Saturday, 10 March 2012

‘দ্রাবিড় একজনই’

সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন দ্রাবিড়পত্নী বিজেতা ও ছেলে সমিত সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন দ্রাবিড়পত্নী বিজেতা ও ছেলে সমিত
রয়টার্স
শচীন টেন্ডুলকার: রাহুল দ্রাবিড় একজনই। আর কেউ আসবে না। ড্রেসিংরুমে, মাঠে রাহুলের অনুপস্থিতি আমাকে পোড়াবে। জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো ওর সঙ্গেই ভাগাভাগি করে নিয়েছি। উইকেটে দুজনের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর সাক্ষী হয়ে আছে আমাদের অসংখ্য শতরানের জুটি। ১৬৪টি টেস্ট ম্যাচ, ১৩ হাজারের ওপরে রান—এমন কারও জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।
সুনীল গাভাস্কার: ও ছিল পুরোদস্তুর এক ধ্রুপদি খেলোয়াড়—মাঠে, মাঠের বাইরেও। কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, নিজেকে যেভাবে মেলে ধরেছে, যেভাবে প্রয়োগ করেছে; সবকিছু মিলেই সে তরুণদের জন্য আদর্শ। ভারতীয় ক্রিকেটে এখন একটা শূন্যতা তৈরি হবে। ওর মতো কৌশলগত নৈপুণ্য নিয়ে খেলবে এমন কোনো ক্রিকেটারকে আর পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না।
সৌরভ গাঙ্গুলী: এই সিদ্ধান্তে আমি মোটেও অবাক নই। সবকিছু মিলিয়েই ও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে আছে দলের পারফরম্যান্সও। ও ছিল খুঁতখুঁতে। সব সময় আরও বেশি নিখুঁত হয়ে ওঠার চেষ্টা করত। খেলাটির প্রতি ওর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা, টেকনিক, দায়বদ্ধতা—সবকিছুই ছিল স্পেশাল। আরেকজন রাহুল দ্রাবিড় হয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন। রাতারাতি তা হয় না। যেকোনো পেশা থেকেই অবসর নেওয়া সব সময়ই কঠিন। খুবই কষ্ট লাগে। কিন্তু খেলাটায় সময় একটা বড় ব্যাপার। অনেক কিংবদন্তিকেই বিদায় নিতে হয়েছে। পেলে-ম্যারাডোনা নিয়েছেন, ফেদেরারকেও নিতে হবে।
অনিল কুম্বলে: তোমার সঙ্গে খেলা প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। এটা ছিল বিরাট সম্মানেরও। ও সেই বিরল প্রতিভাধরদের একজন, যাদের মধ্যে অনন্যসাধারণ প্রতিভা আর দায়বদ্ধতা দুটিই ছিল। দীর্ঘ সময়ের জন্য মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা ওর মতো আর কারও নেই। ও এমন একজন, যে সব সময় আরও নিখুঁত হয়ে ওঠার চেষ্টা করত। ক্রিকেটের সত্যিকারের এক দূত তুমি, আদর্শ দল-অন্তঃপ্রাণ।
শেন ওয়ার্ন: অবসর নেওয়ায় আমার বন্ধু রাহুল দ্রাবিড় আর তার পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাই। ওর প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে।
জ্যাক ক্যালিস: আমাদের মধ্যে সব সময় একটা ইতিবাচক দ্বৈরথ ছিল। ও খুবই চুপচাপ ধরনের, বিনয়ী। আইপিএলে ওর সঙ্গে খেলার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। ও এমন একজন খেলোয়াড় ছিল, সব সময় নিজের খেলাকে শাণিয়ে নিতে কঠোর পরিশ্রম করত। ক্রিকেটে ওর অর্জন অবিশ্বাস্য। ক্রিকেটে টেকনিকের দিক দিয়ে সেরা ব্যাটসম্যানদের অন্যতম ছিল ও। ওর উইকেট পাওয়াও তাই ছিল একটা পুরস্কার। ওকে ছাড়া ক্রিকেট একটু রং হারাবে।
বীরেন্দর শেবাগ: জ্যাম (দ্রাবিড়ের ডাকনাম), তোমার সঙ্গে খেলতে পারাটা ছিল একই সঙ্গে তৃপ্তি আর গর্বের। ড্রেসিংরুমে তোমার উপস্থিতি সব সময়ই আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দিত। তোমাকে অনেক বেশি মিস করব।
কেভিন পিটারসেন: রাহুল দ্রাবিড়—কিংবদন্তি!! সরল, সাধারণ...অবিশ্বাস্য এক ক্যারিয়ারের জন্য তোমাকে অভিনন্দন!! ভারত অবশ্যই ‘দ্য ওয়াল’-এর শূন্যতা অনুভব করবে।
ক্রিস গেইল: দুর্দান্ত, অসাধারণ আন্তর্জাতিক এক ক্যারিয়ারের জন্য তোমাকে অভিনন্দন! দ্য গ্রেট লিজেন্ড রাহুল দ্রাবিড়!! দ্য ওয়ালকে অবশ্যই আমরা মিস করব!!
হরভজন সিং: পরশুর আগের দিন ও আমাকে ফোন করে জানাল এই সিদ্ধান্তের কথা। ওকে শুভকামনা জানিয়েছি। সবাই জানে ও ক্রিকেটের এক কিংবদন্তি। ও ছিল প্রেরণার অন্তহীন উৎসও। ও যেভাবে প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য নিজেকে তৈরি করত, আমরা সবাই সেটা দেখতাম। আমাদের সবার জন্য সেটা ছিল শিক্ষণীয়।

টেস্টে তাঁর কীর্তি
 দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান, ৫২.৩১ গড়ে ১৩২৮৮ ও চতুর্থ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি, ৩৬টি
 সবচেয়ে বেশি বল খেলা ব্যাটসম্যান, ৩১২৫৮
 সব দেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান
 ৩ নম্বরে ১০ হাজার রান করা একমাত্র ব্যাটসম্যান
 দুই শ ক্যাচ নেওয়া একমাত্র ফিল্ডার (২১০)
 চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান, ১৫৭৫
 দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফিফটি (৬৩) ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাউন্ডারি (১৬৫৪)
 সফলতম টেস্ট জুটির অংশীদার, শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে ৬৯২০ রান
 সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি জুটির অংশীদার, ৮৮টি
 একজনের সঙ্গে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি জুটির অংশীদার, টেন্ডুলকারের সঙ্গে ২০টি
 টানা ১৫ পঞ্জিকাবর্ষে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান, প্রথম জ্যাক ক্যালিস
 বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশিবার ম্যাচসেরা হওয়া ভারতীয় (৮)
 সবচেয়ে বেশিবার (১০) নড়বড়ে নব্বইয়ে আটকা পড়া ব্যাটসম্যান, যৌথভাবে টেন্ডুলকার ও স্টিভ ওয়াহর সঙ্গে

Sunday, 4 March 2012

টাস্কবারে ব্যক্তিগত নাম লেখা

টাস্কবারে ব্যক্তিগত নাম লেখা
টাস্কবারে সময়ের পাশে নিজের নাম লেখার জন্য Start “ Control Panel “ Regional and language options “ Customize “ Time ক্লিক “ এরপর AM ও PM-এর পাশে নিজের নাম লিখুন। শেষে Apply “ Ok (দুবার)। টাস্কবারে ঘড়ির পাশে নাম দেখাবে।
নাম বাতিল বা মুছে দেওয়ার জন্য একই নিয়মে গিয়ে AM ও PM-এর পাশে লেখা নাম মুছে দিয়ে Apply “ Ok (দুবার) করুন।
মো. শফিকুর রহমান

Saturday, 3 March 2012

ভাইরাস থেকে বাঁচতে

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্যআতঙ্কের নাম ভাইরাস এবং ওয়ার্ম। নানা উৎস থেকে কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে পেনড্রাইভ, ডিস্ক, মেমোরি কার্ডসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মাধ্যমে। আর ইন্টারনেট থেকেও কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভাইরাস।
ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, মানসম্মত হালনাগাদ অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা। অ্যান্টিভাইরাস থাকার পরও কিছু বিষয়ে সতর্কথাকা জরুরি।এর একটা হচ্ছে অটোরান সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া। সাধারণত বাইরের যন্ত্রাংশ (এক্সটারনাল ডিভাইস) থেকে কম্পিউটারে ভাইরাস ঢোকার হার বেশি। এসব যন্ত্রাংশেভাইরাস বা ওয়ার্মথাকলে যন্ত্রাংশটি কম্পিউটার চলা শুরু হলেই ভাইরাস কার্যকর হয়ে ওঠে। এসব যন্ত্র সরাসরি না চালানো ভালো।তাই অটোরান বন্ধ রাখতে হবে।
অটোরান বন্ধ করতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে Start\Run-এ গিয়ে gpedit.msc লিখে OK করুন। এবার নতুন উইন্ডো আসবে। এখান থেকে computer configuration নির্বাচন করুন। এরপর Administrative Templates\System-এ যান। এবার Turn off Autoplay-এ দুই ক্লিক করুন। এরপর ‘Turn off Autoplay’ সক্রিয় করতে হবে এবং ‘Turn off autoplay on’ বক্স থেকে ‘All drives’ নির্বাচন করতে হবে। এবার OK করলেই কম্পিউটারের সব ধরনের যন্ত্রের অটোরান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে কোনো পেনড্রাইভ বা অন্য যন্ত্র কম্পিউটারে লাগালেই সেটির ফাইলগুলো খুলবে না এবং ভাইরাসগুলো আক্রমণ করতে পারবে না।
অনেক সময় এক্সটারনাল ড্রাইভগুলো থেকে কম্পিউটারে তথ্য স্থানান্তরের সময়েও ভাইরাস ঢুকে পড়তে পারে। তাই ড্রাইভগুলো না খুলেই তথ্য আদান-প্রদান করার ব্যবস্থা করতে হবে। আর এর জন্য রয়েছে কিছু সফটওয়্যার। ভাইরাস ছড়ায় এমন ফাইলের বড় একটি অংশে .exe এক্সটেনশন থাকে।তাই পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য উৎস না হলে .exe এক্সটেনশনের ফাইল কম্পিউটারে না নেওয়াই ভালো।
—মাসুদ, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী)

Monday, 6 February 2012

'চিকনি চামেলি'র জের ধরে মুম্বাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

বিনোদন ডেস্ক গেল মাসে 'চিকনি চামেলি'র জের ধরে মুম্বাইয়ের এশটি হোটেলে ঘটে গেছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। যাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল দু'জন। আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটল সেই সংঘর্ষের। এবার একই পরিবারের নয় সদস্যের ওপর হামলা চালালো কিছু উচ্ছৃঙ্খল 'চিকনি চামেলি' ভক্ত। যার ফলে, ওই পরিবারের সবাই এখন হাসপাতালে ভর্তি এবং তাদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জানা গেছে, মুম্বাইয়ের দহিসারের মুভি জেম সিনেমা হলে ভাই, ভাবি ও তাদের সন্তান নিয়ে 'অগি্নপথ' ছবিটি দেখতে গিয়েছিলেন লুইস ও আমোল ভাইপে। ছবি ভালোই উপভোগ করছিলেন তারা। কিন্তু যখন 'চিকনি চামেলি' গানটি শুরু হয় তখন তাদের পেছনের সারিতে বসা ১০ স্কুল ছাত্র খুবই অশ্লীলভাবে নাচ এবং চিৎকার করে গাইতে শুরু করে। যা লুইস ও আমোল পরিবারের সদস্যদের অস্বস্তিতে ফেলে। এক সময় আমোল ও লুইস তাদের থামতে অনুরোধ করলে, বেড়ে যায় ছাত্রদের উৎপাতের মাত্রা। পরে হলের ম্যানেজার এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষ এসে ওই উচ্ছৃঙ্খল দর্শকদের এসে হল থেকে বের করে দেয়। কিন্তু ছবি শেষে যখন লুইস ও আমোল পরিবার হলের পার্কিং লটে আসে, দেখতে পায় তাদের গাড়ি ওই ছাত্ররা ভেঙে ফেলেছে এবং হকি স্টিক ও রড হাতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লুইস ও আমোল যখন গাড়ির কাছে পেঁৗছায় তখন, তাদের বেধড়ক পেটাতে শুরু কওে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বিতাড়িত যুবকরা। এতে সবচেয়ে বেশি আহত হন লুইস ও আমোলা। এছাড়াও মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হসপিটালের আইসিইউতে ভর্তি আছে আমোলের ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাবি। পরিবারের বাকি সদস্যরাও এখন হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তারা জানিয়েছেন 'চিকনি চামেলি'র এ তা-বের কথা। পুলিশ বখাটেদের আটক করেছে বলে জানা গেছে।

আইটেম গানে কারিশমা

বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন না দীর্ঘসময়। সম্প্রতি ‘ডেঞ্জারাস ইশক’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বলিউডে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন কারিশমা। বিক্রম ভাটের পরিচালনায় ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন কারিশমা। অভিনয়ের পাশাপাশি এবার অক্ষয় কুমার ও সোনাক্ষী সিনহা অভিনীত ‘রাওডি রাঠোর’ ছবির আইটেম গানেও দেখা মিলবে কারিশমার। বোঝাই যাচ্ছে, জোর আওয়াজ তোলার সব রকম প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছেন তিনি।
এরই মধ্যে প্রভু দেবার পরিচালনায় ‘রাওডি রাঠোর’ ছবির আইটেম গানে অভিনয়ের জন্য সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছেন কারিশমা। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিওআই। গানটির কোরিওগ্রাফি করবেন প্রভু দেবা নিজেই। বলিউডের বহুল আলোচিত আইটেম গান ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’ ও ‘চিকনি চামেলি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই গানটি তৈরি করবেন প্রভু দেবা।
১৯৯১ সালে ‘প্রেম কয়েদি’ ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করেছিলেন কারিশমা কাপুর। নব্বইয়ের দশকে বেশ কয়েকটি সফল বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ ছবিটি তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। স্বীকৃতি হিসেবে জিতে নেন ফিল্মফেয়ারের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। পরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আরও অনেক পুরস্কারও ঝুলিতে ভরেছেন তিনি। ২০০২ সালে ‘শক্তি’ ছবিতে তাঁর অভিনয় সব মহলে প্রশংসিত হয়। একই বছর অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে কারিশমার বাগদানের ঘোষণা দেন অমিতাভ বচ্চন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২০০৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করেন কারিশমা। বিয়ের পর থেকেই অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। অবশেষে ২০১১ সালে ‘ডেঞ্জারাস ইশক’ ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর।

ভারতের জন্য স্মৃতিকাতর সিরিজ

ছক্কা মেরে ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়েও নির্লিপ্ত থাকতে পারেন। সেই মহেন্দ্র সিং ধোনিও পরশু ‘সামান্য’ একটা টি-টোয়েন্টি জেতার পর উচ্ছ্বসিত! এমনই হওয়ার কথা। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে গৌতম গম্ভীরকে মিড উইকেট আর মিডঅনের মাঝখান দিয়ে চারটি মারতে দেখে ধোনির বুক থেকে যে পাথরবোঝা নেমে গিয়েছিল। অবশেষে হাপিত্যেশ করে মরতে থাকা ভারত বিদেশের মাঠে পেল একটি জয়ের দেখা।
মানুষের স্মৃতি বড় প্রতারক। উপমহাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের স্মৃতি তো আরও ক্ষীণ। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের ১০ মাসের মাথায় ফাইনাল জেতানো অধিনায়কেরই পদত্যাগের দাবি উঠে গেছে জনতার মঞ্চে! যে সাংবাদিকেরা মাস কয় আগেই স্তুতির বাণ ডাকিয়েছিলেন কলমে, সেই তাঁদের হাতেই এখন সমালোচনার চাবুক।
ধোনি অবশ্য জোর দিয়েই বলছিলেন, একটা জয় পেলেই ছবিটা পাল্টে যাবে। দলের মধ্যে আটকে থাকা গুমোট বাতাস উড়িয়ে দিতে দরকার একটা মাত্র জয়। অবশেষে বহু আরাধ্য সেই জয়টা মেলবোর্নের টি-টোয়েন্টিতে পেয়েছে ভারত। আজ শুরু ত্রিদেশীয় সিবি সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসের জন্য জরুরি জ্বালানিও পেয়েছে ধোনির দল।
ধোনির জন্য বাড়তি সুসংবাদ ওই ম্যাচে খেলা গম্ভীরের অপরাজিত ফিফটির ইনিংসটি। সব ধরনের ক্রিকেটে আগের ১৫ ইনিংসে মাত্র দুটি ফিফটি ছিল গম্ভীরের। পরশুর ইনিংসটিতে ছিল সেই বৃত্ত ভাঙার জেদ। গম্ভীরের ব্যাটেই কিন্তু ২০০৭-০৮ সিবি সিরিজ জিতেছিল ভারত। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৪০৪ রান করেছিলেন সে সময় ক্যারিয়ারেরই সেরা ফর্মে থাকা বাঁহাতি। আরেকটি সিবি সিরিজ আসন্ন বলেই কি গম্ভীরের ব্যাটের ঘুম ভাঙল?
চার বছর আগের সেই সিরিজ জয়ের নায়ক ছিলেন আরও একজন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ওই টুর্নামেন্টের দুটি ফাইনালে শচীন টেন্ডুলকারের ইনিংস দুটি ছিল যথাক্রমে অপরাজিত ১১৭ ও ৯১। বিশ্বকাপ জয়ের পর শুধু টেস্টেই মনোনিবেশ করা টেন্ডুলকার এই ম্যাচ দিয়ে আবারও ওয়ানডেতে ফিরছেন। এই প্রত্যাবর্তনে ফিরে এসেছে তাঁর শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির প্রসঙ্গও। টেন্ডুলকারের জন্য এটা নতুন আরেক চ্যালেঞ্জ। আগামী বিশ্বকাপের দলেও তাঁর থাকা হবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই মিলে যাবে এই সিরিজ থেকে।
ভারত অবশ্যই চায় সিবি সিরিজ গতবারের চিত্রনাট্যই অনুসরণ করুক। এমনিতে মিল তো আছেই। গতবারের মতো এবারও টুর্নামেন্টে তৃতীয় দল হিসেবে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ওয়েবসাইট।

আইপিএল 5 নিলামে বিক্রি হলেন যারা

শাহরুখ খান আর নিতা আম্বানি। আইপিএলে দু'জনই দুই ফ্রাঞ্চাইজির মালিক। আইপিএলের পঞ্চম আসরের আগে গতকাল ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত নিলামে অংশ নিতে এলেন তারা দু'জন
খেলোয়াড় মূল্য ক্লাব
ম্যাককালাম ৪.৪১ কোটি রুপি নাইট রাইডার্স
রবীন্দ্র জাদেজা ৯.৭২ কোটি রুপি চেন্নাই সুপার কিংস
মুরালিধরন ১.০৭ কোটি রুপি রয়েল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালোর
মাহেলা জয়াবর্ধনে ৬.৮৬ কোটি রুপি দিলি্ল ডেয়ার ডেভিলস
হার্শেল গিবস ২৪.৫ লাখ রুপি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
ব্র্যাড হজ ২.৩ কোটি রুপি রাজস্থান রয়্যালস
পার্থিব প্যাটেল ৩.১৫ কোটি রুপি ডেকান চার্জার্স
দীনেশ চান্দিমাল ২৪.৫ লাখ রুপি রাজস্থান রয়্যালস
আন্দ্রে রাসেল ২.২৫ কোটি রুপি দিলি্ল ডেয়ার ডেভিলস
মিচেল জনসন ১.৫ কোটি রুপি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
আরপি সিং ৩ কোটি রুপি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
বিনয় কুমার ৫ কোটি রুপি রয়েল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালোর
শ্রীশান্ত ২ কোটি রুপি রাজস্থান রয়্যালস
রমেশ পওয়ার ৮০ লাখ রুপি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব
ব্র্যাড হগ ৯০ লাখ রুপি রাজস্থান রয়্যালস
সুনিল নারিন ৩.৫ কোটি রুপি নাইট রাইডার্স
রবিন পিটারসন ৫০ লাখ রুপি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
ড্যানিয়েল হ্যারিস ৩৫ লাখ রুপি ডেকান চার্জার্স
কেভিন কুপার ২৫ লাখ রুপি রাজস্থান রয়্যালস
জেমস ফকনার ৯৫ লাখ রুপি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব
আজহার মাহমুদ ১ কোটি রুপি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব
থিসারা পেরেরা ৩.২৫ কোটি রুপি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

সৌরভকে বিপিএলে আসতে দেয়নি ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) নিলাম হয়ে গেছে অনেক আগে। ক্রিস গেইল, শহিদ আফ্রিদিদের নিলামে তুলে বিপিএল শুরুতেই জমজমাট হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছে বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। এখন অপেক্ষা মাঠে গড়ানোর। ৯ ফেব্রুয়ারি বিপিএলের জমজমাট উদ্বোধন। এরই ফাঁকে গতকাল কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা প্রকাশ করেছে চাঞ্চল্যকর এক সংবাদ। তারা লিখেছে, বিপিএলকে আকর্ষণীয় করতে পাঁচজন ভারতীয় খেলোয়াড় চেয়েছিল বাংলাদেশ; কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ চেয়েছিল অন্তত সৌরভ গাঙ্গুলিকে। কারণ 'দাদা'র বিশাল জনপ্রিয়তা। দাদার এ জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে বিপিএল আকর্ষণীয় করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। অবসরে চলে যাওয়া সত্ত্বেও সৌরভ গাঙ্গুলিকে ছাড়তে রাজি হয়নি ভারতীয় বোর্ড। আনন্দবাজারের মতে, এর একমাত্র কারণ, ভারতীয় বোর্ড চাইছে না আইপিএলের সমান্তরাল আর কোনো লীগ জমজমাট হয়ে উঠুক। তাহলে আইপিএলের জৌলুশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আনন্দবাজারের শঙ্কা আইপিএল-বিপিএল নিয়ে প্রতিবেশী দু'দেশের বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। আনন্দবাজারের গতকালের সংস্করণে প্রকাশিত হুবহু সংবাদটি এ রকম_ 'আইপিএলের মঞ্চ ঘিরে উত্তাল আবহাওয়া এসে পড়া। যেটা নিলামের দর হাঁকাহাঁকির মতো প্রকাশ্যে ঘটছে না। ঘটছে পর্দার আড়ালে। কিন্তু সাংঘাতিক আতঙ্কের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে আগামী দিনে। সাংঘাতিক আতঙ্ক এই কারণে, যেহেতু উপমহাদেশের ঐক্য পর্যন্ত চুরমার হতে চলেছে। নতুন এই সংঘাত বেধেছে ভারত বনাম বাংলাদেশের মধ্যে এবং এর কেন্দ্রে রয়েছে বাংলা ক্রিকেট লীগ। আইপিএলের ঢঙেই যা এবার শুরু করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট কর্তারা। ভারতের মতোই বিশাল টাকা দিয়ে যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা দল কিনেছে। বিশাল টাকায় শহিদ আফ্রিদি, ক্রিস গেইলের মতো তারকারা বিক্রি হয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্তারা খুব চেয়েছিলেন, এই টুর্নামেন্টের জন্য ভারত থেকে অন্তত জনা পাঁচেক ক্রিকেটারকে ছাড়া হোক। কিন্তু ভারতীয় বোর্ড অনুমতি তো দেয়ইনি, উল্টে অপেক্ষা করিয়ে রেখে রেখে উত্তর পর্যন্ত দেয়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্তারা এতে প্রবল অপমানিত বোধ করেছেন। শনিবার বেঙ্গালোরের পাঁচতারা হোটেলের নিলাম কক্ষে সাহারা পুনে ওয়ারিয়র্সের টেবিলে যার অধিনায়ক হিসেবে বসার কথা ছিল, সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এর মধ্যে এসে পড়েছেন। একেবারে শেষ বেলায় সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিপিএল কর্তারা। 'তোমাকে আমরা যে কোনো মূল্যে চাই' বলে তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে সৌরভের জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে বিপিএল কর্তারা ভেবেছিলেন, 'দাদা'কে আনতে পারলে আর কোনো ভারতীয় ক্রিকেটার না পেলেও চলবে। সৌরভ ভীষণভাবে চেয়েও ছিলেন খেলতে। অনুমতি চেয়ে ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেন। আশ্চর্যের হচ্ছে, অবসর নিয়ে ফেলা সৌরভকেও অনুমতি দেওয়া হয়নি। ওয়াকিবহাল মহলে অনেকে মনে করছেন, ভারতীয় বোর্ড কর্তারা ভয় পাচ্ছেন আইপিএলের মতো একই রকম সফল কোনো টুর্নামেন্ট অন্য দেশে হলে আইপিএলের জৌলুশ কমে যাবে। তাই তারা প্লেয়ার ছাড়তে চাইছেন না। সৌরভকে প্লেয়ার হিসেবে না পেয়ে এখন বিপিএল কর্তারা চেষ্টা করছেন যদি ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবেও অন্তত পাওয়া যায়। শ্রীলংকা এবং পাকিস্তান বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্কহানি আগেই ঘটেছে। এবার বাংলাদেশও বিক্ষুব্ধের তালিকায় চলে গেল। যেখানে আর ক'দিন পরই এশিয়া কাপ খেলতে যেতে হবে ধোনির টিমকে। দারুণ কিছু আতিথেয়তা পাওয়ার আশা না করাই ভালো। অনেকের এও মনে হচ্ছে, বেঙ্গালোরের নিলাম নিয়ে ভারতীয় বোর্ড কর্তাদের যা আগ্রহ, তার চেয়ে অনেক বেশি কৌতূহল নিয়ে তারা দেখতে বসবেন ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু বিপিএল। ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টস সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের স্বত্ব কিনে নেওয়ায় ভারতীয় বোর্ড কর্তারা নড়েচড়ে উঠেছেন। সোনার রাজহাঁস কি তাহলে ও দিকেও ডিম পাড়বে?'

সাহারা-বিসিসিআই সম্পর্ক ছিল ‘একপক্ষীয় ভালোবাসা’ !

ব্যাপারটি নাকি এত দিন ছিল একপক্ষীয় ভালোবাসার মতো। সাহারা ইন্ডিয়া ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার সম্পর্কটা নাকি ছিল একপক্ষীয় ভালোবাসা। কিন্তু সাহারার মনোভাবটি এবার বেশ কঠোর। অনেক হয়েছে আর না! অনেকটা অভিমান করেই সেই একপক্ষীয় ভালোবাসায় ইতি টানল ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই করপোরেট প্রতিষ্ঠানটি।
সম্পর্ক বলতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের পৃষ্ঠপোষকতা ও আইপিএলে পুনে ওয়ারিয়র্স নামের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা। বিসিসিআইয়ের সামন্তবাদী চিন্তা-চেতনা ও সিদ্ধান্তের বেড়াজালে অতিষ্ঠ সাহারা ইন্ডিয়া এবার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে তারা ভারতীয় ক্রিকেট দলকে আর পৃষ্ঠপোষকতা দেবে না। এই সিদ্ধান্তে ইতি ঘটেছে ২০০২ সাল থেকে চলে আসা এক অম্ল-মধুর সম্পর্কের।
সাহারা ইন্ডিয়ার মালিক সুব্রত রায়ের ছেলে সুশান্ত রায় বলেছে, ‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা ছিল আবেগময়। কিন্তু একপক্ষীয় আবেগ। তাই সেই আবেগকে টেনে নিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হলো না।’ তিনি জানান, পুনে ওয়ারিয়র্সের মূল খেলোয়াড় যুবরাজ সিংয়ের অসুস্থতার কারণে তাঁর পরিবর্তে অন্য খেলোয়াড় নেওয়ার দাবি বিসিসিআই প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফুসফুসের অসুস্থতা যুবরাজ সিংকে এবারের আইপিএল থেকে দূরেই রাখবে। সাহারা ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি পুনে ওয়ারিয়র্সের দাবি ছিল গতকাল শুরু হওয়া নিলামের আগেই এ ব্যাপারে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত। সাহারা বিসিসিআইকে অনুরোধ করেছিল, তারা যেন যুবরাজ সিংয়ের বদলে অন্য কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার অনুমতি প্রদান করে। কিন্তু পুরো রাত বাক-বিতণ্ডার পর বিসিসিআই সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যানই করে।
সঙ্গে সঙ্গে সাহারা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছেদ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। পুনে ওয়ারিয়র্সের মালিকানাও একই সঙ্গে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেয় সাহারা।
এত দিন আড়ালেই ছিল ব্যাপারটি। সম্পর্কহানির পর জানা গেল, ২০০৮ সালে আইপিএল শুরুর বছরে সাহারা একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনতে চেয়েও বিসিসিআইয়ের অনুমতি পায়নি। অথচ সাহারা তখনো ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। জাতীয় ক্রিকেট দলকে দীর্ঘদিন ধরে সেবা করে যাওয়া একটি প্রতিষ্ঠান আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনতে চেয়েও ব্যর্থ হওয়াকে সুশান্ত রায় বিসিসিআইয়ের চরম স্বেচ্ছাচারিতা হিসেবেই বর্ণনা করেছেন।
সাহারা ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও ভারতের অন্যান্য ক্রীড়ার সঙ্গে নিজেদের জড়িত রাখবে। বিভিন্ন প্রদেশে অত্যাধুনিক ক্রীড়া একাডেমি, দুস্থ ক্রীড়াবিদদের সাহায্যার্থে তহবিল গঠন প্রভৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থেকে সাহারা খেলাধুলার সেবা করে যাবে বলেই জানিয়েছে।
এদিকে আইপিএল থেকে বিতারিত কমিশনার লোলিত মোদি কাল সাহারা ও বিসিসিআইয়ের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর মুখ খুলেছেন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে। সেখানে মোদি লিখেছেন, সাহারার ব্যাপারটি আরও একটি উদাহরণ যে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বিসিসিআই কী ধরনের আচরণ করে। এটা নির্দেশ করছে, স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের সম্পর্কটা কোন পর্যায়ের। টিএনএন।

Sunday, 5 February 2012

ভারতকে ছেড়ে গেল সাহারা গ্রুপ

মাঠে যখন ধুঁকছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল, তখন মাঠের বাইরে বড় একটা ধাক্কা এসে লাগল ভারতীয় ক্রিকেটে। জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে এক যুগের সম্পর্ক চুকিয়ে দিল সাহারা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রধান স্পনসর কাল স্পনসরশিপ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৩ আইপিএলের জন্য ক্রিকেটার নিলাম শুরুর আগ মুহূর্তে আইপিএলের দল পুনে ওয়ারিয়র্সের মালিকানাও ছেড়ে দিয়েছে সাহারা।
তবে এভাবে সাহারার সরে দাঁড়ানোর পেছনে ভারতের বাজে পারফরম্যান্সের কোনো সম্পর্ক নেই। দেশের বাইরে টানা দুটি টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ ও ৮টি টেস্টে পরাজিত ভারতীয় দলের স্পনসরশিপ থেকে তারা সরে দাঁড়িয়েছে বিসিসিআইর অবিচারের শিকার হয়ে। সাহারার উপলব্ধি, বোর্ডের সঙ্গে তাদের সম্পর্কটা এত দিন ছিল ‘একতরফা, আবেগময়’!
সিদ্ধান্তটাকে আকস্মিক মনে হলেও অনেক দিন থেকেই ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ ছিল। ক্ষোভের কারণগুলোও তুলে ধরেছেন সাহারা গ্রুপের প্রধান সুব্রত রায়। যার মধ্যে আছে ২০০৮ সালে প্রথম আইপিএলে দল না পাওয়া। সাহারার দাবি, কৌশলগত অজুহাত দেখিয়ে তাদের আইপিএল দলের মালিকানা দেওয়া হয়নি।
গত বছর আইপিএলের নতুন দল পুনে ওয়ারিয়র্সের মালিকানা পেলেও সেখানেও বিসিসিআই স্বচ্ছ ছিল না। টুর্নামেন্টে ৯৪টি ম্যাচ দেখিয়ে নতুন দুটি দলের প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করেছিল বিসিসিআই। কিন্তু টুর্নামেন্টে হয়েছে ৭৪টি ম্যাচ। পুনে ওয়ারিয়র্সের মালিকপক্ষ বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানালেও কান দেয়নি বিসিসিআই।
ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে সর্বশেষ ঝামেলাটা হয়েছে যুবরাজ সিংকে নিয়ে। ফুসফুসে টিউমারের কারণে আগামী এপ্রিলে শুরু আইপিএল খেলতে পারবেন না গত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর জন্য বরাদ্দ ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার দিয়ে যুবরাজের বিকল্প খেলোয়াড় কিনতে চেয়েছিল পুনে। কিন্তু বিসিসিআই এতেও বাধা দিয়েছে। সাহারার চোখে এটি ‘ন্যায়বিচার’-এর লঙ্ঘন।
২০০০ সাল থেকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসর সাহারা। বিসিসিআইর সঙ্গে তাঁদের সর্বশেষ চার বছরের চুক্তিটি ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের। যা শেষ হওয়ার কথা আগামী বছরের ডিসেম্বরে। সরে দাঁড়ালেও আগামী দুই থেকে চার মাস বিসিসিআই এবং খেলোয়াড়দের ‘স্পনসরশিপ মানি’ দিয়ে যাবে সাহারা। যাতে বোর্ড এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন স্পনসর খুঁজে নিতে পারে। এএফপি, ওয়েবসাইট।

Saturday, 4 February 2012

সিডি ড্রাইভ/পেনড্রাইভের আইকন চলে আসবে ডেস্কটপে

কম্পিউটারে সিডি অথবা পেনড্রাইভ ঢোকালে অনেক সময় মাই কম্পিউটারে ঢুকে তা ওপেন করতে হয়। ইচ্ছে করলে আপনি Desktop media নামের একটি সফটওয়্যার দিয়ে ডেস্কটপ থেকেই সিডি/পেনড্রাইভ ওপেন করতে পারবেন। মাত্র ৩৭৬ কিলোবাইটের এই সফটওয়্যারটি http://mediafire.com/? n1y2ynjdggw থেকে নামিয়ে নিন। এখন জিপ ফাইলটি ওপেন করে সফটওয়্যারটি ইনস্টল করুন। এর পর থেকে সিডি বা পেনড্রাইভ পিসিতে ঢোকালে ডেস্কটপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার শর্টকার্ট আইকন চলে আসবে। তবে আপনি ইচ্ছে করলে অন্যান্য ড্রাইভের আইকনও ডেস্কটপে আনতে পারেন।
খেয়াল করুন, নিচে ডান পাশে Desktop media নামের একটি আইকন এসেছে। আইকনে ক্লিক করে Option-এ যান, কোন কোন ড্রাইভ পিসিতে সংযুক্ত হলে তার শর্টকার্ট আইকন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেস্কটপে আসবে তা এখান থেকে নির্বাচিত করা যাবে। —খালেদ মাহমুদ খান
খালেদ মাহমুদ খান
খালেদ মাহমুদ খান
২০১২.০২.০২ ১১:০৭
এখানে লিংকটিতে স্পেস বসানোয় ঢুকা যাচ্ছে না ।তাছাড়া উক্ত লিংকটি আপডেট করা হয়েছে ।দয়া করে এখান থেকে সফটওয়্যারটি নামিয়ে নিন - http://www.mediafire.com/?ku1muk6b2p2man3
খালেদ মাহমুদ খান
খালেদ মাহমুদ খান
২০১২.০২.০২ ১১:৪০
লিংকটি ক্রুটিপূর্ন ।আপনারা ইচ্ছে করলে এখান থেকে সফটওয়্যারটি নামাতে পারেন > http://www.softpedia.com/get/Desktop-Enhancements/Other-Desktop-Enhancements/Desktop-Media.shtml এই অনাকাংখিত অসুবিধার জন্য দু:খিত ।
MA.Mahmud
MA.Mahmud
২০১২.০২.০২ ২৩:০৯
http://www.softpedia.com/dyn-postdownload.php?p=118801&t=4&i=1

স্প্যামের বিরুদ্ধে একাট্টা

সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও ইয়াহু, শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট করপোরেশন, আমেরিকান অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট একটি বিষয়ে একমত হয়েছে। এসব খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান তাদের অভিন্ন শত্রু স্প্যাম ই-মেইল ও ফিশিং হামলা যৌথভাবে মোকাবিলা করতে রাজি হয়েছে।
ইন্টারনেটের জগতে আধিপত্য বিস্তারকারী এসব প্রতিষ্ঠান গত সোমবার জানিয়েছে, তারা ব্যাংক অব আমেরিকা, পেপ্যাল ও অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে এই যুদ্ধ করবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে ডিএমএআরসি ডট ওআরজি নামে একটি কারিগরি দলগঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে প্রায় দেড় বছর ধরে আলোচনা করেছে।
ডিএমএআরসি ডট ওআরজির চেয়ারম্যান ব্রেট ম্যাকডয়েল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিবছর এসব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ফিশিং হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া লাখ লাখ স্প্যাম ই-মেইল এসে জমা হয়। এসব মেইল মানুষকে ঠকাচ্ছে। এগুলো যেকোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে। ম্যাকডয়েল বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে এসব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিষ্ঠানগুলো একত্রে এসবের বিরুদ্ধে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ —এএফপি অবলম্বনে রোকেয়া রহমান

ছবি এঁকে গুগলে ছবি খোঁজা

শব্দের ব্যবহার করে গুগলে ছবি খোঁজা হলে কাঙ্ক্ষিত ছবিটি অনেক সময় খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়। কারণ, ছবির ক্যাপশন বা ট্যাগের সঙ্গে ছবি সংগতিপূর্ণ না হলে কাঙ্ক্ষিত ছবি বের করা দুষ্কর। গুগলে ছবি খুঁজতে সার্চ বক্সে শব্দ লিখতে হয় বা ছবি সার্চ বক্সে টেনে এনে সেই ছবির মতো ছবি খোঁজা যায়। তবে, অস্ট্রিয়ান এক ডেভেলপার ছবি খোঁজার নতুন একটি টুল তৈরি করেছেন বলে ম্যাশএবল জানিয়েছে।
ছবি এঁকে বা ওয়েব ক্যামের সাহায্যে ছবি তুলে সে ছবির অনুরূপ ছবি খোঁজার নতুন এ টুলের নাম ‘আন-অফিসিয়াল গুগল ইমেজ সার্চ বাই ড্রয়িং’।
টুলটির সাহায্যে ছবি আঁকা যায় এবং কম্পিউটার থেকে ছবি ‘ড্রাগ অ্যান্ড ড্রপ’ করা যায়। পাশাপাশি টুলটিতে ওয়েব ক্যামের সাহায্যে ছবি তোলার সুবিধাটিও রয়েছে। এর মাধ্যমে আঁকা বা তোলা ছবি ব্যবহার করে ছবিগুলোর অনুরূপ ছবির খোঁজ করা যায়।
টুলটি তৈরি করেছেন অস্ট্রিয়ান ডেভেলপার ফ্রাঞ্জ এনজেনহফার।

আফ্রিকায় প্রথম ট্যাবলেট বানাল কঙ্গো

ইউরোপ এবং এশিয়ায় ট্যাবলেট নিয়ে মাতামাতি থাকলেও আফ্রিকার কোনো দেশ থেকে এত দিন কোনো ট্যাবলেট তৈরি হয়নি। ‘আফ্রিকার স্টিভ জবস’খ্যাত কঙ্গোর উদ্ভাবক ভেরোন ম্যানকোউয়ের তৈরি ‘ওয়ে-সি’ ট্যাবলেটটিই আফ্রিকা মহাদেশ থেকে তৈরি হওয়া প্রথম টাচ ট্যাবলেট। শিগগিরই এ ট্যাবলেটটি কঙ্গোর বাজারে আসবে বলে দাবি করেছেন ২৬ বছর বয়সী উদ্ভাবক ম্যানকোউ।
ম্যানকোউ তাঁর উদ্ভাবিত ট্যাবলেটটির নাম দিয়েছেন ‘ওয়ে-সি’ যার অর্থ নক্ষত্রের আলো। ৭.৪ ইঞ্চি বাই ৬.৭ ইঞ্চি মাপের ট্যাবলেটটির ওজন ৩৮০ গ্রাম। এতে রয়েছে ওয়াই-ফাই, ৪ গিগাবাইট মেমোরি সুবিধা।
ম্যানকোউ জানিয়েছেন, প্রযুক্তির দিক থেকে ওয়ে-সি ট্যাবলেটটি বাজারে অন্যান্য ট্যাবলেটের সমকক্ষ। এমনকি অ্যাপলের আইপ্যাডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো ডিভাইস।
ডিভাইসটি তৈরিতে কাজ করেছে ম্যানকোউ প্রতিষ্ঠান ‘ভিএমকে’। এর যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়েছে চীনে। কারণ হিসেবে ম্যানকোউ জানিয়েছেন, খরচ এবং কারখানা সুবিধার কথা। পশ্চিম আফ্রিকার ১০টি দেশ ছাড়াও বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও ভারতের বাজারে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়ে-সি ট্যাবলেটটি বাজারে আসবে। ডিভাইসটির দাম ২৯৯ ডলার।

পাবলিক কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করল ফেসবুক

ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক এখন পাবলিক কোম্পানি। ফেসবুক শেয়ারবাজারে আসছে এ খবর আগেই প্রচারিত হয়েছিল। ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এক হাজার কোটি ডলার মূল্যের আইপিও ছাড়ার কথা থাকলেও শুরুতে ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের আইপিওর জন্য আবেদন করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। শেয়ারবাজারে আইপিও ছেড়ে সিলিকন ভ্যালির অন্যতম পাবলিক কোম্পানি হিসেবে নাম লিখিয়েছে ফেসবুক।
ফেসবুকের শেয়ার আইপিওর বুকরানার হিসেবে মর্গান স্ট্যানলি ছাড়াও আরও চারটি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পেয়েছে বলেই জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স । প্রতিষ্ঠান চারটি হচ্ছে—গোল্ডম্যান স্যাচ, ব্যাংক অব আমেরিকা মেরিল লিঞ্চ, বারক্লেইস ক্যাপিটাল এবং জেপি মরগ্যান।
মোট ২০৯ পাতার আবেদনটির ৪৫ নম্বর পাতায় জাকারবার্গ কত শেয়ার কিনতে পারবেন, সে তথ্য জানানো হয়েছে। জাকারবার্গ বি শ্রেণীর ১২ কোটি শেয়ার কিনতে পারবেন, তবে পাবলিক স্টকে যাওয়ার পরই তা প্রথম শ্রেণীর হয়ে যাবে। ৪৯ পাতায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সালের দাম অনুসারে ফেসবুকের বি শ্রেণীর শেয়ার মূল্য হচ্ছে .৮৩ ডলার।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ডরমেটরিতে ২০০৪ সালে মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুক নামের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছিলেন। ক্ষুদ্র সে প্রচেষ্টাই আজ আইপিও ছাড়ার পর পৃথিবীর সেরা ১০টি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক পাবলিক কোম্পানির একটিতে পরিণত হচ্ছে বলেই বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন। ম্যাকডোনাল্ডস, ক্রপ, আমাজন ডট কম, ভিসা ইনকরপোরেটেড এবং ব্যাংক অব আমেরিকার মতো শীর্ষস্থানীয় মার্কিন পাবলিক কোম্পানিগুলোর মতই ফেসবুক একটি নামকরা পাবলিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে—এমনটাই আশা করছেন বিশ্লেষকরা। মার্ক জাকারবার্গকেও পরবর্তী সময়ের বিল গেটস এবং স্টিভ জবস ভাবছেন তাঁরা।
বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি চিঠিতে জাকারবার্গ ফেসবুক তৈরির উদ্দেশ্য, সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয়ে বিশদ লিখেছেন। তাঁর চিঠির মূল বক্তব্য হচ্ছে, তিনি একটি সামাজিক উদ্দেশ্য নিয়ে নেমেছেন, যাতে বিশ্বকে আরও বেশি মুক্ত এবং যুক্ত রাখা যায়।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে মোট সাড়ে ৮৪ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছেন বলেই আইপিও আবেদনে উল্লেখ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

ক্যাটরিনাকে ডিঙিয়ে ‘সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত’ কারিনা

২০১১ সালের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বলিউডের আবেদনময়ী অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। সম্প্রতি আইটাইমসডটকম আয়োজিত অনলাইন ভোটিংয়ে অন্তত পৌনে চার লাখ ভোট নিজের ঝুলিতে ভরে সেরা ৫০ কাঙ্ক্ষিত নারীর তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই তারকা।
এই মুহূর্তে বড় বোন কারিশমা কাপুরের সঙ্গে লন্ডনে ছুটি কাটাচ্ছেন কারিনা। সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নারীর তকমা জিতে কেমন লাগছে জানতে চাইলে কারিনা বলেছেন, ‘প্রতি বছরই মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়। এবার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নারী হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় আমি রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
নিজের চোখকেই সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বলে দাবি করেছেন কারিনা। আর নিজেকে পুরোপুরি আধুনিক নারী বলেই মানেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি সাহসী এবং জীবনকে উপভোগ করার তত্ত্বে বিশ্বাসী। আমি সব সময় তা-ই করি, যাতে আমার মন সায় দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি নিজের মতো থাকতে এবং অন্যের কাছে নিজেকে রুচিশীল ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে।’ নিজের পছন্দের হিসেবে সৌন্দর্য, আভিজাত্য ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অপূর্ব সংমিশ্রণের কারণে প্রয়াত মহারানি গায়ত্রী দেবীকেই সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নারীর আসন দিতে চান কারিনা।
উল্লেখ্য, গত বছর সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নারীর তালিকায় শীর্ষে ছিলেন ক্যাটরিনা কাইফ। এবার তাঁকে পেছনে ফেলে গর্বিত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কারিনা বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে আমাকেও কেউ না কেউ টপকে যাবেন। কাজেই এসব বিষয় নিয়ে না ভেবে বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।’
২০১১ সালের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নারীর তালিকায় সেরা দশের মধ্যে কারিনার পরে রয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ, দীপিকা পাডুকোণ, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, আনুশকা শর্মা, বিদ্যা বালান, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ, নার্গিস ফাখরি, কঙ্গনা রানাউত ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।

পাঠকের মন্তব্য

Rabbani Chowdhury
Rabbani Chowdhury
২০১২.০২.০৪ ২০:৪৮
অভিনেত্রী কারিনা কাপুর বলেন 'আমি সাহসী এবং জীবনকে উপভোগ করার তত্ত্বে বিশ্বাসী।' - জীবনের জন্য জন্য একটি ভালো দর্শন বা তত্ত্ব।
Rabbani Chowdhury
Rabbani Chowdhury
২০১২.০২.০৪ ২০:৫৫
অভিনেত্রী কারিনা কাপুর বলেন ‘ভবিষ্যতে আমাকেও কেউ না কেউ টপকে যাবেন।' - এটি একটি বড় উপলদ্ধি প্রতিযোগীদের জন্য।

Friday, 3 February 2012

‘হিট’ ওয়ার্নারের সুইচ হিট

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ডেলিভারিটি ছিল লেগ স্টাম্পে। বোলার বল ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বাঁহাতি থেকে ডানহাতি হয়ে গেলেন ডেভিড ওয়ার্নার। বলকে পাঠিয়ে দিলেন গ্যালারিতে, ১০০ মিটার লম্বা ছয়। তবে কোন এলাকা দিয়ে ছয় হলো বলা মুশকিল। বাঁহাতির জন্য জয়গাটা এক্সট্রা কভার, কিন্তু ‘ডানহাতি’ ওয়ার্নারের জন্য হয়ে গেল মিড উইকেট!
ঘটনা পরশু সিডনিতে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টি-টোয়েন্টির। আধুনিক ক্রিকেটের নবতম আবিষ্কারগুলোর একটি এই সুইচ হিট। উদ্ভাবক কেভিন পিটারসেন, মূলত মুত্তিয়া মুরালিধরনকে শায়েস্তা করতে এ অস্ত্রটি আবিষ্কার করেছিলেন ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান। দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায় এই শট। এখন তো শটটাকে প্রায় নিজের করে নিয়েছেন ওয়ার্নার। টি-টোয়েন্টি-ওয়ানডেতে খেলেন মোটামুটি নিয়মিতই। মেলবোর্নে আজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও হয়তো দেখা যাবে ওয়ার্নারের এই সুইচ হিট।
তবে শুরু থেকেই এই সুইচ হিটের সঙ্গে লেগে আছে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন। পরশু ওয়ার্নারের চোখ ধাঁধানো সুইচ হিটে প্রশ্নটা উঠছে আবারও। এখন পর্যন্ত সুইচ হিট আইসিসির দৃষ্টিতে বৈধ। কিন্তু বোলার যদি ডান হাত থেকে বাঁ হাতে বোলিং করে কিংবা বাঁ হাত থেকে ডান হাতে, তাহলে ডেলিভারির আগে আম্পায়ারকে বলে নিতে হয়। বোলার রানআপ শুরু করার পর ফিল্ডাররা জায়গা পরিবর্তন করতে পারেন না। তাহলে ব্যাটসম্যানরা কেন এই সুবিধা পাবেন? প্রশ্ন আছে আরও, ওয়াইড কিংবা এলবিডব্লু দেওয়ার ক্ষেত্রে আম্পায়ার বিবেচনায় নেবেন কোনটিকে, মূল পজিশন নাকি নতুন পজিশন?
উদ্ভাবক পিটারসেনের যুক্তি ছিল, সুইচ হিটে শুধু ব্যাটসম্যানরা নন, বাড়তি সুবিধা পান বোলাররাও। এই শট খেলতে অনেক ঝুঁকি নিতে হয় ব্যাটসম্যানকে, বোলারের উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায় অনেক। কাজেই এটার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। কাল অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ সম্মেলনে এটা নিয়ে কথা বলতে হলো ডেভিড হাসিকে। এই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টের অভিমত, অবৈধ ঘোষণা নয়, সুইচ হিটকে বরং উপভোগ করা উচিত, ‘উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায় এই শটে। ডেভ (ওয়ার্নার) দারুণ এক ব্যাটসম্যান, ডান-বাঁ দুই হাতেই খেলতে পারে। সুইচ হিটকে অবশ্যই চলতে দেওয়া উচিত। এখন তো সবকিছুতেই টি-টোয়েন্টি প্রভাব, টেস্টে চার-পাঁচ করে রান উঠছে। কে জানে, একদিন হয়তো দেখা যাবে কেউ টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি ছোঁবে সুইচ হিটে ছয় মেরে!’
তবে সুইচ হিট যে বোলারের জন্য বিরক্তিকর, নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই সেটা জানালেন মজা করে, ‘নেটে আমার বোলিংয়ে ডেভ (ওয়ার্নার) এই শট প্রায়ই খেলে এবং খুব বিরক্ত লাগে। থামানোর জন্য আমি ওকে বিমার দিয়েছিলাম। চেষ্টা করেছিলাম ওর মাথায় লাগানোর। কাজে লাগেনি, উল্টো ও আরও মেরেছে।’ তবে সুইচ হিট খেলতে যাওয়া ব্যাটসম্যানকে থামাতে কার্যকর একটা অস্ত্রও বাতলে দিয়েছেন ছোট হাসি, ‘ব্যাটসম্যানের ঠিক পায়ের আঙুলে বল করতে হবে, যাতে হাত খুলতে না পারে।’ ওয়েবসাইট।

Thursday, 2 February 2012

বোকা নিয়ে লেখা -বোকা সমাচার

------------------------------

 অন্যকে বোকা বানানোর সিস্টেম!

আপনি যদি মদনবাবু (হাবাগোবা) স্বভাবের হন, তাহলে আপনাকে নিশ্চয়ই যুগে যুগে, কালে কালে কতজনে যে কতভাবে ধোঁকা দিয়ে বোকা বনে গিয়েছে তার হিসাব নেই। আপনিও আর বসে থাকবেন কেন? অপরকে বোকা বানানোর আধুনিক ফর্মুলা শিখে নিন এক্ষুনি—
১. অনেকদিন ধরে আপনাকে কেউ কোনো কিছু উপহার দিচ্ছে না? এক কাজ করুন, আপনার নিকটস্থ বন্ধু-বান্ধবকে বলুন—ওমুক তারিখে আমার বিয়ে, তোদের সবার দাওয়াত! ব্যস, কাম হয়ে গেছে! সবাই উপহার সামগ্রী নিয়ে আপনার বাড়ি এসে বিয়ের কোনো আলামত না দেখে বোকা হয়ে যাবে। যাবার বেলায় ভদ্রতার খাতিরে ওরা উপহারগুলো আপনাকে দান করে যাবে।

২. অন্যদের মতো আপনারও নিশ্চয়ই যানবাহনে চড়লে বমি হয়। পলিথিনে মনমতো বমি করে সেগুলো চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে দিন। কোনো বেআক্কেল পথচারী সেটাকে গাড়ি থেকে বেখেয়ালে পড়ে যাওয়া যাত্রীর প্রয়োজনীয় ব্যাগ বলে তুলে নিয়ে ভোঁ দৌড় দিয়ে চুপিসারে নিরালায় বসে খুশি হয়ে খোলার পর...। ওয়াক থু থু...।
এতো বমি! হায়রে বোকা বাবু!

৩. আপনি পয়সাওয়ালা। প্রায়ই আপনার ঘরের টাকা চুরি হয়? কোনো সমস্যা নেই। ঘরে সব জাল টাকা এনে ভরে রাখুন। চুরির পর চোরা বাবাজি নকল টাকার তেলেসমাতি দেখে কী বোকাই না হবে!

৪. কোকের খালি বোতলে আলকাতরা ভরে পরিচিত কাউকে দিয়ে বলেন—‘নেন ভাই, কোক খান...!’ বেচারা আপনার কুকর্মে খুশি হয়ে কী বোকাই না হবে। বোকা নাও হতে পারে। কারণ, বাঙালি তো আবার ফ্রি পেলে আলকাতরাও খেতে এক পায়ে খাড়া।

৫. বন্ধুর পাশাপাশি আপনার শত্রুর সংখ্যাও অনেক। শত্রুমহল আপনাকে নিয়ে টিটকারী করে। আপনার এখন করণীয়—রাতে সাদা কাপড় পরে শত্রুর বাড়ির উঠানে পায়চারি করা। ভূত ভেবে ওরা আতঙ্কে থাকবে। এভাবে রোজ রাতে শত্রুকে বোকা বানাতে পারেন!

৬. আজ আপনার প্রিয় বান্ধবীর বাসর রাত। নববধূ বান্ধবীকে খাটের তলায় পাচার করে নিজে বউ সেজে ঘোমটা দিয়ে ফুলসজ্জায় বসে থাকুন। কিছুক্ষণ পর জামাই বাবু এসে আপনাকে তার কালেমাপড়া বধূ ভেবে জড়িয়ে ধরে বোকা বনে যাবে।

৭. আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে কোনো সুন্দরীর ছবি দিয়ে রাখুন। এবার দেখুন—বোকারা কি পরিমাণ আপনার ফেসবুক জমজমাট রাখে।

মাটির ব্যাংকে সমপরিমাণ বালু ভরে রাস্তায় ফেলে রাখুন, কেউ সেটা কুড়িয়ে পাবার পর ভেঙে টাকার পরিবর্তে বালু দেখে বোকা তো হবেই, সঙ্গে আপনার বাপ-দাদার নাম ধরে গালি গিফট করবে।
জোবায়ের রাজু আমিশাপাড়া, নোয়াখালী\

 দুই ভাইয়ের কাণ্ড

প্রথমে নিজের ঘটনাটাই বলি। নইলে আবার ছোট ভাই বলবে তাকে বোকা বানিয়েছি। ২০০৪ সালের ঘটনা, তখন আমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। দর্শক থুক্কু পাঠককে আগেই বলে রাখি, আমাদের বাড়ি থেকে বাজার প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। একদিন বিকালে বাজার সেরে বাসে করে বাড়ি ফিরছি। বাসে এত জ্যাম, মনে হচ্ছে যেন ঈদে বাড়ি যাচ্ছি। এক হাতে আবার মানিব্যাগ আগলে রেখেছি, বাসে আবার চোর আছে কি না। হঠাত্ করে ব্যাগ থেকে মাছের পানি আমার পায়ে পড়তে লাগল, যেন টেপ থেকে বেসিনে পানি পড়ছে। আমি দারুণ বিরক্ত হয়ে মুখ না দেখেই বলে উঠলাম—কার ব্যাগ থেকে পানি পড়ছে, দেখে ব্যাগ রাখতে পারেন না, যত্তসব...। কিন্তু আমার হুঙ্কারে যিনি আমার দিকে ফিরে তাকালেন, তার মুখের দিকে চেয়ে আমি অন্ধকারে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলাম। কারণ উনি শিক্ষক, আমাদের মাদ্রাসায় সব ছাত্রছাত্রীর আতঙ্কের মূল উত্স। যার লাল-কালো রঙের সুন্ধিবেতকে সবাই সিংহের মতো ভয় না করলেও বাঘের মতো ভয় করে। স্বয়ং তিনি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সেদিনের বোকামির কথা মনে হলে আজও গা ছমছম করে ওঠে। দ্বিতীয় ঘটনাও একই বছরের। দ্বিতীয় ঘটনাটা হচ্ছে আমার ছোট ভাইয়ের। সেদিন আমরা নানাবাড়িতে ছিলাম। খালা মুরগির ওষুধ ভাত দিয়ে মেখে ঘর থেকে মাত্র বেরিয়েছেন। ট্যাবলেটগুলো হলুদ হওয়ার কারণে ভাতগুলো হলুদ হয়ে গেছে। সে খালাকে জিজ্ঞেস করে, প্লেটে কী? খালা কৌতুক করে যখনি বললেন প্লেটে পোলাও আছে, অমনি সে এক লাফে এসে খালার হাত থেকে নিয়ে এক মুষ্টি ভাত মুখে পুরে দিল। আমি চিত্কার দিয়ে বলতে লাগলাম, এটা পোলাও না, মুরগির ওষুধ, মুরগির ওষুধ। আর খালা তো হেসে লুটোপুটি খাচ্ছেন।
শিব্বির আহমদশাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
 

অন্যকে বোকা বানানোর সিস্টেম!

আপনি যদি মদনবাবু (হাবাগোবা) স্বভাবের হন, তাহলে আপনাকে নিশ্চয়ই যুগে যুগে, কালে কালে কতজনে যে কতভাবে ধোঁকা দিয়ে বোকা বনে গিয়েছে তার হিসাব নেই। আপনিও আর বসে থাকবেন কেন? অপরকে বোকা বানানোর আধুনিক ফর্মুলা শিখে নিন এক্ষুনি—
১. অনেকদিন ধরে আপনাকে কেউ কোনো কিছু উপহার দিচ্ছে না? এক কাজ করুন, আপনার নিকটস্থ বন্ধু-বান্ধবকে বলুন—ওমুক তারিখে আমার বিয়ে, তোদের সবার দাওয়াত! ব্যস, কাম হয়ে গেছে! সবাই উপহার সামগ্রী নিয়ে আপনার বাড়ি এসে বিয়ের কোনো আলামত না দেখে বোকা হয়ে যাবে। যাবার বেলায় ভদ্রতার খাতিরে ওরা উপহারগুলো আপনাকে দান করে যাবে।

২. অন্যদের মতো আপনারও নিশ্চয়ই যানবাহনে চড়লে বমি হয়। পলিথিনে মনমতো বমি করে সেগুলো চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে দিন। কোনো বেআক্কেল পথচারী সেটাকে গাড়ি থেকে বেখেয়ালে পড়ে যাওয়া যাত্রীর প্রয়োজনীয় ব্যাগ বলে তুলে নিয়ে ভোঁ দৌড় দিয়ে চুপিসারে নিরালায় বসে খুশি হয়ে খোলার পর...। ওয়াক থু থু...।
এতো বমি! হায়রে বোকা বাবু!

৩. আপনি পয়সাওয়ালা। প্রায়ই আপনার ঘরের টাকা চুরি হয়? কোনো সমস্যা নেই। ঘরে সব জাল টাকা এনে ভরে রাখুন। চুরির পর চোরা বাবাজি নকল টাকার তেলেসমাতি দেখে কী বোকাই না হবে!

৪. কোকের খালি বোতলে আলকাতরা ভরে পরিচিত কাউকে দিয়ে বলেন—‘নেন ভাই, কোক খান...!’ বেচারা আপনার কুকর্মে খুশি হয়ে কী বোকাই না হবে। বোকা নাও হতে পারে। কারণ, বাঙালি তো আবার ফ্রি পেলে আলকাতরাও খেতে এক পায়ে খাড়া।

৫. বন্ধুর পাশাপাশি আপনার শত্রুর সংখ্যাও অনেক। শত্রুমহল আপনাকে নিয়ে টিটকারী করে। আপনার এখন করণীয়—রাতে সাদা কাপড় পরে শত্রুর বাড়ির উঠানে পায়চারি করা। ভূত ভেবে ওরা আতঙ্কে থাকবে। এভাবে রোজ রাতে শত্রুকে বোকা বানাতে পারেন!

৬. আজ আপনার প্রিয় বান্ধবীর বাসর রাত। নববধূ বান্ধবীকে খাটের তলায় পাচার করে নিজে বউ সেজে ঘোমটা দিয়ে ফুলসজ্জায় বসে থাকুন। কিছুক্ষণ পর জামাই বাবু এসে আপনাকে তার কালেমাপড়া বধূ ভেবে জড়িয়ে ধরে বোকা বনে যাবে।

৭. আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে কোনো সুন্দরীর ছবি দিয়ে রাখুন। এবার দেখুন—বোকারা কি পরিমাণ আপনার ফেসবুক জমজমাট রাখে।

মাটির ব্যাংকে সমপরিমাণ বালু ভরে রাস্তায় ফেলে রাখুন, কেউ সেটা কুড়িয়ে পাবার পর ভেঙে টাকার পরিবর্তে বালু দেখে বোকা তো হবেই, সঙ্গে আপনার বাপ-দাদার নাম ধরে গালি গিফট করবে।
জোবায়ের রাজু আমিশাপাড়া, নোয়াখালী\
 

এখনও মনে পড়ে

আমি ছোটবেলা থেকেই একটু বোকা টাইপের। বোকাদের মধ্যে নোবেল প্রাইজ দেয়া হলে ‘শ্রেষ্ঠ বোকা’ নোবেল প্রাইজ বোধহয় নিশ্চিত আমিই পেতাম। তো একদিন বাসায় বাবা গেলেন গোসল করতে। মা গেলেন রান্নাঘরে। এমন সময় দরজায় ঘণ্টা বাজল। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলি, দেখি আমাদের পাশের বাসার খলিল কাকা।
কাকা বাইরে দাঁড়িয়ে আমাকে বলছেন, আমি তোমাকে ৫০০ টাকা দেব, যদি তুমি ১০ বার কান ধরে ওঠবস কর। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারলাম না। (ভাবলাম বাসায় তো আর কেউ দেখছে না মন্দ কী!) কিছুক্ষণ চিন্তা করেই ওঠবস শুরু করলাম। প্রতিবার ওঠবসে ৫০ টাকা বলে কথা! ওঠবস শেষ হতেই কাকা আমার হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।
বাবা বাথরুম থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দরজায় কে এসেছিল?’ বললাম, ‘খলিল কাকা’, বাবা বললেন, ‘আমার ৫০০ টাকা কী দিয়ে গেছেন?’ ‘আমি তো থ!’ ব্যাপারটি সবাইকে খুলে বলতেই যে কী হাসির রোল।
জহির উদ্দীন লস্কর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
 

হয়তো আপনিও বোকা

* কারণ আপনি বোকা না হলে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দশ টাকা দরে চাল খাওয়ার আশায় ভোট দিয়ে এখন চার দশে চল্লিশ টাকা দিয়ে খাওয়া লাগত না।
* আপনার বাড়ি থেকে শহরে যেতে মাছের প্রজেক্ট করার উপযুক্ত খাদা-খন্দকওয়ালা রাস্তা পার হতে হয়। তারপরও মন্ত্রী মহোদয় ব্রিফিং করেন—দেশের কোথাও রাস্তাতে কোনো খাদা-খন্দক নেই। আপনাকে বোকা ঠাওরালে না এমন কথা কেউ বলত না।
* আপনার নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তারপরও আপনাকে বোকা ভেবে ‘বিজ্ঞজনে’ কম খাওয়ার নসিহত করেন।
* বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রিয় নেতাদের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু আইনের লোকজন আপনাকে এই বলে বুঝ দেয়—‘বিশেষ কারণে’ অপরাধীদের ধরা হচ্ছে না।
* আপনি যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অস্থির, তখন আপনাকে বলা হয়, এটা বিরোধী দলের কারসাজি।
* শেষ কথা হলো, আপনি যদি বোকা নাইবা হতেন তাহলে বোকাদের সরদার আইমিন বি.স. ভাইয়া আপনার বোকামির গল্প নিয়ে পাঠক সংখ্যা বের করার দুঃসাহস দেখাতেন না।
বোকা লেখক
হামীদুল্লাহ শিবলী মাইজদী
 

রোমান্টিক বোকামি

আমার ক্লাসমেট ফেন্সি খুবই বোকা। কিন্তু তার কিছু কিছু বোকামি অনেক রোমান্টিক। আজ আমি তার একটি আকর্ষণীয় এবং স্মরণীয় রোমান্টিক বোকামি খোলা মনে আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম।
একদিন রাতে বাসায় কারেন্ট ছিল না। ফেন্সি তখন চার্জ লাইট না পেয়ে মোবাইল নিয়ে টয়লেটে গেল। সে মোবাইল হাতে রেখেই প্রাকৃতিক কাজ সারছিল, এমন সময় কিছু উধহপবত্ (মশা) তার সামনে ডান্স শুরু করল। লারে-লাপ্পা ডান্স দেখে সে অসহ্য হয়ে দু’হাত দিয়ে ডান্সারদের মারতে গিয়ে মোবাইলটা ফেলে দিল টয়লেটে। ফেলে দেয়ার পর মোবাইলটার অবস্থান কোথায় সেটা আপনারা সবাই জানেন। কারণ আপনারা তো বোকা।
তারপর
ফেন্সি দামি মোবাইলটার লোভ সামলাতে না পেরে ইয়ের ট্যাংকের ঢাকনা খুলে ঝাঁপ দিল ইয়ের সমুদ্রে। অনেকক্ষণ পর্যন্ত ডুবুরির মতো সমুদ্রের তলায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করল মহামূল্যবান দামি মোবাইলটা। উদ্ধার কাজ শেষে ফেন্সি আমার বেকুবমার্কা হাসি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দিল, বাক্কা মিয়ার রচিত একটি উপদেশ। উপদেশটা আপনাদের কাজে লাগতে পারে। তাই আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা উপদেশটা কণ্ঠস্থ, মুখস্থ, ঠোঁটস্থ, মনস্থ ও পেটস্থ করে নিবেন, কিন্তু ভুলেও টয়লেটস্থ করবেন না। উপদেশটি হল—‘তোমরা বোকামি করবে, বোকামির মাঝে রোমান্টিকতা আছে।’
হাছনা মজুমদার চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
 

বোকা বানানোর গল্প

সোহেল ও মিশুসহ আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গে আড্ডা দিতাম। কিন্তু যখনই আমি ও সোহেল কোনো কথাবার্তা বলতাম, মিশু তার কথাকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য আমাদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। তাই তাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য একটা বুদ্ধি বের করলাম। একবার আমি মাঠের মধ্যে কিছু মলের ওপর একটা বাটি দিয়ে ঢেকে রেখে বসে রইলাম। (মিশুকে আসতে দেখে) সে আমাকে বলল, কিরে ফকিরের মতো এভাবে বসে রইলি কেন? আমি বললাম, একটা সমস্যায় পড়ে গেছি তাই। কারণ জিজ্ঞেস করতেই আমি বললাম, এই বাটির নিচে একটা পাখি আছে। মিশু বলল, তুই ঢাকনা ওঠা আর আমি পাখিটি ধরি। যখন আমি ঢাকনা উঠালাম অমনি সে দু’হাতে খপ করে পাখি মনে করে মল ধরে ফেলল! এ অবস্থা দেখে মিশু বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইল এবং বুঝলো যে, এটা আমাদের আগেই সাজানো ছিল। আড়াল থেকে আমার সব বন্ধু হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলো। এরপর সে মাথা নিচু করে ওখান থেকে চলে গেল। তখন থেকে সে আমাদের কথাবার্তা নিয়ে আর ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে না।
মো. আনোয়ার হোসাইন বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
 

বোকা সমাচার

যারা নতুন প্রেমে মজে উঠেছেন তাদের বোকামিটা ঠিক এ ধরনের—
ক্স পারুল তোমারে না পাইলে আমি কিন্তু আসমান থেইক্যা লাফ দিয়ে ঠাং ভাইঙ্গ্যা চিরস্থায়ী পঙ্গু হইয়া যামু।

ক্স লুলা হইবা যখন বালা মতো হইবা, তাইলে আমার চাচারে দিয়া তুমারে ঢাকায় পাঠাইয়া ভিক্ষাবৃত্তির একটা বিজনেস করবার পারমু।

ক্স নয়া রাজনীতিবিদদের এ ধরনের বোকামি করাটাই স্বাভাবিক। আমার চাচা নির্বাচনের আগে কি বোকামিটাই না করল—আস্ত দশটা গরু জবাই কইরা সবাইরে খাওয়াইল কিন্তু...।

ক্স কিন্তু কী? ভোট পাওয়া তো দূরের কথা নমিনেশনটাই পাইল না।

ক্স নতুন-পুরাতন বউয়ের মাইর খেয়ে অনেকে চির বোকা হয়ে যায়।

ক্স আমার বড় ভাই প্রত্যেক দিন বউয়ের হাতে মাইর খায়, তারপরও একটু টুঁ শব্দ করে না।

ক্স আমার ভাই কিন্তু টুঁ শব্দ করে। বিশেষ কইর্যা বউয়ের মাইরের ঠেলায় আমারে বাঁচাও বইল্যা চিত্কারও মারে। বুড়া বয়সে অনেকে মারাত্মক বোকা হয়ে এলোমেলো সব কাণ্ড ঘটিয়ে দেয়।

ক্স আমার দাদা মারাত্মক বোকা লোক, বিয়ার পরদিনই শ্যালিকাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়া বইছিল।

ক্স আর আমার দাদা খাড়ার উপরে তার আস্ত নানী শাশুড়িকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়া ফেলেছিল। তারে দেওনের জন্য চিঠিও লিখছিল, পরে অবশ্যই ধরা খাইছে।

ক্স বোকা উপাধি দিয়ে অনেকে একে অপরকে দয়া দেখায়।

ক্স শামছু বোকা বইল্যা আজই তুমি আমার ... বাড়ি থেইক্যা বাঁইচ্যা গেলা।

ক্স তাইলে চালাক হইলে কী মুলা চুরির দায়ে আমার জেল ফাঁসি হইত?

ক্স আপনি যতই চালাক হোন না কেন, স্ত্রীকে বোকা বানানো চাট্টিখানি কথা না।

ক্স আমারে আর বোকা ভাইবো না, হেদিন দেখলাম কাজের বুয়ার কাছে গিয়া তুমি তারে কি জানি কইতাছ, কথাডা কী ঠিক?
ক্স একদম ঠিক, ওর সঙ্গে আমি বেকামের জন্য কথা কই নাই, তয় ভালোবাসার দু-চারডা তীব্র জরুরি কথা কইছিলাম।
মোহাম্মদ আলী জনি হারামিয়া, সন্দ্বীপ
 

ডাবল বোকা!

রাত ৩টা। গভীর ঘুমের মধ্যে আমি। হঠাত্ মোবাইল বেজে ওঠায় আমার ঘুম ভেঙে গেল। এমন সময় ঘুম ভাঙলে বিরক্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবুও কষ্ট করে মোবাইল রিসিভ করলাম। অপরিচিত নম্বর আর নারীকণ্ঠের আওয়াজ। আমি হ্যালো না বলতেই ওই প্রান্ত থেকে মেয়েটি বলে, আসলে ভাইয়া, আমি এতরাতে আপনার ঘুম ভাঙাতে চাইনি, তবুও কোনো উপায় না থাকায় আপনাকে কল দিতে বাধ্য হলাম।
আমি বিরক্তিকর কণ্ঠে তাকে বললাম, এত কথা না বলে কী বলতে চান তা-ই বলেন।
মেয়েটি বলে, আমি কিছুক্ষণ আগে একশ’ টাকা আমার মোবাইল থেকে পাঠাতে গিয়ে টাকাগুলো আমার বান্ধবীর কাছে না গিয়ে নম্বর ভুল হয়ে আপনার নম্বরে চলে গেছে। যদি পারেন, টাকাগুলো এই নম্বরে পাঠিয়ে দেন।
আমি দিচ্ছি বলে মোবাইল কেটে দিলাম। তারপর দেখি মোবাইলে একটা এসএমএস। মেসেজটাতে লেখা ছিল, You have received taka 100. আমি ভাবলাম, তাই তো আমার মোবাইলে মেয়েটা ভুলে ১০০ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি তার কথামত তার মোবাইলে সেই ১০০ টাকা পাঠিয়ে দিলাম। কিছু না ভেবেই আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে ওঠার পর সকাল ১০টায় মোবাইল হাতে নিয়ে ব্যালেন্স চেক করতেই দেখি আমার মোবাইলে আছে মাত্র ১৩ টাকা। ভাবলাম কী হলো, আমার মোবাইলে গত রাতেও ১১৫ টাকা ছিল। তখনই মনে পড়ল রাতে কল দেয়া মেয়েটার কথা। ভাবলাম তার পাঠানো টাকাই তো আমি তাকে পাঠালাম। তবুও একটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার পাঠানো টাকার এসএমএসটা পড়লাম। দেখেই বুঝতে পারলাম, মেয়েটা আমার সঙ্গে বেঈমানি করেছে। তার এসএমএসটা আসলে সে নিজে এভাবে লিখে আমাকে পাঠিয়েছে। সে কোনো টাকা আমার মোবাইলে পাঠায়নি। বুঝতে পারলাম, মেয়েটা আমাকে বোকা বানানোর জন্য এ কাজটা করেছে।
আমি চিন্তা করতে লাগলাম, কীভাবে মেয়েটাকে বোকা বানানো যায়। পরদিন তার নম্বরে একটা এসএমএস দিলাম, Apnar konthota khuv sundor. (আপনার কণ্ঠটা খুব সুন্দর।) তিন ঘণ্টা পর তার উত্তর, Apnar bondhu hobo. (আপনার বন্ধু হব।) আমি মেয়েটাকে বোকা বানাতে পারলেই মনে করব আমি প্রতিশোধ নিতে পেরেছি। এরপর মেয়েটা প্রায়ই আমাকে বিভিন্ন কিছু লিখে এসএমএস দিত। আমিও দিতাম। আমি সুযোগ খুঁজছি কখন মেয়েটাকে বোকা বানিয়ে আমার প্রতিশোধ নিতে পারব।
কিছুদিন পর মেয়েটা আমাকে এসএমএস দিয়ে জানায়, আমার সঙ্গে সে দেখা করতে চায়। আমি খুব খুশি হলাম যে, তাকে বোকা বানানোর এখনই আসল সময়। দেখা করার জায়গা ঠিক করলাম আমাদের বাজারের একটা রেস্টুরেন্টে। দু’দিন পরে দেখা হবে। সেখানে যে কোনো উপায়ে তাকে বোকা বানাতেই হবে।
এলো প্রত্যাশিত সেই দিনটি। রেস্টুরেন্টে ঢুকেই দেখি মেয়েটা তার একটা বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়েই এসেছে। সেখানে আমরা নাস্তা করলাম। নাস্তা শেষ না হতেই মেয়েটা আমাকে বলে, এই রেস্টুরেন্টের সামনের ঝরনাটা অনেক সুন্দর, পানি পড়ার দৃশ্যটাও খুব সুন্দর। আপনার মোবাইলে দুটা ছবি তুলব? দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাকে আমার ৬১২০ নকিয়া মোবাইলটা দিলাম ছবি তোলার জন্য। ভাবতে থাকলাম, কীভাবে তাকে বোকা বানাতে পারব। কিছুক্ষণ পর দেখি, ছবি তুলতে গিয়ে মেয়েটি আর ফিরে আসছে না। অপেক্ষা করতে করতে প্রায় ৩ ঘণ্টা শেষ। রেস্টুরেন্টের এক বয়-এর কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে মেয়েটাকে কল দিলাম। তার মোবাইল বন্ধ, সঙ্গে আমারটাও! মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে এলাম। অসহায় হয়ে ভাবতে থাকি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মেয়েটাকে বোকা বানাতে গিয়ে আমি সত্যি দ্বিতীয়বার বোকা বনে গেলাম। মেয়েটা আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিল—তা কি আমাকে দ্বিতীয়বার বোকা বানানোর জন্য? প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এ কী হলো। হারালাম আমার দামি মোবাইলটা।
কয়েকদিন পর আমার ক্লাসমেট বান্ধবী পারভীন আমাকে ফোন দিয়ে বলে, আমার বাড়িতে কাল তোর দাওয়াত। পরদিন দাওয়াত খাওয়ার জন্য পারভীনের বাড়িতে গেলাম। তার সঙ্গে অনেকক্ষণ গল্প করলাম। এক ফাঁকে সে একটা ছোট্ট প্যাকেট আমাকে দিয়ে বলে, এই প্যাকেটটা বাড়িতে গিয়ে খুলবি।
আমি মনে করলাম, সে আমাকে কোনো গিফ্ট দিচ্ছে। মন না মানায় প্যাকেটটি খুলে ফেললাম। দেখি কিছুদিন আগে এক জল্লাদ মেয়ে কর্তৃক ছিনতাই হওয়া আমার মোবাইলটি। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বললাম, এই মোবাইলটি কোথায় পেয়েছিস? তার উত্তর, সরি, সরি, সরি। সবটাই আমার কারসাজি। শুধু মজা করার জন্যই আমার এক বান্ধবীকে দিয়ে এ কাজগুলো করিয়েছি। আমি তখনই তাকে বললাম, মজা করার জন্য বল আর অন্য কিছু করার জন্য বল, আমাকে সত্যি তুই ডাবল (দু’বার) বোকা বানিয়ে ছাড়লি।
এম ইয়াসিন আরাফাত
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
 

বোকা রাজার কাণ্ড

এক যে ছিল রাজা। তিনি রাজ্যের মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা, নদী-পুকুর—সবার বিচার করতেন। এক কচ্ছপ করল কিনা মহা এক দোষ। রাজা বিচার করে তাকে মহা এক শাস্তি দেবেন ঠিক করলেন। অনেক ভেবেচিন্তে বললেন, দাও ওটাকে উল্টে। চিত্ হয়ে রোদে শুয়ে থাক।
শাস্তির বয়ান শুনে চতুর কচ্ছপ বলল, মহারাজ, এটা আমার জন্য চমত্কার শাস্তি হবে। অনেকদিন ধরে আমার হজমে একটু গোলমাল যাচ্ছে। ওতে আমার পাকস্থলী রোদ পোহাতে পারবে।
রাজা সঙ্গে সঙ্গে ভেবে নিলেন—ওতে যদি কচ্ছপের উপকার হয়, তাহলে তো শাস্তি হলো না। তাই তিনি সেই দণ্ড ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, আমি তোমার পিঠে চাবুক মারব।
ভালো। তাতে আমার পিঠ শক্ত হবে, কচ্ছপ বলল।
অমনি রাজা এই শাস্তিও বাতিল করে দিলেন। তখন ঠিক করলেন কচ্ছপকে পানিতে ছুঁড়ে মারবেন। সঙ্গে সঙ্গে তা কচ্ছপকে শুনিয়েও দিলেন।
অমনি কচ্ছপ হাউ মাউ কান্না জুড়ে দিয়ে বলল, দোহাই মহারাজ, অন্য যে কোনো শাস্তি দিন, তা আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু দোহাই রাজামশাই, পানিতে ফেলবেন না যেন।
রাজা কিন্তু অটল। এই শাস্তি কচ্ছপকে পেতেই হবে। তাই ওকে তক্ষুনি পানিতে ছুঁড়ে মারা হলো। রাজা খুব খুশি হলেন, কারণ কচ্ছপকে তিনি উপযুক্ত শাস্তি দিতে পেরেছেন। কচ্ছপও খুব খুশি ও সুখী হলো নিরাপদ জায়গায় ফিরে যাওয়ার জন্য।
(শ্রীলঙ্কার রূপকথা)
মুহাম্মদ আবু তালহা, কাউখালী, পিরোজপুর
 

মুরব্বিদের নাম ধরে কথা বলিস!

আমার ছোট ভাই রিফাত একটু দুরন্ত টাইপের। ও করিমপুর নূরানি মাদরাসায় ক্লাস টুতে পড়ে। মাঝেমধ্যে ও এমন কাণ্ড করে বসে, যা শুনে আমরা হতবাক হয়ে যাই। একদিন সন্ধ্যায় বাসায় গেলাম। রিফাত আমাকে দেখামাত্রই বলে উঠল, ভাইয়া, জান... (আব্বুর নাম ধরে বলল) আমাকে খুব মেরেছে। আমি ওর মুখে আব্বুর নাম শুনে একেবারে থ!
কিছুক্ষণ পর ধমক দিয়ে বললাম, তুই বেয়াদব হয়ে গেছিস। মুরব্বিদের নাম ধরে কথা বলিস।
নাজমুল হুদার কাছে নালিশ করব! (আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল।) আমার কথা শুনে রিফাত হেসে উঠল, আর বলল, ভাইয়া আপনিও...! নাজমুল হুদা সাহেব হচ্ছেন করিমপুর নূরানি মাদরাসার মাননীয় প্রধান শিক্ষক, যিনি কিনা আমারও সম্মানিত শিক্ষক ছিলেন। সেদিন নিজেকে ভীষণ বোকা মনে হয়েছিল।
মো. ইয়াছিন রুবেল চৌমুহনী, নোয়াখালী
 

গাছে উঠে বোকামি

তখন আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি। একদিন মা বললেন, শবরিকলা পেকে গেছে। কলাগাছ কেটে কলাগুলো বাড়ি নিয়ে আয়। আমি দা নিয়ে যখন কলাগাছ কাটতে গেলাম, তখন আমার বন্ধু রমেশ বলল, কলাগাছ কাটলে মাটিতে পড়ে সব কলা নষ্ট হয়ে যাবে। তখন তোরা আর খেতে পারবি না। আমি বললাম, তাহলে আমি কলাগাছে উঠেই কলার কান কেটে হাতে ধরে নিচে নেমে আসব।
তারপর বহু কষ্টে কলাগাছে উঠে এক হাত দিয়ে কলার কান ধরে কলা কাটলাম। কিন্তু কলার ওজন সইতে না পেরে কলার সঙ্গে আমিও নিচে পড়ে গেলাম। হাতটা বাঁকা হয়ে মাটিতে লেগেছিল বলে হাত ভেঙে গেল। এরপর থেকে বাড়ির সবাই আমাকে ক্যাবলা কলা বলে ডাকতো।
একদিন কলেজ থেকে বাড়ি ফিরলে মা বললেন, আমগুলো পেকে গেছে। গাছ থেকে পেড়ে আন। আমি গাছে উঠলাম আম পাড়ার জন্য। আমি আম পাড়তে পাড়তে একেবারে সরু ডালে চলে গেলাম। একসময় পায়ের তলার চিকন ডাল ভেঙে গেলে আমি হাতের ডাল শক্ত করে ধরে বাদুড়ের মতো ঝুলতে লাগলাম। মাটির দিক তাকিয়ে দেখি মাটি অনেক নিচে। ভয়ে আমার হাত-পা কাঁপতে লাগল। আমি চিত্কার করে বললাম, সুমন, তোরা চারজন লেপ এনে শক্ত করে উঁচু করে ধর। আমি হাত ছেড়ে নিচে পড়ে যাচ্ছি। সুমনরা চারজন লেপ এনে ধরল। কিন্তু আমি দুর্ভাগ্যবশত লেপের মাঝে না পড়ে আমার ছোট বোন সুমীর ঘাড়ের ওপর পড়লাম। তারপর আমরা দুই ভাইবোন হাসপাতালে ভর্তি হলাম। সাত দিন পর দুই ভাইবোন গলায় হাত ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
বিপ্লব, মহম্মদপুর
 

কার কাছে কে বোকা

* মা-বাবার কাছে বোকা—সন্তান।
* প্রেমিকার কাছে বোকা—প্রেমিক।
* বউয়ের কাছে বোকা—স্বামী।
* বসের কাছে বোকা—অধস্তন কর্মকর্তা।
* শিক্ষকের কাছে বোকা—ছাত্রছাত্রী।
* দুষ্টু বন্ধুর কাছে বোকা—সরল বন্ধু।
* সরকারি দলের কাছে বোকা—বিরোধী দল।
* নেতার কাছে বোকা—আমজনতা।
* আধুনিক সন্তানদের কাছে বোকা—বাবা-মা (সেকেলে)।
* বি.স-এর কাছে বোকা—ভিমরুলের এই সংখ্যা।
সুমন, পটিয়া
 

আমরা সবাই বোকা...

প্রথমেই বোকার মতো নিজের বোকামি দিয়ে শুরু করি। আমি এক ছাত্রীকে পড়াই। সে খুবই দুষ্টু। বলা যায়, ভয়ঙ্কর দুষ্টু। আর ভুল ধরতে মহাওস্তাদ। আর আমি খেলার জন্য একটু পাগল আর কি! একবার বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের খেলা চলছিল। ও পানি খেতে চাইলে শর্ত দিলাম, স্কোরটাও দেখে আসতে হবে। ৩৫ রানে ১ উইকেট বললে আমি জানতে চাইলাম কে কে আউট হয়েছে। ওর উত্তর শুনে বুঝতে পারলাম কত বড় বোকামিটা করেছি। কর্কশ কণ্ঠে বলল, তামিম ইকবাল এবং আপনার মাথা আউট হয়েছে। বললাম ১ উইকেট, আর আপনি জানতে চাচ্ছেন কে কে। ভিমরুল কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আমার দেশ পত্রিকার বৃহস্পতিবার থেকে আবার বের হওয়ার ঘোষণা দেখে ছোট বোন ডলি অনেক খুশি হয়ে বলেছিল, ‘ভাইয়া, ভিমরুল আগে বের হতো শনিবারে এখন থেকে বৃহস্পতিবারে। তার মানে এখন থেকে সপ্তাহে ২ দিন আগেই পাব। এক সপ্তাহ যাওয়ার পর তার হাহাকার—ভাইয়া, ভিমরুল আগে পেতাম শনিবারে এখন বৃহস্পতিবারে। আমাদের ৫ দিন বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে! একবার ছোট ভাই সাইফুলকে ইরেজার দিতে বললে পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে আধা ঘণ্টা খোঁজার পর কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে, ভাইয়া, আমি ইরেজার কী, চিনি না।
একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক একজন গীতিকারকে বলে আপনি নিশ্চয় অনেক রবীন্দ্রসংগীতও লিখেছেন? গীতিকারও মাথা দুলিয়ে জানায়, হ্যাঁ। কোনো এক মন্ত্রী একদা বলেছিল—আমাদের দেশ সব রফতানি বিদেশ থেকেই করে। হলে অবৈধ ছাত্র উচ্ছেদ করতে গিয়ে এক পুলিশ এক ছাত্রের কাছে জানতে চায়—তোমার বিভাগ কী? ছাত্রটি ইকনোমিকস বললে পুলিশ খেপে গিয়ে বলে, তোমার আইডি কার্ডে তো লেখা অর্থনীতি। এক পণ্ডিতের বোকামিটা ছিল এ রকম—এক লোক বলেছিল, পণ্ডিত মহাশয়, আপনার জন্য একটা ভারী দুঃসংবাদ! আপনার স্ত্রী তো বিধবা হয়ে গেছে। তখন পণ্ডিত মহাশয় বলেছিল, হায়! হায়! আমার স্ত্রী বিধবা হয়ে গেছে! এখন আমার কী হবে, আমি বেঁচে থেকে লাভ কী! তখন লোকটি বলল, পণ্ডিত মহাশয়, আপনি বেঁচে থাকতে আপনার স্ত্রী কী বিধবা হতে পারে? লেখাটা শেষ করি বর্তমান সরকারের বোকামি দিয়ে—বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে ১০ টাকা চাল, ফ্রি সার, প্রতি ঘরে একজনকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। সরকার ভাবছে জনগণকে কত সহজেই বোকা বানালাম! একটা কৌতুক—এক ট্রাক ড্রাইভার তার ট্রাক থামিয়ে চায়ের দোকানে ঢুকল। তিন বদমাশ মোটরসাইকেল আরোহীও ঢুকল। তারপর তারা ট্রাক ড্রাইভারের মাথায় টোকা দিতে লাগল। চায়েও থুতু দিল। কিন্তু ট্রাক ড্রাইভারটি কিছুই না বলে বের হয়ে গেল। তখন বদমাশরা দোকানিকে বলল, লোকটা মনে হয় বোকা টাইপের? দোকানি উত্তর দিল, হতে পারে। ট্রাকও ভালোমত চালাতে পারে না। আপনাদের হোন্ডার ওপর দিয়েই ট্রাকটি চালিয়ে নিয়ে গেল। তিনটি হোন্ডাই পিষ্ট হয়ে গেল। হোন্ডাগুলোর বারোটা বেজে গেল। এই বোকা জনগণ যদি ট্রাক ড্রাইভারের মতো সময়মত বোকামিটা করে, তাহলে বোকা কী জনগণ নাকি সরকার? আসুন আমরা একসঙ্গে গেয়ে উঠি—আমরা সবাই বোকা আমাদেরই বোকার... ।
শহীদুল আনোয়ার জয়
হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম
 

আমি কত বোকা!!!

তখন আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। একদিন প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরে যখন আমাদের উঠোনে ক্রিকেট খেলছিলাম, তখন আমার ক্লাসটিচার (ওয়ালীউল্লাহ স্যার) আমার কাছে এসে বললেন, ‘সমুদ্র, তোমার পরীক্ষা কেমন হয়েছে?’ আমি বললাম, ‘ভালো, সব প্রশ্নের উত্তর লিখেছি।’ স্যার বললেন, ‘দেখি তোমার খাতা।’ আমি দৌড়ে ঘর থেকে খাতা এনে স্যারকে দিলাম। স্যার বললেন, পরীক্ষার খাতা জমা না দিয়ে বাড়ি এনেছো কেন?’ ‘স্যার এটা তো আমার খাতা। অন্যের খাতা তো আমাদের বাড়িতে আনিনি’, আমার কথা শুনে বাড়িসুদ্ধ সবাই হাসতে লাগল। এর কিছু দিন পর স্বর্ণা দিদিমণি মধুমতি নদীর তীরে বেড়াতে যাবে বলে রেডি হলো। আমি বললাম, ‘দিদিমণি, আমি তো কোনোদিন নদী দেখিনি, আমিও তোমার সাথে যাব।’ দিদিমণি বলল, ‘তোর যাওয়ার দরকার নেই।’ কিন্তু আমিও নাছোড়বান্দা। শেষ পর্যন্ত দিদিমণি আমাকে নিয়ে নদী দেখতে গেল। নদীর তীরে গিয়ে আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, ‘বাপরে কত্তো বড় পুকুর।...আচ্ছা দিদিমণি, কারা এই পুকুর কেটেছিল? আর কত দিনইবা সময় লেগেছিল?’ দিদিমণি হাসতে হাসতে বলল, ‘এটা পুকুর নয়, এটাই মধুমতি নদী। আর এটা মানুষে কাটেনি এটা ভূতে বানিয়েছে।’
আমি বললাম, ‘ও ভূতে! তাহলে তো ভূতের অনেক শক্তি। চল না, উনার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসি। আর উনার বাড়িতে যদি ফুলগাছ থাকে তাহলে ফুল নিয়ে এসে মালা বানাব।’ দিদিমণি বলল, ‘উনার বাড়ি স্বর্গলোকে। উনার বাড়ি বেড়াতে যাওয়া যাবে না।’ ‘কেন যাবে না, উনার বাড়ির সামনে কি পাগলা কুত্তা আছে?’ দিদিমণি ধমক দিয়ে বলল, ‘চুপ কর।’ কেন? কারণ ভূত বলেছে ছোট ছেলেদের বেশি বকবক করতে নেই। তাহলে উনি একেবারে বোবা বানিয়ে দেবেন। আমি বললাম, ‘তাহলে তুমিও ভূতকে বলে দিও, ওরা যদি কখনো আমাদের বাড়ির কাছ দিয়ে যায় আমি তাহলে আমাদের বিষমাখা তীর দিয়ে ওনার ভুঁড়ি ফুটা করে দেব। দিদিমণি আমার কথা শুনে হাঃ হাঃ হাঃ করে হাসতে লাগল। এখন আমি বড় হয়েছি। এখনও বোকামি করি। মাঝে মাঝে স্বর্ণা দিদিমণি রাগ করে বলে, তুই কবে চালাক হবি, কবে মানুষ হবি? তোর বোকামির জন্য তো তুই নিজেই বকা খাস। দিদিমণিকে উত্তরে একদিন বললাম, আচ্ছা দিদিমণি, ইভটিজাররাও তো বকা খায়। আমি কি ইভটিজারদের চেয়ে খারাপ? দিদিমণি বলল, ‘না রে তোকে আর চালাকও হতে হবে না, ইভটিজারও হওয়া লাগবে না।’ আমি তখন বাথরুমে গিয়ে কর্কশ কণ্ঠে গেয়ে উঠলাম, ‘আমি সারাজীবন বোকাই রব এটাই আমার অ্যাম্বিশন।’
সমুদ্র বিপ্লব মহম্মদপুর, মাগুরা
 

আজব বোকা

২০১০ সলের রমজান মাসের ঘটনা। আমাদের মেসে রকিব (ছদ্মনাম) নামে একটা ছেলে ছিল। সে আমার এক বছরের জুনিয়র। তার বোকামি লিপিবদ্ধ করতে গেলে আর সব পাঠক চান্স পাবেন না বলে দু-একটাই লিখব। যাক, আসল কথায় আসি। সে ভালো করে কাপড় ধুতে পারত না বলে সব কাপড় বাড়িতে যাওয়ার সময় নিয়ে যেত। আর ওর বোনকে দিয়ে ধুইয়ে আনত। একদিন দেখি সে সব ময়লা কাপড় ইস্ত্রি করে এনে ব্যাগে ঢোকাচ্ছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ময়লা কাপড় ইস্ত্রি করলে কেন? সে বলল, কাপড়গুলো ধোয়ার জন্য বাড়িতে নেব, কিন্তু ব্যাগে জায়গা হচ্ছে না বলে ইস্ত্রি করে নিয়ে এলাম, যাতে সহজে ব্যাগে ঢুকানো যায়।
এর এক সপ্তাহ আগের ঘটনা হচ্ছে, একদিন তার খালার বাসায় ইফতারের দাওয়াত ছিল। সেদিন সে মেসে ইফতারের মিল বন্ধ রাখল। আগেই বলে রাখি আমাদের এখান থেকে তার খালার বাসায় যেতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট লাগবে। সে বসে আছে খালার কাছ থেকে ফাইনাল ফোন এলে তবেই যাবে। এদিকে আসর গড়িয়ে ইফতার ঘনিয়ে আসছে, অথচ ফোন আসছে না। শেষ পর্যন্ত ফোন এলো না, কিন্তু ইফতারের ১০ মিনিট আগেই দেখি সে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমরা বললাম, এখন তো যেতে পারবে না। রাস্তায় ইফতারের সময় হয়ে যাবে। কিন্তু সে আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে যেতে পারবে বলে চলেই গেল। তারপর ইফতার শেষে আমরা যখন নামাজে গেলাম, দেখি সেও আমাদের সঙ্গে নামাজে উপস্থিত। নামাজ পরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি ৩০ মিনিটের রাস্তা ১০ মিনিটে গেলে আর ২ মিনিটে এলে কীভাবে? সে কিছু না বলে মুচকি হেসে কথা উড়িয়ে দিল। পরে জানলাম সে তার খালার বাসায় যায়নি। কিন্তু আমাদের কাছে লজ্জা পাবে মনে করে সে মেসে ইফতার থাকা অবস্থায়ও নিচে রেস্টুরেন্টে টাকা দিয়ে ইফতার করেছিল।
আহমদ
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
 

ডিজিটাল বোকা প্রেমিক

বিয়ের পর প্রায়ই শাশুড়ির মুখে শুনি, ‘আমার ছেলেরা সোনার টুকরা, কারও সঙ্গে ওদের তুলনা হয় না...’ এমন অনেক অনেক কথা। শাশুড়ির বড়টি তো আমার কপালে ঝুলছে আর ছোট মিঠু মাত্র দশম শ্রেণীতে পড়ে। মিঠুকে গ্রাম থেকে শহরে এনে ভর্তি করাই। সারাক্ষণ ও-ই থাকে আমার পথচলার সঙ্গী। প্রায়ই দেখি ও রাস্তায় হা করে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে। বুঝতে পারি শাশুড়ির ছেলেরা সব দিকে ভালো হলেও ১% একটু খারাপ আছে। একটা নতুন মোবাইল নিয়ে গোপনে ওদের দুই ভাইকে এসএমএস লিখতে শুরু করি। ওরাও আমায় এসএমএস দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দু’জনের পরিবর্তন দেখি। দু’জনই পরিচয় দেয়, ওরা ভার্সিটির ছাত্র। বড়জন বলে, উনি বিয়ে করবে পাত্রী খুঁজছেন। বেডরুমে বসে যখন ড্রইংরুমে মিঠুকে এসএমএস পাঠাই, ও মিটিমিটি হাসে। ঘরে বসে অফিসে যখন বড়কে এসএমএস দিই, উনি ঘরে ফেরেন আনন্দের ঝলকানি নিয়ে। তখন আমরা সাভারে থাকতাম। ছোটকে দেখা করব বলে নিয়ে যাই মার্কেটে। ও সেদিন খুব হ্যান্ডসাম সেজে ঘর থেকে বের হয়। দেখা হয় না। বড়কে এসএমএস দিই পার্কে দেখা করব বলে। উনি হাতে-পায়ে-বুকে-কোমরে আর চুলে পারফিউম মেখে ঘর থেকে বের হয়। দুপুরে কল করার পর আমায় বলে, জরুরি কাজে বের হবে বিকালে। কাজ শেষে কল দেবে আমায়। আমি তো জানি কাজটা কী। সন্ধ্যার পর বাসায় আসে খুব শান্ত আর আনমনা হয়ে। প্যান্টের পকেটে একটা গোলাপ পেলাম। ওটাকে যত্ন করে রাখলাম। এরপর ২ জনকে আলাদাভাবে ডাকলাম স্মৃতিসৌধে। আমি গেলাম ভাইদের সঙ্গে। ২ ভাই ২ তোড়া ফুল নিয়ে হাজির হলো। একই স্থানে একে অন্যকে দেখে খুব বোকা হয়ে গেল। আমি গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দিয়ে ২ জনের হাত থেকে ফুলের তোড়াগুলো নিয়ে নিলাম। এই ডিজিটাল যুগে ওরা বোকা প্রেমিক হলো। ওরা আজও জানে না, ওদের দুজনের ডিজিটাল এসএমএস প্রেমিকা ছিলাম আমি। আজ মিঠু এক সন্তানের বাবা আর আমি... এরপর থেকে ওদের অনেক পরিবর্তন। ডিজিটালের ঘোষণায় ওরা নিজেদের ভাসিয়ে নিতে চাইল। সত্যিকারের ভালোবাসা-প্রেম ডিজিটালভাবে হয় না। ডিজিটাল মানুষকে বোকা প্রেমিক-প্রেমিকাও বানায়।
আকাশ বন্ধু, ঢাকা হইতে
 

প্রশ্ন নেই উত্তরে পাহাড় আমি

আঁধার রাতে ঝলমলে চাঁদের আলো সবারই ভালো লাগে। সময় ছিল সেদিন রাত সাড়ে দশটা। তীব্র আলো নিয়ে চন্দ্রকে পূর্ব আকাশে দৃশ্যমান দেখে আমার ছোট বোন আমাকে ডাক দিল। আর চাঁদের এই অপরূপ রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। মনে পড়ে গেল গত রাতের কথা। আমার এক ফ্রেন্ড কল করেছিল। ও আমাকে বলেছিল, ‘শিশির, আমি এখন ভাবছি।’ আমি বিস্মিত কণ্ঠে বলেছিলাম, ‘কী ভাবছ?’ ও বলল, ‘চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূর্য থেকেই আলো গ্রহণ করে। আচ্ছা বল তো, মানুষ চাঁদকে কেন বেশি ভালোবাসে।’ এ সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি সময় নিয়েছিলাম। প্রকৃতই আমার কর্মকাণ্ডে বোকামি প্রচণ্ডভাবে প্রকাশ পায়। ছোট বোনকে প্রশ্ন করেছিলাম, জবাব পেলাম—চাঁদ সুন্দর তো তাই। আমিও তাই বললাম। ও বলল, ‘কবি-সাহিত্যিকরাও এ কথা বলেন। কিন্তু জানতে চাইছি কেন বলে?’ আমি উত্তর দিয়েছিলাম, ‘হ্যাঁ তাই তো, আমিও কবিতা লিখেছিলাম।’ পরে এ ব্যাপারে আর কথা হয়নি। সে কথা মনে পড়তেই আম্মুকে প্রশ্ন করলাম—‘আচ্ছা আম্মু, সূর্য থেকে চাঁদ আলো পায় তবে সবাই চাঁদকে সুন্দর বলে কেন?’ আম্মু বললেন, ‘এ তো খুবই সহজ। সূর্য একটি আলোকময় নক্ষত্র। যার প্রখরতা অনেক বেশি। মানুষের অনেক উপকার করলেও তাকে কেউ উপভোগ করতে পারে না। অন্যদিকে চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। কিন্তু সে সূর্যপ্রাপ্ত আলোতেই অনন্য। কাস্তে বাঁকা থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত প্রতিটি রাতই উপভোগ্য।’ আমি প্রতিউত্তর দিলাম, ‘আম্মু আমি এ কথা মোটেও চিন্তা করিনি।’ আম্মু বলল, ‘শিশির, তোমার কাছ থেকে কেউ এ ধরনের কথা আশা করে না। তুমি যে মাঝে মধ্যে বোকার মতো কাণ্ড কর, এটাও একটি দৃষ্টান্ত।’ আমি তো একেবারে প্রশ্ন নেই উত্তরে পাহাড় (বোকা বনে যাওয়া)। তারপরও বোকার মতো ছোট বোনকে প্রশ্ন ছুঁড়লাম, ‘বল তো, বোকা সম্পর্কে কী জানিস?’ ‘যে আমাকে প্রশ্ন করেছে সে একজন ছোট্ট বোকা নয়, সে বড় বোকা। বোকার মতো কথাবার্তা বলে। বোকার মতো কবিতা লেখে (যা আমার খুবই প্রিয়), যার মা তাকে বোকা উপাধি দেয়, ক্লাসে কম কথা বলার অপরাধে সবাই বোকা ভাবে। (তার ফ্রেন্ডরা অনুপস্থিত হলে এমনটি হয়। ফ্রেন্ডরা একীভূত হলে তো সব বোকার গল্প জুড়ে দেয়। কারণ এরা সবাই বোকা।) ভাবছি তার সঙ্গে থাকতে থাকতে কবে নিজেও বোকা বনে যাই!!! ইত্যাদি... কিন্তু কষ্ট লাগছে এই বোকা নেটওয়ার্কের একজন বোকার আগামী শুক্রবার বিয়ে। হিঃ হিঃ হিঃ! আমাকে দলভুক্ত করলে আমি বোকামিতে যারা ফার্স্ট অয় তাদের উপহার দিমু...’
মাহবুবা নাছরিন শিশির, নোয়াখালী
 

বোকা সালাম

বোকা সালাম মানুষের ক্ষেত-খামারে দৈনিক মজুরি হিসেবে কাজ করত।
তাকে নামেমাত্র মজুরি দেয়া হতো। কারণ সে কাজ কম করত ও ভাত বেশি খেত। বোকারা মনে হয় একটু বেশিই খায়। তার খাবারের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। বড় একটা ডিশের মধ্যে মাছ, শাক, ভর্তা, ডাল, দুধ, কলা, চিনি, লেবু—সব একসঙ্গে মিশিয়ে খায়। প্রশ্ন করলে বলে—‘একই পেটে যহন যাইব তহন এক লগে গেলে ক্ষতি কি?’
উল্টা-পাল্টা খাওয়ার কারণে প্রায়ই তার পাতলা পায়খানা হতো। পাতলা পায়খানা সম্পর্কে সালাম যে তথ্য দিল তাতে বিজ্ঞান ফেল। সে বলে ‘হন মিয়া আমার পেটের অজম শক্তি বেশি। হেই কারণে সবকিছু পিষাইয়া পাতলা বানাইয়া ফালায়।’
সালাম মিয়া মাসে একবার গোসল করে। এ ব্যাপারে তার লজিক হলো—‘কম গোসল করলে শরীর মোটা হইব (ময়লা পড়ে) আর সাবান খরচা কম হইব।’ তার প্রতিটি কাজের পেছনে একটি শক্ত যুক্তি সে দাঁড় করাত আর সেই কাজটা সে ভালোবেসেই করত। এই সহজ-সরল মানুষটি প্রতিটি কাজই নিজ বিচার-বিবেচনায় করত। সে কখনই তার বোকা নামের প্রতিবাদ করেনি।
কিন্তু গভীর রাতে সে খুব কান্নাকাটি করত। রাতের সব নীরবতা-নিস্তব্ধতা ভেঙে সেই কান্না পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ত। কুকুর অথবা শেয়ালগুলো হয়তো ‘বোকা সালাম’ বলে সেই কান্নাকে উপহাস করত।
মুজাহিদুর রহমান ফাহিম
সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজার
 

কখন বুঝবেন আপনি বোকা!

১. নারীদের সমঅধিকার নিয়ে আপনি খুবই সোচ্চার! অথচ বাস-ট্রেনে আপনি নিজের সিটখানা অন্য মেয়েদের জন্য ছেড়ে দেন!
২. নিয়মিত স্কুল-কলেজ করলেও নিজেকে বাহাদুরি সাজাতে যখন হাজিরা দেন না!
৩. চুরি অথবা ডাকাতি হওয়ার ভয়ে যখন আপনি উপার্জনই করেন না!
৪. ফেসবুকে কারিনা-ক্যাটরিনার ছবি দেখে যখন তাদের বন্ধুরা প্রেমিক হওয়ার আশায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান আর মনে মনে ভাবতে থাকেন এই বুঝি প্রেম হয়ে গেল!!
৫. ১০০ টাকার টকটাইম পাওয়ার বাসনায় যখন বি.স. মহোদয়ের মোবাইলে ৫০০ টাকার লোড পাঠান!!

বো কা দে র কা ণ্ড

মা বোকা সাজে বাবার সঙ্গী হয়ে
বাবা বোকা সাজে ২টা বিয়ে করে
ভাই বোকা সাজে সিনিয়র বান্ধবীর প্রেমে পড়ে
বোন বোকা সাজে বাবার বয়সীকে বন্ধু বানিয়ে।
দাদা বোকা সাজে ইন্টারনেটে ফেসবুক দেখে
দাদি বোকা সাজে মোবাইল মেসেজ পড়ে।
মামা বোকা সাজে গার্ল ফ্রেন্ডকে ফ্যাক্স করে।
নানি বোকা সাজে ই-মেইলে না বুঝে নক করে।
প্রধানমন্ত্রী বোকা সাজে উপযুক্ত লোককে নমিনেশন না দিয়ে
মন্ত্রীরা বোকা সাজে মুখ ফসকে কথা বলে।
এমপিরা বোকা সাজে বেশি দামে গাড়ি কিনে
কর্মকর্তা বোকা সাজে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা লুট করে।
কর্মচারী বোকা সাজে বসের মাথায় তেল ঘষে
শেয়ার ব্যবসায়ী বোকা সাজে লোভের মাঝে পড়ে।
সাংবাদিকরা বোকা সাজে ভুল খবর ছাপিয়ে
শিক্ষক বোকা সাজে ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে।
আমি বোকা সাজি ভিমরুল ম্যাগাজিন পড়ে

পাঠক,
আপনারা বোকা সাজবেন আমার এই অবাস্তবের
মাঝে বাস্তব বোকামির কবিতা পড়ে।

তেজগাঁও, ঢাকা।
 

বোকার হাট-বাজার!

জামসেদুর রহমান সজীব
চরনারায়ণপুর, রাজবাড়ী
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

২৭শে জানুয়ারির ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবে ব্লু ব্যান্ড কল


স্টাফ রিপোর্টার: ফেসবুক সংগঠন ব্লু ব্যান্ড কল ২৭শে জানুয়ারির ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাহী বি. চৌধুরী একথা জানিয়ে বলেছেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে সংঘাত অনিবার্য। সব রাজনৈতিক দলকে ব্লু ব্যান্ড কল-এর কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা পোষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিকল্প ধারা যদি এ সংগঠনের সঙ্গে একমত পোষণ না করে তাহলে আমি নিজেও বিকল্প ধারার পদ ছাড়তে রাজি রয়েছি। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ২৩শে মার্চ সব স্তরের মানুষকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে মাহী বি. চৌধুরী বলেন, ওইদিন সকাল ৬টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউ’র ধানমন্ডি প্রান্ত থেকে শান্তির পক্ষে প্রাতঃভ্রমণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যুব বিপ্লবের চূড়ান্ত সূচনা শুরু হবে। প্রাতঃভ্রমণ কর্মসূচিতে তিনি সবাইকে দু’টি করে ফুল নিয়ে আসার আহ্বান জানান। একটি ফুল থাকবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। অপরটি বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য। কর্মসূচি শেষে এসব ফুল দুই নেত্রীকে পৌঁছে দেয়া হবে। ওই দিনের পর থেকে রাজধানীজুড়ে ডোর টু ডোর প্রচারণা শুরু করা হবে। সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের কর্মীরা প্রত্যেক বাড়ির প্রত্যেক ঘরে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি একটি খসড়া জাতীয় সমঝোতা সনদ তুলে ধরেন। এ সনদে তিনি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নির্ধারণের দাবি জানান। তিনি বলেন, জাতীয় নেতৃবৃন্দের অবদানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। সংবিধান ও জাতিসত্তা নিয়ে নিষ্ফল বিতর্কের অবসান করতে হবে। সংঘাত ও প্রতিহিংসাপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে হবে। নির্বাচনী আইন ও প্রক্রিয় ঢেলে সাজাতে হবে। ব্লু ব্যান্ড কল-এর অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা নিশ্চিতকরণ, গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করা, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত ও তাদের সর্বোচ্চ মেয়াদ পুনঃনির্ধারণ, ২০ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিতে গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া নির্ধারণ। মাহী বি. চৌধুরী বলেন, আগামী ২২শে মার্চ ব্লু ব্যান্ড কল-এর দাবি সমূহের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে খসড়া আইন ও বিল আকারে চূড়ান্ত জাতীয় সমঝোতা সনদ ঘোষণা করা হবে। ১৭ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সদস্য সংগ্রহে গণ-কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।
জনগণের কাছে সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরতে ৩টি জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। গত ২৭শে ডিসেম্বর সংগঠনের কর্মসূচিতে বাধা দান ও তরুণ-তরুণীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, ধানমন্ডি থানার ওসি ও রবীন্দ্র সরোবর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আগামী ১০ই জানুয়ারির মধ্যে রিট পিটিশন দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে মাহী বি. চৌধুরীর স্ত্রী আশফাহ হক লোপাসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিপিএল টাইটেল স্পন্সর ‘ডেসটিনি-বৈশাখী’


স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে বড় পরিসরে যুক্ত হল ডেসটিনি গ্রুপ। দেশের অন্যতম সেরা গ্রুপ অব কোম্পানিটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) টাইটেল স্পন্সর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। যার বদৌলতে বিপিএলের নামকরণ হচ্ছে ‘ডেসটিনি-বৈশাখী বিপিএল’।
বিপিএলের আয়োজন স্বত্ব ৬ বছরের জন্য কিনে নেয় ভারতভিত্তিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘গেম অন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট’।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেসটিনি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গোফরানুল হক, টুর্নামেন্টের মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান বাপ্পী, বৈশাখী টেলিভিশনের সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল, বিপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে ডেসটিনি গ্রুপ বিপিএলের প্রথম আসরের জন্য টাইটেল স্পন্সর হয়েছে।
চুক্তি সম্পাদনের আগে মঞ্চে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘বিপিএলের মতো একটি আসরের টাইটেল স্পন্সর হতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে যে খেলাটি বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে এবং সামনের সারিতে নিয়ে এসেছে। এই খেলাটিতে আমরা জনপ্রিয়তা পেয়েছি, সাফল্যও আসতে শুরু করেছে। ফলে খেলার প্রতি আমাদের যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। সেই দুর্বলতা থেকেই বিপিএলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এর মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজকে উদ্দীপ্ত করতে চাই।’৭
টাইটেল স্পন্সর হওয়া প্রসঙ্গে রফিকুল আমীন বলেছেন, ‘দেশকে গড়ে তোলার জন্য ডেসটিনি গ্রুপ নিজেদের অবস্থান থেকে ভালো কাজ করছে। সেই কাজের ধারাবাহিকতায় আমরা ক্রিকেটের বিশাল আয়োজনে সম্পৃক্ত হলাম। প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য চুক্তি হলেও আমরা এখানে থাকতেই এসেছি।’
চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান বাপ্পী বলেছেন, ‘বিপিএলকে ভারতের আইপিএলের মতো জনপ্রিয় করে তুলতে হবে, যে জনপ্রিয়তার স্রোতে আমাদের ক্রিকেটে নতুন জোয়ার আসবে। ক্রিকেট থেকে পরবর্তীতে অন্য ক্রীড়াক্ষেত্রেও তা ছড়িয়ে পড়বে।’ বিপিএলের ম্যাচ সম্প্রচার প্রসঙ্গে বাপ্পী বলেছেন, ‘বিপিএলের ম্যাচ সম্প্রচারের বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে ইএসপিএনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। এছাড়া পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি চ্যালেনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা বাংলাদেশি হিসেবে গর্বের সঙ্গে বলছি, এই প্রথম বাংলাদেশি চ্যানেলের কাছ থেকে বিদেশি চ্যানেল ম্যাচ সম্প্রচারের অধিকার কিনছে।’
নিউজ সোর্স দৈনিক ডেস্টিনি

Wednesday, 1 February 2012

শুরু হলো প্রাণের মেলা, অমর একুশে গ্রন্থমেলা



আজ ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হলো মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১২।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাংলা একাডেমী চত্বরে বাঙালির প্রাণের মেলা ও লেখক, পাঠক, প্রকাশক ও সাধারণের মিলনমেলা হিসেবে খ্যাত অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবারের মতো মেলার পাশাপাশি এবারও রবীন্দ্রমঞ্চে মাসজুড়ে থাকবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানমালা।
মেলা চলবে প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত। ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায়। আর ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ব্রিটিশ কবি উইলিয়াম র‌্যাডিচে, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন প্রমুখ।

সীমান্তহত্যা বন্ধের দাবিতে ৫০ ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাকড!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা বন্ধের দাবিতে এবার ভারতের প্রায় ৫০টি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে বাংলাদেশের একটি হ্যাকার গ্রুপ। বারবার বাংলাদেশী সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশী হত্যা বন্ধে ভারত সরকার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরেও সীমান্তে হত্যা বন্ধ না হওয়ার প্রতিবাদ জানাতে ‘বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার’ নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ এ হ্যাকিং করে। জানা গেছে, কিশোরী ফেলানীসহ বাংলাদেশের সীমান্তে বারবার বাংলাদেশীদের নির্বিচারে ও নৃশংসভাবে হত্যা বন্ধ করতেই বাংলাদেশের এই হ্যাকার গ্রুপটি ভারত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়েবসাইটসহ ২৫ থেকে ২৮শে জানুয়ারি মোট ৪ দিন এ সাইটগুলো হ্যাক করে রাখে। ‘বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার’ গ্রুপের সদস্যরা ওইসব ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে হোমপেজের কনটেন্টও পরিবর্তন করে ফেলেন। অধিকাংশ সাইটের হোমপেজের কনটেন্ট পরিবর্তন করে সেখানে লিখে দেন- ‘ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যার প্রতিবাদে সাইটগুলো হ্যাক করা হলো।’ এরমধ্যে কয়েকটি সাইটে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবিও ট্যাগ করে দেয়া হয়। ভারত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সাইট- ‘হাইওয়ে পুলিশ মহারাষ্ট্র স্টেট’-এর ওয়েবসাইটটি হ্যাক করে ফ্রন্টপেজের মাঝখানে কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানীর ছবি ট্যাগ করে দেয়া হয়। তাতে শিরোনাম লিখে দেয়া হয়- ‘ফিফটিন ইয়ারস ইনোসেন্ট গার্ল ফেলানী কিল্ড বাই ইন্ডিয়ান বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।’ সূত্র: বাংলানিউজ
এর আগে ‘অ্যাবাউট আজ’ শিরোনামের নিচে লিখে দেয়া হয়- ‘হ্যাকড বাই ব্যাকবোন’। তার নিচে লেখা হয়- ‘বিডি ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স’। এর নিচের লাইনে হ্যাকাররা লিখে দেন- ‘দিজ সাইট ইজ হ্যাকড’।
এছাড়া হতভাগ্য কিশোরী ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবির নিচে ‘বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার’ গ্রুপের সদস্যরা লেখেন- ‘উই নেভার ফরগেট’, ‘উই নেভার ফরগিভ’, ‘উই নেভার গিভ আপ’।
এর নিচে ‘বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার’ গ্রুপের সদস্যরা ইংরেজিতে লিখে দেন- ‘স্টপ হ্যাকিং বাংলাদেশ িসাইট অ্যান্ড স্টপ বর্ডার কিলিং এলস উই উইল ডেস্ট্রয় ইওর সাইবার স্পেস’।
এর পরের লাইনে লেখেন- ‘হোয়্যার ইজ হিউম্যানিটি?’
তারপরের লাইন- ‘…শেম অন বিএসএফ..ফা বিএসএফ…শেম…’।
এরপরের লাইনে ওয়েবপেজের অ্যাডমিনের উদ্দেশে হ্যাকাররা লেখেন- ‘অ্যাডমিন ইওর সাইট ডোন্ট হ্যাভ অ্যানি সিকিউরিটি, আই ব্রেক ইট ইন এ সিঙ্গেল অ্যাটাক।’
এছাড়া ওয়েবপেজের ওপরের ডানদিকের ‘ট্রাফিক কারেন্ট নিউজ’-ট্যাবের মূল শিরোনামটি লিখে দেয়া হয়- ‘ট্রাফিক জ্যাম হ্যাকড বাই ব্যাকবোন বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার।’
এই ট্যাবের নিচে আরেকটি ট্যাবের শিরোনাম হচ্ছে- ‘ভেহিকেলস/অ্যাকিউজড ওয়ান্টেড’। এই ট্যাবের নিচে একটি ছবি ট্যাগ করে দেয়া হয়। তাতে দেখা যায়- কাঁটাতারের বেড়ার পাশে মৃত এক ব্যক্তির পড়ে থাকা লাশ। পাশে দাঁড়িয়ে দুই বিএসএফ সদস্য ওই মৃত ব্যক্তির লাশ দেখছেন।
এই ছবির শিরোনামে লেখা রয়েছে- ‘ভেহিকেল নং. : স্টপ বর্ডার কিলিং’। অর্থাৎ এ বক্সটায় মূলত অভিযুক্ত গাড়ির নম্বর লেখা থাকে। সেখানে হ্যাকাররা- ‘স্টপ বর্ডার কিলিং’ লিখে মূলত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
এদিকে, এই ছবির নিচে একটি বক্সে একটি কার্টুন আঁকা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ভারতের পতাকা দিয়ে বানানো একটি জামা গায়ে এক ব্যক্তির আবক্ষ মূর্তি। তার গালে চড় মারছে বাংলাদেশের পতাকা দিয়ে বানানো একটি হাত। চড় খেয়ে সে ভারতীয়ের মাথা ঘুরে গেছে।
এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট হ্যাকারদের কবল থেকে উদ্ধার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে-ারাধমৎড়ঁঢ়রহফরধ.পড়স, শড়মধহঢ়ধমব.পড়.রহ, ফপযড়ষরফধুং.রহ, ংারবর.পড়স। তবে যেসব ওয়েবসাইট হ্যাকারদের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলোর কয়েকটি হচ্ছে-রহফরধংয়ঁধংয.পড়স, নৎরঃরংযংপযড়ড়ষ.পড়.রহ, ংংং-পড়ষষবমব.পড়স, ংবষারধপধফবসু.ড়ৎম, ংৎরমধহমধঃৎধহংঢ়ড়ৎঃ.পড়স।
এদিকে, হ্যাকাররা দাবি করেছেন, ‘ফেলানীকে কাঁটাতারের ওপর গুলি করে সেটি ছবি বানিয়েছে বিএসএফ। সেগুলো আমরা সর্বত্র দেখেছি। সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে তাই সেই একই ছবি আমরা ঝুলিয়ে দিয়েছি ভারতীয় ওয়েবসাইটে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড না থামলে আমাদের হ্যাকিং কর্মকাণ্ড থামবে না।

নিজের ওয়েবসাইট খুলছেন মাধুরী

বলিউডে দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর স্বপ্ন নিয়ে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপরিবারে দেশে ফিরে এসেছেন এক সময়ের পর্দা কাঁপানো বলিউডের অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। এবার তিনি নিজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের কাজে হাত দিয়েছেন। শিগগিরই তাঁর ওয়েবসাইটটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে টুইটারে এক বার্তায় ৪৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘madhuridixit-nene.com নামে ওয়েবসাইট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবার জন্য এক্সক্লুসিভ সব কনটেন্ট দিয়েই সাজানো হবে এটি। সহযোগিতার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
মাধুরী আরও লিখেছেন, ‘আপনারা চাইলে এখনই এই ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। আপনাদের পরামর্শের অপেক্ষায় রইলাম।’
তেজাব, সাজন, বেটা, দিল, হাম আপকে হ্যায় কৌন, দেবদাসসহ অসংখ্য হিট ছবি উপহার দিয়েছেন মাধুরী। চিকিত্সক শ্রীরাম নেনের সঙ্গে ২০০২ সালে গাঁটছড়া বাঁধার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন বলিউডের এই অভিনেত্রী। বিয়ের পর কেবল ‘আজা নাচলে’ ছবিতেই অভিনয় করেছেন নাচে অসাধারণ পারদর্শী এই তারকা। সর্বশেষ ড্যান্স রিয়েলিটি শো ‘ঝলক দিখলা যা ৪’-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আবারও আলোচনায় উঠে আসেন মাধুরী। এই মুহূর্তে ‘দেধ ইশকিয়া’ ছবিসহ ছোট পর্দার কাজও করছেন তিনি।

শাহরুখ-কুন্দার অবশেষে ভাব!

গত সোমবার সঞ্জয় দত্তের পার্টিতে শাহরুখ খান ফারাহ খানের স্বামী সিরিশ কুন্দারকে আক্রমণ করে ধরাশায়ী করার পর হতভম্ভ হয়ে পড়েছিল বলিউড। মঙ্গলবার বিকেলে বিবাদ মিটেছে সিরিশের সঙ্গে শাহরুখের। আর এটা সম্ভব হয়েছে ফারাহ খানের ভাই সাজিদ খান ও শাহরুখ পত্নী গৌরি খানের মধ্যস্থতার কারণেই।
সাজিদ ও গৌরির উদ্যোগে শাহরুখের বাসভবন মান্নাতে আলোচনায় বসেছিলেন শাহরুখ-সিরিস। টিওআই এক খবরে জানিয়েছে, আলোচনার একপর্যায়ে বিবাদ ভুলে গিয়ে সমঝোতায় পৌঁছান তাঁরা। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সাজিদ খান বলেছেন, ‘শাহরুখকে পরিবারের সদস্য বলেই মনে করি আমরা। ফারাহ-সিরিশের বিয়েতে মাত্র তিনজন সাক্ষীর মধ্যে একজন ছিলেন শাহরুখ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তাঁদের ভেতরের বিবাদ মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিই আমি এবং গৌরি। আমরা সবাই শাহরুখের মান্নাত বাসভবনে একত্রিত হই। শেষ পর্যন্ত তাদের সব দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে।’
এদিকে ফারাহ বলেছেন, ‘শাহরুখ-সিরিশের ভাব হয়ে যাওয়ায় আমি যে কী পরিমাণ স্বস্তি পাচ্ছি, তা বলে বোঝাতে পারব না। আর এর পুরো কৃতিত্ব সাজিদ ও গৌরির।’
ফারাহ আরও বলেছেন, ‘এ ঘটনা আমার জন্য যেন শাপে বরই হয়েছে। কারণ, শাহরুখ কথা দিয়েছেন, তাঁর এবং আমার ভেতর গত দুই বছর ধরে যে মনোমালিন্য চলছে তা ভুলে গিয়ে আবারও আগের মতো বন্ধু বনে যাবেন তিনি। তাঁর এই কথা শোনার পর মনে হচ্ছে, আমার কাঁধ থেকে যেন বিশাল একটা বোঝা নেমে গেল।’

ধোনি এবং অধিনায়কত্ব

ধোনি ধোনি
ভালো কাউকে পেলে অবশ্যই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এটা আঁকড়ে ধরে রাখার মতো কিছু নয়

নির্বিকার, অনুভূতিহীন অবাক এক চরিত্র মহেন্দ্র সিং ধোনি। ম্যাচের ফলাফল জানা না থাকলে ধোনিকে দেখে বোঝা মুশকিল, ভারত হেরেছে, না জিতেছে। কিংবা ধোনি সেঞ্চুরি করেছেন, নাকি শূন্য! বিশ্বকাপের পর অনেকেই যখন ধোনিকে ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক বলছিলেন, তখনো ধোনি উচ্ছ্বাসে ভেসে যাননি। এখন সমানে যখন তাঁর মুন্ডুপাত চলছে, তিনি একই রকম শান্ত। টেস্ট সিরিজের পর কালই প্রথম মুখোমুখি হয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমের। জানিয়ে দিলেন, টেস্ট অধিনায়কত্বে পরিবর্তন এলে তা মেনে নেবেন হাসিমুখেই।
বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির মাঝামাঝি থেকেই তোপের মুখে ধোনির অধিনায়কত্ব। বীরেন্দর শেবাগের সঙ্গে দ্বন্দ্বের গুজব, মাঠে নিষ্ক্রিয়তা, নিজের ফর্মের দুর্দশা—সব মিলিয়ে ভারতের ব্যর্থতায় সবকিছুর আগে সামনে চলে আসছে ধোনির ব্যর্থতা। লম্বা সংবাদ সম্মেলনে পরদিনের (আজ) টি-টোয়েন্টি বা আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজের চেয়ে ধোনিকে বেশি কথা বলতে হলো তাই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েই।
যথারীতি ধোনিকে দেখে বা কথা শুনে বোঝার উপায় ছিল না, তাঁর ভেতরে কী চলছে বা আদৌ কিছু চলছে কি না। অধিনায়কত্ব নিয়ে তাঁর ভাবনা: ‘এটা স্রেফ একটা পদ, যত দিন আছি সর্বোচ্চ ভালো করার চেষ্টা করব। কিন্তু এমন নয় যে যেনতেনভাবে এটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করব। যদি আমার চেয়ে ভালো পরিবর্ত পাওয়া যায়, সে আসতে পারে। এটা উন্মুক্ত একটা ব্যাপার। দিন শেষে ভারত ভালো করুক, এটাই সবার চাওয়া। ভালো কাউকে পেলে অবশ্যই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এটা আঁকড়ে ধরে রাখার মতো কিছু নয়।’
ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় জ্বালানির জোগান দিয়েছেন নিজেই। সিরিজের মাঝপথেই বলেছিলেন, আগামী বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিতে ২০১৩ সালে হয়তো টেস্ট ক্রিকেট ছাড়তে পারেন। সিরিজের মাঝখানে তাঁর এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কাল নিজের ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন, ‘আমি বলেছিলাম, ২০১৩ সালের শেষে....এটা কেবল ২০১২ সালের শুরু। ২০১৩ এখনো দুই বছর বাকি। দুই বছর বেঁচে থাকব কি না, এটাই তো জানি না! অনেক লম্বা সময় এটা। এ জন্যই বলেছিলাম, ২০১৩-এর শেষে ভেবে দেখব আমি বিশ্বকাপ খেলতে পারব কি না। কোনো নির্দিষ্ট একটা সংস্করণের ব্যাপার নয়, এটা ক্রিকেটের ব্যাপার। ২০১৪ পর্যন্ত আমি খেলতে পারব না এবং ধরা যাক পরের বিশ্বকাপ খেলার মতো ফিট আমি নই। তখন দেখা যাবে এমন একজনকে বিশ্বকাপে নিতে হচ্ছে, যে মাত্র ২৫টি ম্যাচ খেলেছে।’
টেস্ট ক্রিকেট ছাড়তে চাওয়ায় সৌরভ গাঙ্গুলীসহ অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ধোনি টেস্ট ক্রিকেটে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন কি না। এই প্রশ্নেই কেবল চরিত্রের বাইরে গিয়ে খানিকটা উত্তেজিত ধোনি, ‘অবশ্যই টেস্টে আমার আগ্রহ আছে, এটাই আসল ক্রিকেট। তবে সব ধরনের ক্রিকেটেরই আলাদা চ্যালেঞ্জ আছে। সবগুলোই রোমাঞ্চকর। যত দিন পারি, আমি তিন সংস্করণই খেলে যাব।’
টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে ভারত অধিনায়ক হয়ে গেলেন দার্শনিক, ‘এখনো আমি পথে আছি...২০১৩ সাল নিয়ে আমি বলেছি, যেটা এখনো দুই বছর দূরে। আপনি জানেন না, তখনো আপনি ক্রিকেট কাভার করবেন কি না। আমি জানি না, আমি ক্রিকেট খেলব কি না। এটা এখনো অনেক দূরের পথ।’
সময়ের আলোচিত প্রশ্নটি আবার হলো একটু ঘুরিয়ে। ভারতের হয়ে তিন ধরনের ক্রিকেটে ব্যাটিং-কিপিং-অধিনায়কত্ব—একই দায়িত্ব আইপিএল-চ্যাম্পিয়নস লিগে, এত চাপ সামলে ভারতের আসন্ন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই কি যোগ্যতম? ধোনির উত্তর তাঁর মতোই, ‘কেউ নিজে তো আর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, সে যোগ্য কি না। সিদ্ধান্ত নেয় অন্যরা। যদি চেষ্টার কথা বলা হয়, এটুকু বলতে পারি আমি শতভাগই দিচ্ছি।’ ওয়েবসাইট।

পাঠকের মন্তব্য



সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন
 
Jahir Mamun
Jahir Mamun
২০১২.০২.০১ ০৪:১৮
If dhoni plays for india team, then he should play as captain only, there is nobody else to lead india cric team.
Aritra chaterjee (kolkata)
Aritra chaterjee (kolkata)
২০১২.০২.০১ ০৬:২৫
Good Luck India. Dhoni is a great captain
Ronnie Chowdhury
Ronnie Chowdhury
২০১২.০২.০১ ০৯:১৩
that's why you are the best. another legend after Anil Kumble in India team.
Md.Moshiur Rahman
Md.Moshiur Rahman
২০১২.০২.০১ ১০:৫২
Dhoni is a great captain all the best
Md Dalim
Md Dalim
২০১২.০২.০১ ১৩:৫০
I FEEL VERY HAPPY AND COMFORTABLE WITH DHONY. BECOUSE DHONY SAID GOOD WORD FOR PERSON OF THE WORLD. I LIKE DHONY BECOUSE HE IS A GOOD CAPTAIN.
Tanher
Tanher
২০১২.০২.০১ ১৪:০৬
You are the champ Dhoni.Keep it up.
Tushar (Kolkata)
Tushar (Kolkata)
২০১২.০২.০১ ১৪:৫১
nicely said.......

Tuesday, 31 January 2012

হূতিকের অগ্নিপরীক্ষা

  • অগ্নিপরীক্ষা ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও হূতিক রোশন অগ্নিপরীক্ষা ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও হূতিক রোশন
  • সঞ্জয় দত্ত সঞ্জয় দত্ত
অভিষেক বচ্চন বরাবরই বলে এসেছেন, বাবা অমিতাভ বচ্চন অভিনীত সব ছবির মধ্যে অগ্নিপথ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ছবি। সুযোগ পেলে বিজয় দীননাথ চৌহান চরিত্রে চেষ্টার শেষ বিন্দু দিয়ে কাজ করবেন বচ্চন জুনিয়র। কিন্তু ভাগ্যের লিখন, না যায় খণ্ডন! অভিষেকের বাল্যবন্ধু হূতিক রোশন যেখানে বরাবর পত্রিকা মারফত জানিয়েছিলেন, পুরোনো কোনো ক্ল্যাসিক ছবির রিমেকে তাঁর অরুচি; সেখানে প্রযোজক করন জোহর অভিষেক নয়, হূতিকের কাছেই ছুটে গিয়েছিলেন অগ্নিপথ রিমেকের প্রস্তাব নিয়ে। ভারত থেকে সুদূর স্পেন পর্যন্ত করন গিয়েছিলেন হূতিককে ছবির গল্প শোনাতে। কিন্তু হূতিক তো ’৯০ সালেই অমিতাভ বচ্চনের এ ছবিটি পরপর দুই শোতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো গিলেছিলেন। তাঁর গল্প শোনার প্রয়োজন কী? মনে মনে করনকে ‘না’ বলার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন হূতিক। কষ্ট পাচ্ছিলেন বেচারা করন। এত দূর ভ্রমণ করেছেন শুধু তাঁকে রাজি করানোর জন্য। হূতিক বুঝতে পারেন, ছবির প্লট এক হলেও অমিতাভ বচ্চনের বিজয় দীননাথ চৌহান আর নতুন বিজয় দীননাথ চৌহান সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চরিত্র। এরপর হূতিক শুধু ছবিটি করতে রাজিই হননি, পারিশ্রমিকও এক ধাপে কমিয়ে ফেলেন। প্রযোজক করন জোহরের বাবা প্রয়াত যশ জোহর চেয়েছিলেন করন কোনো একদিন তাঁর এ প্রিয় ছবিটি রিমেক করুক। সেই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা থেকেই হূতিক তাঁর পারিশ্রমিক ছাড় দিয়েছেন। অনেকেই জানেন না, অমিতাভ বচ্চন তাঁর বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে মাত্র তিনবার সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন; যার প্রথম পুরস্কারটি ছিল ’৯০-এ মুক্তি পাওয়া অগ্নিপথ-এর জন্য। বিভিন্ন সময় দর্শকধন্য হলেও বক্স অফিসে কিন্তু সে সময় ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল। অগ্নিপথ-ব্র্যান্ডের পাগল ভক্ত করন জোহরের সহকারী করন মালহোত্রাকে পরিচালকের চেয়ারে বসিয়েছেন করন জোহর। অমিতাভ বচ্চনকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই হূতিকের বিজয় দীননাথকে নতুন ঢঙে উপস্থাপন করেছেন করন। মিঠুন চক্রবর্তীর চরিত্র বাদ দিয়ে নতুন একটি চরিত্র ঋষি কাপুরকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
অগ্নিপথ-এর ট্রেলার মুক্তির পর ইউটিউবে এত হিট পড়েছে, যা সম্প্রতি অন্য কোনো ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। হূতিক রোশন তো বটেই, তবে সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন ‘কাঞ্চা’ সঞ্জয় দত্ত। হূতিক নিজেই বলেন, ‘শুটিং করতে গিয়ে আমি নিজেই সঞ্জু স্যারকে দেখে ভয় পেয়েছি।’ পরিচালক করন মালহোত্রা কাঞ্চাকে দেখতে চেয়েছেন ন্যাড়া মাথার ভ্রুহীন একজন ভয়ংকর মানুষ হিসেবে। কিন্তু সঞ্জয় অন্য ছবির শুটিং থাকায় ন্যাড়া হতে রাজি হননি। বাধ্য হয়েই প্রযোজক করন জোহর এলএ থেকে নকল টাক এনে শুটিং শুরু করেন। কিন্তু অজপাড়াগাঁয়ে শুটিংয়ের সময় অতিরিক্ত গরমে সঞ্জয়ের টাক গলে পড়তে থাকে। বাধ্য হয়েই তৎক্ষণাৎ সঞ্জুবাবা সিদ্ধান্ত নেন, অন্য ছবিগুলোর শুটিং পিছিয়ে দেবেন। মুহূর্তেই মাথা কামিয়ে নতুন রূপে হাজির হন তিনি। হূতিক বলেন, গব্বর সিং, মোগাম্বোর পাশাপাশি আরও একটি নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে—কাঞ্চা। এ ছবির জন্য সঞ্জু স্যারের পুরস্কার সুনিশ্চিত।’
এক যুগ আগে কহো না পেয়ার হ্যায় মুক্তির আগেই মিশন কাশ্মীর ছবিতে সঞ্জয়ের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন হূতিক। তখন থেকেই সঞ্জুবাবাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করেন ডুগ্গু ওরফে হূতিক। তিনি বলেন, ‘রিয়েলিটি শো জাস্ট ড্যান্সের শুটিং শেষ করে গ্রামে গিয়ে ব্যায়াম করার জন্য অত সময় পেতাম না। সঞ্জু স্যারই আমার দুরবস্থা চিন্তা করে সেখানে জিম তৈরি করে দেন। তাঁর নিজের বাবুর্চিদের দিয়ে আমার জন্য স্পেশাল খাবার অর্ডার করেছেন প্রতিদিন। যখন ক্লান্ত হয়ে যেতাম, তখন তাঁকে দেখেই অনুপ্রেরণা পেতাম, পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সেও তাঁর সে কী উদ্যম! অগ্নিপথ-এর ক্লাইমেক্স দৃশ্য ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিনতম দৃশ্য। শরীরের সব কাপড় ছেঁড়া, সারা শরীরে রক্ত, প্রতিদিনই আঘাত পেয়েছি। রক্ত ঝরেছে। এভাবে টানা ২২ দিনে ক্লাইমেক্সের কাজ শেষ করেছি। তবে সঞ্জু স্যার না থাকলে কাজটা আরও কষ্টসাধ্য হতে পারত।’
অগ্নিপথ কোনো প্রেমের গল্প নয়। তবে ছবির নায়িকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে হূতিকের প্রাণশক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। হূতিকের ভাষায়, ‘প্রিয়াঙ্কার “কালী” চরিত্রটি বেশ ছোট। তবে এ চরিত্রেই প্রিয়াঙ্কা সবাইকে কাঁদিয়ে ছাড়বে। আর ক্যাটরিনা কাইফ? ছবির আইটেম গান চিকনি চামেলি তো বাম্পার হিট!’ হূতিক বলেন, ‘অনেকেই বলেছিলেন ক্যাটরিনার সঙ্গে আমারও নাচ করা উচিত। আমিও তা-ই ভেবেছিলাম। কিন্তু মহড়ায় ক্যাটের মুদ্রা দেখে আমি অপলক চেয়ে ছিলাম। বলা যায়, ভয় পেয়েছিলাম। সত্যি বলছি, মাধুরী, অ্যাশ এর পর এই প্রথম কোনো নায়িকাকে দেখে মনে হয়েছে আমি নাচতে পারি না। করন জোহর জানান, ‘চিকনি চামেলি’ সংগীত পরিচালক অজয়-অতুলের মারাঠি ছবি যাত্রার ‘কোম্বাডি পালেলি’ গানের হিন্দি সংস্করণ। ক্যাটরিনা এ গানের জন্য ১০ দিনে টানা আট ঘণ্টা করে মহড়া করেছেন। এরপর ১০ দিনে শুটিং করেছেন। অথচ করনের কাছ থেকে একটি কানাকড়িও নেননি পারিশ্রমিক হিসেবে। করনকে ভালোবেসেই ক্যাট এ ছবিতে কাজ করেছেন। করনও তাঁর প্রতিদান দিয়েছেন ক্যাটকে একটি ফেরারি উপহার দিয়ে।
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আজ মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এ ছবিটি। সবার চোখ এখন অগ্নিপথ-এর দিকে। শুধু সুপারহিট তকমা নয়, অগ্নিপথ হূতিক-করন জোহরকে প্রথমবারের মতো ১০০ কোটির ছবি এনে দেবে—ভবিষ্যদ্বাণী করতে বসেছেন অনেকেই।
[টাইমস অব ইন্ডিয়া, রেডিফ, আইএএনএস, ডিএনএ ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, মুম্বাই মিরর, আইবিএন, বলিউড হাঙ্গামা ডট কম অবলম্বনে]
 রুম্মান রশীদ খান
[বলিউড হাঙ্গামা, আইএমডিবি, রেডিফ, আইবিএন লাইভ, ইন্ডিসিনে অবলম্বনে]

বিজয়রথে 'অগি্নপথ'

ফয়সাল আহমেদ
ঠিক এক যুগ পর ঋতি্বক রোশন আবার টপকে গেলেন সবাইকে। ২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছিল তার ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রথম ছবি 'কহো না পেয়ার হ্যায়'। এর ঠিক আগের সপ্তাহেই [৭ জানুয়ারি] মুক্তি পেয়েছিল আমির খানের 'মেলা'। আর পরের সপ্তাহে [২১ জানুয়ারি] শাহরুখ খানের 'ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি'। দুটোই গিয়েছিল ফ্লপের ঘরে। কিন্তু ব্লকবাস্টার হয়েছিল ডুগ্গুর [ঋতি্বকের ডাকনাম] 'কহো না পেয়ার হ্যায়'। ফলে বলিউড সেদিন নতুন সুপারস্টার পেয়েছিল। ২০১২ সালে এসে জানুয়ারিতে আবার ঋতি্বক-বন্দনা। তার 'অগি্নপথ' প্রথম দিনেই ব্যবসা করেছে ২৩ কোটি রুপি। এটা কী করে সম্ভব? ঈদে ছবি মুক্তি দিয়েও সালমান খানের 'বডিগার্ড' প্রথম দিনে আয় করেছিল ২১ কোটি ৬২ লাখ রুপি। দীপাবলিতে 'রা.ওয়ান' দিয়ে শাহরুখ প্রথম দিনে পকেটে ভরেছিলেন ১৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি। সেখানে কোনো ধরণের উৎসব ছাড়াই বছরের শুরুতে মানুষ যখন ব্যস্ত সময় পার করে, তখন ছবি মুক্তি দিয়ে ঋতি্বক ইতিহাস গড়লেন। 'অগি্নপথ'-এর অগ্রিম টিকিট বিক্রি দেখেই প্রথম দিনের ব্যবসা যে সাফল্যময় হবে তা ভেবেছিলেন বলিউড বিশ্লেষকরা। কিন্তু সেটা যে ২৩ কোটিতে গিয়ে পেঁৗছবে তা ধারণা করতে পারেনি কেউই। বক্স অফিস বিশেষজ্ঞ তরণ আদর্শ বলেন, 'বছরের শুরুতে কোনো ছবি যে ভালো ব্যবসা করতে পারে, তা ঋতি্বক দেখিয়েছিলেন বারো বছর আগে। আর এক যুগ পর তিনি এমন একটা লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করলেন, যা টপকানো বছরের যে কোনো সময়ের জন্যই কঠিন কাজ হবে।'
গত শুক্রবার কর্মব্যস্ত দিনেও ছবিটির আয় ১৮ কোটি রুপি। মোট তিন দিনে এখন পর্যন্ত ছবির আয় দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি। ধারণা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহে এই ছবির আয় ১০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাবে। তাতেই ঋতি্বক ঢুকে পড়বেন খানের রাজ্যে। এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই ঋতি্বক বেশ উচ্ছ্বসিত। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, "ধন্যবাদ সাবইকে। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমের ছবি। আমার পরিশ্রমের মূল্য ভক্তকুল দিয়েছে বলে বেশ আনন্দ হচ্ছে। এখন শান্তিতে 'কৃষ' ছবির কাজ চালিয়ে যেতে পারব।"
এদিকে এই সাফল্যে প্রিয়াংকা চোপড়া খুশি হলেও তা উপভোগ করতে পারছেন না। কারণ অনুরাগ বসু পরিচালিত 'বরফি'র কাজ নিয়ে ব্যস্ত ২৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। 'আমাদের পরিশ্রম সার্থক। কিন্তু কি করবো, ব্যস্ততা ছাড়ছেই না!'
'অগি্নপথ'-এর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যক্তি কাঞ্চা চিনা চরিত্রের অভিনয়শিল্পী সঞ্জয় দত্ত বলেছেন, 'সবাইকে ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করার জন্য।' মজার বিষয় হলো, এতে সঞ্জুবাবাকে এতটাই ভয়ঙ্কর দেখায় যে, তার যমজ সন্তান ছবিটি দেখার সাহস পাচ্ছে না। পর্দার বাইরে বাবাকে এতটা সহিংস রূপে দেখতে মোটেই অভ্যস্ত নয় তারা। তার স্ত্রী মান্যতা দত্তের খুব ভালো লেগেছে 'অগি্নপথ' ও স্বামী সঞ্জয়ের শিহরণ জাগানো অভিনয়। কিন্তু সঞ্জুবাবা নিজে কিন্তু খুব বেশি সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, 'চরিত্রটি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারতো।' অবশ্য ছবি মুক্তির আগে কাঞ্চা চিনাকে গাব্বার সিংয়ের সঙ্গে তুলনা করেন ঋতি্বক। অনেকের মত, 'খলনায়ক' ছবির পর সঞ্জয় দত্তের এটাই একমাত্র ছবি, যা দেখে মানুষ তাকে মন্দ মানুষ ভাবতে পারে!
ছবিটির আইটেম গান 'চিকনি চামেলি'ও সাড়া জাগিয়েছে। এই গানে ক্যাটরিনা কাইফের নাচের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন হাসির ছবির পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া অমিতাভ বচ্চন অভিনীত 'অগি্নপথ'-এর রিমেক এটি। কিন্তু মূল ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। সেদিক থেকেও সফল এই 'অগি্নপথ'। মূল ছবির প্রযোজক ছিলেন করন জোহরের বাবা যশ জোহর। করণ জোহরও ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, 'আমি দারুণ খুশি। কারণ আমি বাবার স্বপ্নকে সত্যি করতে পেরেছি।' একটি কালজয়ী ছবিকে নতুনভাবে গড়া কঠিন কাজ। পরিচালক করন মালহোত্রা, ঋতি্বক, প্রিয়াংকা ও সঞ্জয় দত্ত মিলে সেই কঠিন কাজই করেছেন। অথচ করনের একটা দুশ্চিন্তা ছিল ছবির দৈর্ঘ্য নিয়ে। 'বডিগার্ড' এবং 'রা.ওয়ান'-এর চেয়ে অনেক লম্বা এটি। এ কারণে সব প্রেক্ষাগৃহে দিনের প্রদর্শনীর সংখ্যা একটি করে কমাতে হয়েছে। তারপরও যে ছবিটি এতটা ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে, তা ভাবতেই পারছেন না অনেকে। এ-ও ভাবা হচ্ছে, 'অগি্নপথ'ই ঋতি্বকের বৃহত্তম হিট হতে যাচ্ছে কি-না। এর আগে 'জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা' ব্যবসা করেছিল ৯০ কোটি রুপি।
বিজয় দীনানাথ চৌহানের চরিত্রে বিগ বির স্থানে 'অগি্নপথ'-এ ঋতি্বকের অভিনয় নিয়ে এখন তুলনার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, ঋতি্বকই এই চরিত্রে ভালো করেছেন। কিন্তু এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'বিগ বির সঙ্গে আমাকে তুলনা করা মোটেও ঠিক নয়।
তিনি অনেক উঁচুমাপের অভিনেতা। আমার ইচ্ছা ছিল ছবিটি প্রথমে তাকেই দেখানোর কিন্তু তার ব্যস্ততার কারণে সেটা পারিনি। তবে আশা করব, তিনি ছবিটি দেখবেন এবং পর্যালোচনা করবেন। তার সমালোচনা শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।'
এদিকে ২৬ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া 'অগি্নপথ' দেখে বলিউড তারকাদের বেশিরভাগই ফিদা! শিল্পা শেঠি টুইটারে মাত্র দুটি শব্দ লিখেছেন, 'পয়সা উসুল।' তার স্বামী রাজ কুন্দ্রও মুগ্ধ। এ ছাড়া অর্জুন রামপাল, রনবীর সিং, জায়েদ খান, মাধবন, আরবাজ খান, দিনো মোরেয়া, আলী জাফর, পরিচালক কুনাল কোহলিসহ অনেকেই টুইটারে ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রীতি জিনতা তার ব্লগে লিখেছেন, 'দারুণ একটা ছবি দেখলাম অনেকদিন পর। সবচেয়ে মজার কথা বলেছেন গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। তিনি লিখেছেন_ 'অগি্নপথ' দারুণ একটা মসলা। চালিয়ে যাও!' হ