
'রা.ওয়ান' দেখার পর অনেকে আফসোস করেছেন! তবে পয়সা নষ্ট হওয়ার জন্য নয়। যে শাহরুখ খানকে দেখে সবাই অভ্যস্ত সেই শাহরুখ খানকে না দেখতে পেরে। সেই লম্বা চুল। ঠোঁটে দুষ্টু হাসি। কণ্ঠ কাঁপিয়ে কথা বলা। এর কোনোটিই ছিল না বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি 'রা.ওয়ান'-এ। তাই সবাই হতাশই হন ছবিটি দেখে। হয়তো তাই বছর শেষে আর নতুন বছরের শুরুতে কিং খান সবাইকে উপহার দিলেন সেই সবার পছন্দের শাহরুখকে! যার চুল বাতাসে খেলা করে, ঠোঁটে থাকে সেই দুষ্টু হাসি আর কাঁপানো কণ্ঠে যিনি দর্শককে বিমোহিত করে রাখেন শুরু থেকে শেষ অবধি। ভক্তদের জন্য এর সবই ছিল 'ডন টু'তে। এরই মধ্যে ছবিটি রেকর্ড গড়েছে। বক্স অফিসের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত এর আয়ের পরিমাণ ১০৩ কোটি ২৪ লাখ রুপি। বলিউডের ইতিহাসে ১০০ কোটি রুপি আয়ের ঘরে নতুন আরেক ছবির নাম যোগ হলো। প্রথম সপ্তাহেই ফারহান আখতার পরিচালিত ছবিটি আয় করেছিল ৭৫ কোটি ৩২ লাখ রুপি। মানে ১০০ কোটির রুপির ঘরে ঢুকতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দুই সপ্তাহ। বলিউডের ইতিহাসে এবারই প্রথম একজন নায়কের অভিনীত দুটি ছবি একই বছরে ১০০ কোটি রুপির ওপরে ব্যবসা করলো। যদিও ১০০ কোটি রুপির ওপরে যে বলিউডের ছবি ব্যবসা করতে পারে, তা প্রথম দেখিয়েছে আমির খানের 'থ্রি ইডিয়টস'। এরপর যুক্ত হয় সালমান খানের 'বডিগার্ড'। একই বছর শাহরুখও চলে এলেন সেই তালিকায় 'রা.ওয়ান' নিয়ে। মজার ব্যাপার হলো, তিনটি ছবির নায়িকাই ছিলেন কারিনা কাপুর। মানে বলিউডের ইতিহাসে ১০০ কোটি রুপির ওপরে ব্যবসা করা প্রথম তিনটি ছবিই কারিনা কাপুরের। তাই বলে কি অন্য কোনো নায়িকা পারবেন না এই মাইলফলক স্পর্শ করতে? পারবে না কেন? তবে সেই ছবির নায়ক নিশ্চয়ই তিন খানের যে কোনো একজনকে হতে হবে। গত বছরের শেষে হলোও তাই। মুক্তি পেল শাহরুখ-প্রিয়াংকা অভিনীত 'ডন টু'। একটা কথা ফলে গেল অক্ষরে অক্ষরে। 'ডন টু' মুক্তির আগে বলিউডের বোদ্ধারা বলেছিলেন এই ছবিই পারে ২০১১ সালকে সমৃদ্ধ করতে। কারণ গত বছর যে ক'টি আলোচিত ছবি মুক্তি পেয়েছিল তার একটিও পারেনি দর্শককে পুরোপুরি বিনোদন দিতে। একমাত্র 'ডন টু' ছিল বছর শেষে সেই ছবি, যা পরিপূর্ণ বিনোদনের খোরাক হয়েছিল। এতে শাহরুখের চেয়ে প্রিয়াংকারই লাভ হয়েছে বেশি! কারণ এই ছবিতে অভিনয়ের সুবাদেই তিনি কারিনা কাপুরের রেকর্ডের বইয়ে ভাগ বসাতে পেরেছেন। এখন আর ১০০ কোটি রুপির নায়িকা কারিনা একা নন, সেখানে প্রিয়াংকার নামও উল্লেখ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এটি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এই দুই দেশে 'বডিগার্ড'-এর চেয়েও বেশি ব্যবসা করেছে 'ডন টু'। বড়দিন আর নতুন বছরের শুরুর ফায়দা লুটে ছবিটি আয় করেছে ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার।
অবশ্য 'ডন টু' ব্যবসায়িক দিক থেকে এত বড় সাফল্যের অংশীদার হবে, তা কেউই ভাবেনি। এজন্যই ছবিটি নিয়ে প্রচারও বড় বাজেটের অন্য ছবির চেয়ে অনেক কম ছিল। এটি ২০০৬ সালে নির্মিত 'ডন'-এর সিক্যুয়েল। অবশ্য সেই 'ডন'ও অমিতাভ বচ্চনের 'ডন'-এর নবনির্মাণ। তাই শাহরুখ খান 'ডন টু' মুক্তির আগে বলেছিলেন, 'অমিতাভ বচ্চনই আসল ডন।' যদিও বিগ বি'র 'ডন' ১০০ কোটি রুপি আয়ের স্বাদ পায়নি! যদিও নতুন ছবিটি মুক্তির আগে এতটা আশা করেননি পরিচালক ফারহান আখতার। তিনি বলেন, 'এখন সময় সব কিছু নতুনভাবে ভাবার। কারণ আমি 'ডন টু' দিয়ে এত আশা করিনি। এর সবই সম্ভব হয়েছে শাহরুখ খানের জন্য।'
শাহরুখ খান যে খলনায়ক হিসেবে বরারবই ভালো, এটা কাউকে এখন বলে দিতে হবে না। সেই 'বাজিগর' থেকে আজকের 'ডন টু'। মন্দমানুষ শাহরুখ মানেই মনে রাখার মতো ছবি। হয়তো তাই শাহরুখ খান চান না নিজের নাম নিয়ে অন্য খানদের সঙ্গে লড়াই করতে। এর অবশ্য যথেষ্ট কারণও আছে। ভারতে যে ক'টা অনুষ্ঠান বেশ জাঁকজমকভাবে পালন করা হয় তার মধ্যে দীপাবলি, ঈদ এবং বড়দিন হলো উল্লেখযোগ্য। আর দীপাবলি ও বড়দিন দুই উৎসবেই ছবি মুক্তি দিয়েই শাহরুখ খান এখন পর্যন্ত ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল নায়ক। তবে বলিউডে ঈদ মানেই সালমান খান। অবশ্য সবচেয়ে লাভজনক অভিনেতা তারা দু'জনই।
No comments:
Post a Comment