টেন্ডুলকার ও লারাকে নিয়ে তর্ক হতো। পন্টিং থাকতেন একটু আড়ালে। বাজে সময় কাটিয়ে পন্টিংয়ের স্বরূপে ফেরা আধুনিক তিন ব্যাটিং গ্রেটের মধ্যে কে সেরা—এই আলোচনায় নতুন রসদ জুগিয়েছে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল ক্রিকইনফোতে লেখা তাঁর কলামে খুঁজেছেন এই প্রশ্নের উত্তর
গত কয়েক মাসে রিকি পন্টিংয়ের অসাধারণ পুনর্জাগরণ শীর্ষবিন্দু ছুঁয়েছে অ্যাডিলেড ওভালের লড়াকু ডাবল সেঞ্চুরিতে। সম্ভাব্য অবসর থেকে মোড় পাল্টে আলোচনা এখন খেলাটায় পন্টিংয়ের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে।
যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিন ব্যাটসম্যান হিসেবে শচীন টেন্ডুলকার ও ব্রায়ান লারার সঙ্গে যে রিকি পন্টিংকেই রাখা উচিত, এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে দুর্দান্ত এই তিন স্ট্রোকমেকারের মধ্যে সেরা কে?
টেন্ডুলকারের পক্ষে অনেক যুক্তির কারণ, এক শ কোটির বেশি লোকের এক দেশে নিজেকে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে ও, স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান নিজে টেন্ডুলকারকে তাঁর সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এটি অসাধারণ এক কৃতিত্ব, যা ওর দক্ষতা ও স্থায়িত্বের পরিচায়ক।
পন্টিংয়ের পক্ষে যুক্তি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওর বৈচিত্র্য এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই চালানোর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। সব সময়ই প্রতিপক্ষের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে ব্যাটিং করতে চেয়েছে ও, আবার টেস্ট বাঁচাতে সর্বকালের সেরা ইনিংসগুলোর একটি খেলেছে ২০০৫ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখে কখনো মুখ লুকায়নি পন্টিং, বয়সের সঙ্গে ওর সাম্প্রতিক লড়াই যেটির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। নান্দনিকতায় পন্টিং হয়তো টেন্ডুলকারের পেছনে থাকবে, কিন্তু অধ্যবসায়ে ও কারও চেয়েই পিছিয়ে থাকবে না।
চোখের আড়াল মানেই মনের আড়াল—এটার ধ্রুপদি উদাহরণ অবসরে যাওয়া ব্রায়ান লারা এখন আর সেভাবে আলোচনায় আসে না। ওকে আলোচনার বাইরে রাখা ঠিক নয়। হারিয়ে যাওয়া রেকর্ড আবার নিজের করে নিয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখনো তাঁর এবং টেস্ট ক্রিকেটে ‘বড়’ সেঞ্চুরির দিক থেকে ও আছে ঠিক ব্র্যাডম্যানের পরই। টেস্ট ক্রিকেটে ৪০০ রানের একমাত্র ইনিংসের সঙ্গে একটি ট্রিপল ও সাতটি ডাবল সেঞ্চুরি। বড় রানের অসাধারণ কৃতিত্ব এই রেকর্ড, আরও যদি ভাবা যায়, টেন্ডুলকার বা পন্টিংয়ের কারও ট্রিপল সেঞ্চুরি নেই।
বড় ইনিংস কীভাবে গড়তে হয়—এই ক্ষেত্রে লারা বাকি দুজনের চেয়ে এগিয়ে। দ্রুত রান করতে কোন বোলারকে টার্গেট করতে হবে আর কোন বোলার তার জন্য বিপজ্জনক—এটা বোঝার একটা সহজাত ক্ষমতা ছিল লারার। এভাবেই হঠাৎই ও দারুণ দ্রুতগতিতে রান করত, বাকি সময়টায় ধীরে-সুস্থে। নিজের সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগে ও বিশাল সব ইনিংস খেলত। সেরা বোলাররা তরতাজা থাকার সময় তাদের বিপক্ষে দ্রুত রান করার ঝুঁকি ও নিত না, কিন্তু সুযোগমতো দ্রুত রান করে রানরেটের দ্রুতগতি ঠিকই ধরে রাখত।
এই ব্যাটিংয়ের জন্যই ও ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই গতিতে ব্যাটিং করে যেতে পেরেছে, যেটা এমনকি ব্র্যাডম্যানও পারেননি। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়ার ১০ বছর পর আবার সেটা ছিনিয়ে নেওয়ার অনন্যসাধারণ কীর্তি লারা এ জন্যই গড়তে পেরেছে।
ক্রিকেট-বিশ্ব যখন টেন্ডুলকারের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির অপেক্ষায়, পন্টিং তখন নীরবে আড়াল থেকে স্বরূপে ফিরেছে। কঠোর পরিশ্রম করে ও স্বরূপে ফিরেছে। অ্যাডিলেডে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওকে আরও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে এবং ইনিংসটাকে ডাবল সেঞ্চুরি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ায় ‘কখন অবসর নেবে’ থেকে আলোচনাটা এখন ‘কত দিন খেলে যাবে?’
কোনো সন্দেহ নেই, পন্টিং নতুনভাবে শুরু করতে পেরেছে এবং ওর ঝলমলে ক্যারিয়ারে আরও অনেক কিছুই যোগ হবে। পরিসংখ্যানের পাতায় পন্টিং টেন্ডুলকারকে কখনোই ছুঁতে পারবে না, কিন্তু আলোচিত সেঞ্চুরিটা নিয়ে টেন্ডুলকার যখন বারবার হোঁচট খাচ্ছে, মূলত মানসিক অস্থিরতার কারণে, পন্টিং তখন মুগ্ধতা ছড়িয়েছে মানসিক শক্তিতে।
যা-ই হোক, আমাকে যদি তিনজনের মধ্যে একজন বেছে নিতে বলা হয়, আমি নেব লারাকেই। স্পিন বোলিংটা ও যেভাবে খেলত, সেটা আমি ভীষণ পছন্দ করতাম। শ্রদ্ধা করতাম সবকিছুই ওর নিজের মতো করে করার সাহসকেও।
গত কয়েক মাসে রিকি পন্টিংয়ের অসাধারণ পুনর্জাগরণ শীর্ষবিন্দু ছুঁয়েছে অ্যাডিলেড ওভালের লড়াকু ডাবল সেঞ্চুরিতে। সম্ভাব্য অবসর থেকে মোড় পাল্টে আলোচনা এখন খেলাটায় পন্টিংয়ের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে।
যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিন ব্যাটসম্যান হিসেবে শচীন টেন্ডুলকার ও ব্রায়ান লারার সঙ্গে যে রিকি পন্টিংকেই রাখা উচিত, এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে দুর্দান্ত এই তিন স্ট্রোকমেকারের মধ্যে সেরা কে?
টেন্ডুলকারের পক্ষে অনেক যুক্তির কারণ, এক শ কোটির বেশি লোকের এক দেশে নিজেকে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে ও, স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান নিজে টেন্ডুলকারকে তাঁর সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এটি অসাধারণ এক কৃতিত্ব, যা ওর দক্ষতা ও স্থায়িত্বের পরিচায়ক।
পন্টিংয়ের পক্ষে যুক্তি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওর বৈচিত্র্য এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই চালানোর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। সব সময়ই প্রতিপক্ষের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে ব্যাটিং করতে চেয়েছে ও, আবার টেস্ট বাঁচাতে সর্বকালের সেরা ইনিংসগুলোর একটি খেলেছে ২০০৫ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখে কখনো মুখ লুকায়নি পন্টিং, বয়সের সঙ্গে ওর সাম্প্রতিক লড়াই যেটির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। নান্দনিকতায় পন্টিং হয়তো টেন্ডুলকারের পেছনে থাকবে, কিন্তু অধ্যবসায়ে ও কারও চেয়েই পিছিয়ে থাকবে না।
চোখের আড়াল মানেই মনের আড়াল—এটার ধ্রুপদি উদাহরণ অবসরে যাওয়া ব্রায়ান লারা এখন আর সেভাবে আলোচনায় আসে না। ওকে আলোচনার বাইরে রাখা ঠিক নয়। হারিয়ে যাওয়া রেকর্ড আবার নিজের করে নিয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখনো তাঁর এবং টেস্ট ক্রিকেটে ‘বড়’ সেঞ্চুরির দিক থেকে ও আছে ঠিক ব্র্যাডম্যানের পরই। টেস্ট ক্রিকেটে ৪০০ রানের একমাত্র ইনিংসের সঙ্গে একটি ট্রিপল ও সাতটি ডাবল সেঞ্চুরি। বড় রানের অসাধারণ কৃতিত্ব এই রেকর্ড, আরও যদি ভাবা যায়, টেন্ডুলকার বা পন্টিংয়ের কারও ট্রিপল সেঞ্চুরি নেই।
বড় ইনিংস কীভাবে গড়তে হয়—এই ক্ষেত্রে লারা বাকি দুজনের চেয়ে এগিয়ে। দ্রুত রান করতে কোন বোলারকে টার্গেট করতে হবে আর কোন বোলার তার জন্য বিপজ্জনক—এটা বোঝার একটা সহজাত ক্ষমতা ছিল লারার। এভাবেই হঠাৎই ও দারুণ দ্রুতগতিতে রান করত, বাকি সময়টায় ধীরে-সুস্থে। নিজের সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগে ও বিশাল সব ইনিংস খেলত। সেরা বোলাররা তরতাজা থাকার সময় তাদের বিপক্ষে দ্রুত রান করার ঝুঁকি ও নিত না, কিন্তু সুযোগমতো দ্রুত রান করে রানরেটের দ্রুতগতি ঠিকই ধরে রাখত।
এই ব্যাটিংয়ের জন্যই ও ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই গতিতে ব্যাটিং করে যেতে পেরেছে, যেটা এমনকি ব্র্যাডম্যানও পারেননি। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়ার ১০ বছর পর আবার সেটা ছিনিয়ে নেওয়ার অনন্যসাধারণ কীর্তি লারা এ জন্যই গড়তে পেরেছে।
ক্রিকেট-বিশ্ব যখন টেন্ডুলকারের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির অপেক্ষায়, পন্টিং তখন নীরবে আড়াল থেকে স্বরূপে ফিরেছে। কঠোর পরিশ্রম করে ও স্বরূপে ফিরেছে। অ্যাডিলেডে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওকে আরও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে এবং ইনিংসটাকে ডাবল সেঞ্চুরি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ায় ‘কখন অবসর নেবে’ থেকে আলোচনাটা এখন ‘কত দিন খেলে যাবে?’
কোনো সন্দেহ নেই, পন্টিং নতুনভাবে শুরু করতে পেরেছে এবং ওর ঝলমলে ক্যারিয়ারে আরও অনেক কিছুই যোগ হবে। পরিসংখ্যানের পাতায় পন্টিং টেন্ডুলকারকে কখনোই ছুঁতে পারবে না, কিন্তু আলোচিত সেঞ্চুরিটা নিয়ে টেন্ডুলকার যখন বারবার হোঁচট খাচ্ছে, মূলত মানসিক অস্থিরতার কারণে, পন্টিং তখন মুগ্ধতা ছড়িয়েছে মানসিক শক্তিতে।
যা-ই হোক, আমাকে যদি তিনজনের মধ্যে একজন বেছে নিতে বলা হয়, আমি নেব লারাকেই। স্পিন বোলিংটা ও যেভাবে খেলত, সেটা আমি ভীষণ পছন্দ করতাম। শ্রদ্ধা করতাম সবকিছুই ওর নিজের মতো করে করার সাহসকেও।
ব্রায়ান লারা শচীন টেন্ডুলকার রিকি পন্টিং
ইয়ান চ্যাপেল
No comments:
Post a Comment