাজধানীর রাজপথে অফিসফেরত মানুষ ভোগান্তির শিকার হয় চরম। আর এইভাবে গাড়ি পোড়াতে গিয়ে, গাড়িতে গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে মানুষ মারা হয়েছে অতীতে, এই শহরেই। বেবিট্যাক্সিতে আগুন দিয়ে এর চালককে জীবন্ত কয়লা বানানো হয়েছে একাধিকবার। পুরো শরীরের দগদগে ক্ষত নিয়ে বেবিট্যাক্সিচালক কয়েক দিন অকল্পনীয় যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন হাসপাতালে, তারপর একসময় ঢলে পড়েছেন মৃত্যুর কোলে—এই সব খবর আমরা ভুলতে পারি না। হরতালের আগে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিতে হবে, এটা কোন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি? এ তো স্রেফ বর্বরতা। যাত্রী কিংবা চালকসমেত বেবিট্যাক্সিতে আগুন দিতে হবে—জ্বলন্ত শরীর নিয়ে কাতরাবে, গড়াগড়ি খাবে মানুষ; এই দৃশ্য দেখার মধ্যে কোন রাজনৈতিক পরিতৃপ্তি, কোন তৃপ্তির ঢেকুর?
ছোট্ট কন্যাটি অপেক্ষা করে বাড়িতে, বাবা আসবেন। বাবা আসেন না। মা সারা রাত জেগে থাকেন দরজা ধরে, পথ চেয়ে—এই বুঝি ছেলে ফিরে এল। ছেলে ফিরবে কী, সে তো একটা পোড়া মাংসের অবয়বহীন দলা হয়ে পড়ে আছে কোনো ভস্মীভূত গাড়ির ভেতরে।
আমাদের রাজনীতিবিদদের, আমাদের নেতাদের বুঝতে হবে, প্রতিটা জীবন মূল্যবান। অধিকার জনগণের হয় না, অধিকার হয় প্রত্যেক মানুষের। নিরাপত্তা সারা দেশের মানুষের হয় না, নিরাপত্তা হয় প্রত্যেক মানুষের আলাদা আলাদা। একটা মানুষকে হত্যা করা মানে মানবতাকেই হত্যা করা। একজন নাগরিককে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মারা মানে মানবসত্যকেই জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মারা।
আগে থেকে ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ করে আপনি গাড়ি ভাঙতে, আগুন জ্বালাতে, ককটেল ফোটাতে কেন যাবেন? গত পরশু ঢাকা শহরে মানুষের কী ভোগান্তিটাই না হয়েছে। একদিকে যানজট, অন্যদিকে আতঙ্ক। কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে বিপদে পড়েছে মানুষ, কাজ থেকে ফেরার পথে যানবাহন পাওয়া হয়ে পড়েছে ভার। মানুষের এই সব দুঃখ-কষ্টের কোনোই মূল্য নেই আমাদের রাজনীতিবিদদের কাছে? কিসের জন্য রাজনীতি করেন আপনারা? শুধু ক্ষমতার মধু পান করার জন্য, শুধু কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার জন্য, শুধু বিরোধী মতকে দলন করার জন্য?
আর সারা দেশে একযোগে বোমা ফাটানোর মানে কী? এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় জেএমবির সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের দিনগুলোর কথা। আমাদের ভয় হয়, বড় নেতাদের জেলখানায় ঢুকতে দেখে জামায়াত তার মরণকামড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা সারা দেশকেই জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেওয়ার কর্মসূচির একটা মহড়া করল মাত্র। আর পরিহাসটা দেখুন। কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার আর মাঠে ককটেল হাতে নেমে পড়েছে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিটি।
যে পরিকল্পনাকারীরা এই ককটেল বানানোর ও ফাটানোর পরিকল্পনা করেছে, নির্দেশ দিয়েছে, তাদের নাকে কি মাংসপোড়া গন্ধ যাচ্ছে না? আরবের সব সুগন্ধীও কি তাদের হাতে রক্তের গন্ধ দূর করতে পারবে?
হয়তো এদের কোনো ঘ্রাণেন্দ্রিয় নেই। ক্ষমতার মোহ এদের নাক-কান-চোখ বন্ধ করে দিয়েছে। এদের বিবেক বহু আগেই মারা গেছে। সাধারণ দয়া-মায়া-করুণা নামের মানবিক গুণগুলো এদের সত্তা থেকে বহু আগেই বিতাড়িত। এরা অন্ধ, এরা ক্ষমতান্ধ, এরা অন্ধ, এরা আদর্শ-অন্ধ।
এরা করতে পারে না, এমন কোনো কাজ নেই।
হে আল্লাহ, এই রকম রাজনীতি-অন্ধ, ক্ষমতা-অন্ধ, আদর্শ-অন্ধ ভয়ংকর রাজনীতিকদের হাত থেকে দেশ ও মানুষকে তুমি রক্ষা করো।

আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
collect by :kazi ashraful islam

 অন্য রকম সু চি!


সেই ষাটের দশকের কথা। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সাইকেলে করে ঘুরে বেড়াতেন সুন্দর এক বার্মিজ মেয়ে। ভিন্ন দেশের এমন সুন্দর একটি মুখ দেখে মুগ্ধ হন অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থী মাইকেল এরিস। আশপাশের মানুষের কাছে জানতে চান, ‘এমন সুন্দর মেয়েটা কে?’ উত্তরে জানতে পারেন, বার্মার (বর্তমান মিয়ানমার) কোনো জেনারেলের মেয়ে, নাম অং সান সু চি।
গল্প আর এগোনোর কথা নয়। কারণ, সু চির বাবা অং সান মিয়ানমারের বিপ্লবী নেতা ও আধুনিক সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নেতৃত্বেই দেশটি ব্রিটিশদের এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়, স্বাধীনতা অর্জন করে। যদিও এর ছয় মাস আগেই তাঁকে হত্যা করা হয়। এমন পরিবারের মেয়ে নিজ দেশের কাউকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন, এমনটাই সবাই প্রত্যাশা করেছিল।
কিন্তু সু চির জীবনের চিত্রনাট্য এমন প্রত্যাশায় চলেনি। কিউবায় জন্ম নেওয়া ও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করা লম্বা-সুদর্শন মাইকেল এরিসের সঙ্গে ১৯৬৭ সালে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হিমালয়ান কিংডম নিয়ে গবেষণা করার বিষয়ে এরিসের ছিল ব্যাপক আগ্রহ। পরবর্তীকালে এসব বিষয় নিয়েই তিনি কাজ করেন।
সেই আগ্রহ থেকেই অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা এরিস ভুটানের রাজপরিবারের শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। তখন দুজনের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলে। কিছু চিঠি এখন অক্সফোর্ডের এক গ্রন্থাগারে আছে। সু চির জীবনীমূলক বই ‘পারফেক্ট হোসটেজ’-এর লেখক জাস্টিন উইন্টলি জানিয়েছেন, এরিসকে লেখা এক চিঠিতে সু চি লিখেছিলেন, ‘আমার দেশের জনগণের আমাকে প্রয়োজন। এ দায়িত্ব পালনে আমাকে তোমার সহযোগিতা করতে হবে।’
১৯৭২ সালে এরিসের সঙ্গে ঘর বাঁধেন সু চি। বিয়ের এক বছর পর সু চি-এরিসের কোলে আসে প্রথম সন্তান আলেকজেন্ডার। ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় সন্তান কিমের জন্ম। এরিস পড়াশোনায় মন দিলেন। সু চি তখন ঘরের কাজ, ছেলেদের দেখাশোনা, কাপড় সেলাই, সবার আগে বন্ধুদের কাছে বড়দিনের কার্ড উপহার পাঠানো—এভাবেই দিন কাটাচ্ছিলেন। এরিস পড়াশোনা শেষ করে অক্সফোর্ডে শিক্ষকতা শুরু করেন। সু চি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ বিভাগে পিএইচডির পড়াশোনা শুরু করেন।
কিন্তু ১৯৮৮ সালে তাঁদের সুখের সংসারটা নাড়িয়ে দেয় বার্মা থেকে আসা একটি ফোন। ‘ফ্রিডম ফ্রম ফিয়ার’ বইয়ে এরিস লিখেছেন, ‘১৯৮৮ সালের মার্চের শেষ দিন। আমাদের দুই ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছে। আমরা দুজন পড়াশোনা করছিলাম। এমন সময় ফোনটা বেজে উঠল। সু চি ফোনটা ধরল। ওই প্রান্ত থেকে জানানো হলো, সু চির মা হূদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। খবরটা শুনেই সে ব্যাগ গোছাতে শুরু করল। তখনই বুঝলাম; আমাদের জীবনটা চিরদিনের মতো বদলে যাচ্ছে।’ স্বামী-সন্তানদের যুক্তরাজ্যে রেখে দেশে ফেরেন তিনি।
ওই সময় বার্মায় চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। সামরিক জান্তা ছাত্রসহ সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়। তিন হাজারের মতো লোককে হত্যা করা হয়। এ অবস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে বাবার আদর্শকে ধারণ করে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন সু চি। ১৯৯০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তবে সামরিক জান্তা তাঁকে সরকার গঠন করতে দেয়নি, গৃহবন্দি করে।
সেই থেকে গত দুই দশকের মধ্যে ১৫ বছর গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী সু চি গৃহবন্দি অবস্থায় থেকেছেন। ১৯৯১ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পান। তখন এরিস বিশ্ব সম্প্রদায়কে জানান, ‘পরিবারের সদস্য হিসেবে সু চির সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। শুধু জানি, তিনি একা গৃহবন্দি আছেন। তাঁকে তাঁর বাড়িতে রাখা হয়েছে, নাকি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—সেটাও আমাদের জানা নেই।’
এরিসের সঙ্গে সু চির দেখা হয় সাত বছর পর, ১৯৯৫ সালের বড়দিনে। এটাই ছিল তাঁদের শেষ দেখা। ১৯৯৯ সালে এরিস ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি বারবার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য আবেদন জানালেও সামরিক জান্তা সে সুযোগ দেয়নি। জীবদ্দশায় এরিস তিব্বত ও ভুটান নিয়ে অনেক গবেষণামূলক কাজ করেছেন। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য স্ত্রী সু চির কাজের কথা সারা বিশ্বে পৌঁছে দিতেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। এরিস দুই সন্তানকে বড় করেছেন। আলেকজেন্ডার যুক্তরাষ্ট্রে দর্শন নিয়ে কাজ করছেন। আর ছোট ছেলে কিম যুক্তরাজ্যেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন বলে বলা হয়। ২০১০ সালে সু চি মুক্তি পাওয়ার ১০ দিন পর বড় ছেলে আলেকজেন্ডারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সেটাও মা-ছেলের ১০ বছর পর দেখা। মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য বারবার আবেদন করে তিনিও যে অনুমতি পাননি।

দ্য স্টার ডট কম অবলম্বনে তপতী বর্মন।

Wednesday, 14 December 2011

 ডন ২ শাহরুখের নতুন বাজি

শাহরুখ খান শাহরুখ খান
‘ডন কো পাকাড়না মুশকিল হি নেহি, না মুমকিন হ্যায়’—এই জনপ্রিয় সংলাপ নিয়ে আবার আসছেন শাহরুখ খান, সঙ্গে পরিচালক ফারহান আখতার। পাঁচ বছর আগে যখন অমিতাভ বচ্চনের ডন (১৯৭৮)-এর রিমেক নিয়ে ফারহানের দল পর্দায় এসেছিলেন, তখন অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, শাহরুখের ডন কি অমিতাভের ডনকে ছাপিয়ে যেতে পারবে? দুটি ছবিই সুপারহিট। তাই কে কাকে ছাপিয়ে গেছেন, এই প্রশ্ন অবান্তর। তবে এবার শাহরুখকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে নিজের সঙ্গেই। প্রথমবারের মতো শাহরুখ নিজের কোনো ছবির সিকুয়্যালে অভিনয় করলেন। নায়িকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও তাই। এমনকি দিল চাহতা হ্যায়, লক্ষ্য, ডন-এর পরিচালক ফারহানেরও সিকুয়্যাল অভিষেক হতে যাচ্ছে আসছে ২৩ ডিসেম্বর। ডন ২-এর গায়ে হিট ছবির তকমা লাগাটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। শাহরুখ খান নিজেই বড় একটা কারণ; তার ওপর রক অন, লাক বাই চান্স, কার্তিক কলিং কার্তিক, জিন্দেগি না মিলেগি দোবারাতে অভিনয়ের পর ফারহান আখতারের পরিচালনায় ফেরা, শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কার প্রেমের গুঞ্জন, বড়দিনের সপ্তাহে ছবি মুক্তি—সব মিলিয়ে সবকিছুই আছে ডন ২-এর পক্ষে। তবে শাহরুখের টেনশন, ডন ২ যেন আরও একটি রা ওয়ান না হয়ে যায়। প্রায় ১৫০ কোটি রুপির ছবি রা ওয়ান সব মিলিয়ে ২০০ কোটি রুপি আয় করলেও ঐতিহাসিক হিট ছবির তকমা পায়নি। দর্শক-প্রতিক্রিয়া তো একেবারে মিশ্র। তার পরও যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ! সবকিছু শিকেয় তুলে শাহরুখ এখন ডন ২ নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
রা ওয়ান-এর মতো ডন ২-এরও ত্রিমাত্রিক সংস্করণ মুক্তি পাচ্ছে। হিন্দির পাশাপাশি তামিল, তেলেগু ভাষাতেও মুক্তি পাচ্ছে ডন ২। মিস ইউনিভার্স ২০০০ লারা দত্ত এবং মিস ওয়ার্ল্ড ২০০০ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তাঁদের অভিনয়জীবনের প্রথম ছবি আন্দাজ-এ একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। তখন সবকিছু ছিল লারার অধীনে। সময় পাল্টেছে। ডন ২ ছবিতে আবার একসঙ্গে কাজ করেছেন দুজন; তবে প্রিয়াঙ্কা প্রধান চরিত্রে আর লারা বিশেষ চরিত্রে। পারিশ্রমিক নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় শাহরুখের বন্ধু অর্জুন রামপাল বাদ পড়েছেন ডন ২ থেকে। তাঁর পরিবর্তে এসেছেন কুনাল কাপুর। কারিনা কাপুর ছিলেন ডন-এর আইটেম গার্ল। শোনা গেছে, ডন ২তে অতিথি চরিত্রে কাজ করেছেন হূতিক রোশন। যদিও ফারহানরা চমক দেওয়ার নিয়তে ‘পুরোটাই গুজব’ আওড়াচ্ছেন। ঊষা উত্থুপ সচরাচর বলিউডি গান করেন না। সংগীত পরিচালক শঙ্কর-এহসান-লয় ঊষাকে দিয়ে ডন ২-এর গান করিয়েছেন। ‘ম্যায় হু ডন’ গানের জন্য নৃত্য পরিচালক বৈভবী কোনো নাচের মুদ্রা ব্যবহার করেননি। ডন চরিত্রকে দিয়ে অ্যাকশন সিকোয়েন্স করিয়েছেন। ডন ২ ইউনিটের আশাবাদ, এই গানের দৃশ্যায়ন কিছুদিন পর ট্রেন্ডে পরিণত হবে।
বলিউড ক্যারিয়ার শুরু করার আগেই শাহরুখ স্বপ্ন দেখতেন, একদিন তাঁর ছবির পোস্টারে সুন্দরী নায়িকা থাকবে আর তিনি বন্দুক হাতে নায়িকাকে জড়িয়ে দুর্ধর্ষ অভিব্যক্তি দেবেন। ডন ২ তার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। নায়িকা হিসেবে পছন্দের প্রিয়াঙ্কাকেই পেয়েছেন শাহরুখ। ছবির শুটিং করতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কার স্টান্টগার্ল ‘বিবি’ মারা গেছেন। সুইজারল্যান্ডে গাড়ির একটি অ্যাকশন দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে ছবির ব্যয়বহুল ক্যামেরাও ভেঙে চুরমার হয়েছে। মালয়েশিয়ার জেলে ৭০০ কয়েদির সঙ্গে শুটিং করতে গিয়ে শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কা দুজনেই আহত হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পাশাপাশি সুখের ঘটনাও আছে বেশ। জার্মান সরকার ছবিতে জার্মানের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার জন্য তিন মিলিয়ন ইউরো উপহার দিয়েছেন ফারহানকে। শাহরুখের অবশ্য প্রিয় দৃশ্য বার্লিনে ৩০০ ফুট উঁচু অট্টালিকা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার দৃশ্যটি। ডন ২-এর জন্য শাহরুখ চুল বড় করেছেন, দাড়ি রেখেছেন, এমনকি কবজিতে ‘ডি’ উল্কি করিয়ে সেটাকে আবার কপিরাইট নিবন্ধন করেছেন। ছবির প্রচারণার জন্য তৈরি টি-শার্ট, ব্যাগ, ফাইল—সবকিছুতে এই উল্কি থাকছে। সুতরাং কেউ যাতে উল্কিটি নকল করতে না পারে, তার জন্যই কপিরাইট নিবন্ধন। ছবির ট্রেলার তৈরির সময়ও শাহরুখ নিজে ফারহানকে পরামর্শ দিয়েছেন ‘দ্য রিটার্ন অব দ্য কিং’ ট্যাগলাইন ব্যবহার করার জন্য। পরিচালক ফারহান বলেন, ‘ডন-এর কাহিনি তো ছিল আমার বাবা জাভেদ আখতারের। ডন ২-এর জন্য আর তাঁর কাছে যাইনি। ডন-এর দুজন কলেজপড়ুয়া ভক্ত অমিত-অমরীশ আমার অফিসে এসে ডন ২-এর আইডিয়া দিয়েছিল। তাদের সঙ্গে আমার আইডিয়ার সংযোগই ডন ২। প্রয়োজনে ডন ৩-ও করব। তবে শর্ত একটাই—ডন ২ হিট হতে হবে!’
 রুম্মান রশীদ খান
[ইন্ডিসিনে, গ্ল্যামশ্যাম, বলিউড লাইফ, বলিউড হাঙ্গামা, ফিল্মফেয়ার, স্টারডাস্ট, আইবিএন লাইভ, সান্তাবান্তা, রেডিফ ডট কম অবলম্বনে]