Wednesday, 18 January 2012

ব্যর্থতা মেনে নিলেন গম্ভীর

কেউ বলছেন আইপিএল, কেউ বলছেন বুড়ো দল। কেউ বা আবার দুষছেন নির্বাচকদের। ৬৪ বছরের খরা ঘোচানোর আশা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ভারত এখন ধবলধোলাই হওয়ার শঙ্কায়। গৌতম গম্ভীর কোনো অজুহাত দেখাননি, মেনে নিয়েছেন নিজেদের ব্যর্থতা। তবে একহাত নিয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্মণের সমালোচকদের। সিরিজ হারে মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বেরও কোনো দায় দেখছেন না ভারতীয় ওপেনার।
গম্ভীরের আশা, অ্যাডিলেডে হূত গৌরবের কিছুটা হলেও ফেরাতে পারবে ভারত, ‘এই সফরে আমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা ছিল...আমাদের যে ব্যাটিং শক্তি, সেই বিচারে পুরো জাতিকেই আমরা হতাশ করেছি। আশা করি, অ্যাডিলেডে ঘুরে দাঁড়াতে পারব, দেশের মানুষের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফোটাতে পারব।’ দলের পারফরম্যান্সে সমালোচনার ঝড় বইছে ভারতে, যেটিকে যৌক্তিক বলে মেনে নিচ্ছেন গম্ভীর, ‘সব সমালোচনা আমরা মাথা পেতে নিচ্ছি। সমালোচনার সুযোগ আমরাই করে দিয়েছি। আমরা ভালো খেলিনি, আমি প্রথমেই সেটা মেনে নিচ্ছি। এক নম্বর টেস্ট দল হতে হলে দেশের বাইরে—যেমন অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় জিততে হবে।’
লক্ষ্মণের সমালোচনা অবশ্য মেনে নিতে পারছেন না। সমালোচনার তির সবচেয়ে বেশি ৩৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের দিকেই। ইংল্যান্ডে ভারতের ধবলধোলাইয়ের সিরিজে লক্ষ্মণের গড় ছিল ২২.৭৫। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে রানে ফিরেছিলেন, ২৯৮ করেছিলেন ৯৯.৩৩ গড়ে। অস্ট্রেলিয়ায় আবার দুরবস্থা, ১০২ রান করেছেন ১৭ গড়ে। সাবেকদের অনেকেই বলছেন, লক্ষ্মণকে বাদ দিয়ে রোহিত শর্মাকে খেলাতে। পার্থেই লক্ষ্মণ শেষ টেস্ট খেলে ফেলেছেন কি না, এমন আলোচনাও হয়েছে। এখনো জোর গুঞ্জন আছে, সিরিজ শেষেই বিদায় জানাবেন ক্রিকেটকে।
এমন কথাবার্তা হচ্ছে জেনেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ গম্ভীর। জানিয়ে দিয়েছেন, অবসরের সময়টা লক্ষ্মণ নিজেই নির্ধারণ করবেন, ‘শুধু একজনের কেন সমালোচনা করা হচ্ছে? ও খেলাটার একজন কিংবদন্তি, কেন শুধু ভিভিএস লক্ষ্মণ? প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের সবারই সমালোচনা করা উচিত। আমরা সবাই ব্যর্থ হয়েছি। দীর্ঘ সময় ধরে ও ভারতীয় ক্রিকেটের সেবা করে আসছে। লক্ষ্মণ কখন অবসর নেবে, এটা অন্য কারও ঠিক করা উচিত নয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুই তার নিজের।’
একসময় ‘ক্যাপ্টেন কুল’ হিসেবে যাঁর নামে ধন্য ধন্য রব ছিল, সেই মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বেরও তীব্র সমালোচনা হচ্ছে এখন। স্লো ওভার রেটের কারণে নিষিদ্ধ হওয়ায় অ্যাডিলেডে থাকছেন না ধোনি। ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক বীরেন্দর শেবাগ। অধিনায়কত্বের পরিবর্তনে বদলে যাবে দলের ভাগ্য, এমন আশা অনেকের। তবে গম্ভীর হেসেই উড়িয়ে দিলেন এটাকে, ‘আমি সব সময়ই বিশ্বাস করে এসেছি, একজন অধিনায়ক ততটাই ভালো, যতটা ভালো তার দল। অধিনায়ক একা কখনো পার্থক্য গড়তে পারে না, দলের ১১ জন মিলে পার্থক্য গড়তে হয়। এমএস (ধোনি) দারুণ করেছে, কিন্তু গোটা দলই ব্যর্থ হয়েছে। দায় সবারই। বীরু (শেবাগ) নেতৃত্ব দিয়ে একা এমন কী পার্থক্য গড়ে দেবে!’
এএফপি, ওয়েবসাইট।

No comments:

Post a Comment