Tuesday, 1 July 2014

পোল্যান্ডে ১২ বছর পর দূতাবাস, প্রত্যাশা-চ্যালেঞ্জ মিলেমিশে একাকার

এক যুগের ব্যবধানে পোল্যান্ডে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। চলতি বছরই ওয়ারশ, ভিয়েনা ও কোপেনহেগেনে আলোর মুখ দেখবে ইউরোপের নতুন ৩টি বাংলাদেশ দূতাবাস, এমন সংবাদ বেশ কয়েকদিন আগে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্কে প্রথমবারের মতো হলেও পোল্যান্ডে ১২ বছরের ব্যবধানে পুনরায় স্থাপিত হতে চলেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে রাজধানী ওয়ারশতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার পর একটানা ৩০ বছর এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু ২০০২ সালে অনেকটা হঠাৎ করেই পোল্যান্ডে বন্ধ করে দেয়া হয় বাংলাদেশ দূতাবাস। এজন্য পর্যবেক্ষক মহল থেকে দায়ী করা হয়ে থাকে সর্বশেষ দায়িত্বপালনকারী রাষ্ট্রদূত ড. এম এ সামাদের অপরিপক্কতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলকে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ঐ সময় ঢাকা থেকেও সবকিছু গুটিয়ে চলে আসে পোলিশ দূতাবাস।
ওয়ারশ ও ঢাকায় উভয় দেশের নিজ নিজ দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাবার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কোন অবনতি না ঘটলেও প্রত্যাশিত উন্নতির পথও তেমন আর প্রশস্ত থাকেনি মূলতঃ দূতাবাস না থাকার কারণে। ২০০২ সালের সেই কালো অধ্যায়ের পর থেকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অন্য আরো ক’টি দেশের সাথে দেখা হয়ে আসছে পূর্ব ইউরোপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ পোল্যান্ড।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিগত বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে যেখানে ছিল কম-বেশি দারুন অর্থনৈতিক মন্দা, সেখানে পোল্যান্ডের জিডিপি সবসময় উর্ধ্বমূখী থাকলেও দেশটিতে ছিলো না প্রত্যাশিত বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে দূতাবাস না থাকলেও রাজধানী ওয়ারশ থেকে প্রায় আড়াইশ’ কিলোমিটার দূরবর্তী কাতোভিচ নগরীর অধিবাসী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক তাঁর আন্তরিকতা, একাগ্রতা ও দূরদর্শিতায় নিজ শহর কাতোভিচ ও রাজধানী ওয়ারশ সহ পুরো দেশ জুড়ে মেলে ধরেন বাংলাদেশকে।
‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ থিমে বছরের পর বছর পোল্যান্ডের মাটিতে আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে অনুপমভাবে তুলে ধরেন তিনি স্থানীয় পোলিশ জনগনের স্বার্থক অংশগ্রহন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পোলিশ নাগরিক ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুককে মূল্যায়ন করতে কার্পন্য করেনি বাংলাদেশ সরকার, ২০১০ সালে তাঁকে নিয়োগ দেয়া হয় দেশটিতে অনারারি কনসাল জেনারেল হিসেবে। দূতাবাসের অনুপস্থিতির সীমাবদ্ধতা সত্বেও পোল্যান্ড-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক সম্পর্ক উত্তরণে নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা নিয়ে ‘খাঁটি দেশপ্রেমিক’ এই মানুষটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন বিগত বছরগুলোতে।
অনেক দেরিতে হলেও আজ বাংলাদেশ সরকার পোল্যান্ডে পুনরায় বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তৃপ্তির কথা জানান অনারারি কনসাল জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক। ১৭ জুন মঙ্গলবার এই প্রদিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘‘যদিও পোল্যান্ডে এখন মাত্র ৫শ’ বাংলাদেশির বসবাস তবে দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ-অদক্ষ বৈধ জনশক্তি রফতানির চলমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে বিশেষভাবে। ২০০২ সালে দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাবার সময় পোল্যান্ডে আমাদের বানিজ্য ছিল যেখানে মাত্র ২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার, ২০১৩ সালে তা ১৬ গুণ বেড়ে দাড়ায় প্রায় ৪০০ মিলিয়নে।’’
অনারারি কনসাল ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক আরো জানান, ‘‘বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আরএমজি তথা গার্মেন্টস ছাড়াও যেসব পন্য পোল্যান্ডে আসছে তার মধ্যে রয়েছে চা, প্লাস্টিক সামগ্রী, শপিং ব্যাগ, পাটজাত পন্য ও চামড়া। সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশ মেইড মেডিসিনেরও। অন্যদিকে পোল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে যাচ্ছে গুঁড়োদুধ, কিছু কিছু ফুড আইটেম ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী।’’ উল্লেখ করা যেতে পারে, পোল্যান্ডের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৯৮ শতাংশই আসে কয়লা থেকে এবং এক্ষেত্রে পোলিশ টেকনোলজি বাংলাদেশেও কাজে লাগানো যেতে পারে বলে জানান ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক।
ইংলিশ মিডিয়ামে পোল্যান্ডে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্বেও বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশি ‘তথাকথিত’ স্টুডেন্টরা এই সুযোগটিকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অপব্যবহার করেছে বলে মনে করেন অনারারি কনসাল জেনারেল। তবে দূতাবাস পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে যদি ‘জেনুইন’ স্টুডেন্ট আসার পথ প্রশস্ত করা যায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর পোল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আছে বলে জানান তিনি।
সুখকর খবর হচ্ছে, ঐতিহাসিক কাতোভিচ নগরীর সিলেসিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অচিরেই চালু হতে যাচ্ছে বাংলা বিভাগ। এলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে এবং জাঁকজমক অনুষ্ঠানমালায় বাংলাদেশের সবক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলারদেরকে আমন্ত্রণ জানাবে পোলিশ কর্তৃপক্ষ। বাংলা ভাষার এই স্বীকৃতি তথা বাংলাদেশের এই অর্জনের পেছনে ‘গ্রাউন্ডওয়ার্ক’ যথারীতি ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুকেরই। বায়ান্ন’র ভাষা শহীদদের স্বরণে কাতোভিচ নগরীতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ১২ বছর পর পোল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতবাস পুনঃপ্রতিষ্ঠার গুরুত্ব বিবেচনায় এবং দুঃখজনক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে শুরু থেকেই অভিজ্ঞ কমার্শিয়াল কাউন্সিলর সহ একজন ‘হাই প্রোফাইল এন্ড স্কিল্ড’ ডিপ্লোম্যাটকে ওয়ারশতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে বাংলাদেশ সরকারে তরফ থেকে, এমন প্রত্যাশা বিশ্লেষক মহলের। লেস ওয়ালেসার দেশে আজ আমাদের সামনে সত্যিকার অর্থেই অনেক অনেক চ্যালেঞ্জ, যার সাথে মিলেমিশে একাকার সব প্রত্যাশা।

Saturday, 10 March 2012

‘দ্রাবিড় একজনই’

সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন দ্রাবিড়পত্নী বিজেতা ও ছেলে সমিত সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন দ্রাবিড়পত্নী বিজেতা ও ছেলে সমিত
রয়টার্স
শচীন টেন্ডুলকার: রাহুল দ্রাবিড় একজনই। আর কেউ আসবে না। ড্রেসিংরুমে, মাঠে রাহুলের অনুপস্থিতি আমাকে পোড়াবে। জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো ওর সঙ্গেই ভাগাভাগি করে নিয়েছি। উইকেটে দুজনের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর সাক্ষী হয়ে আছে আমাদের অসংখ্য শতরানের জুটি। ১৬৪টি টেস্ট ম্যাচ, ১৩ হাজারের ওপরে রান—এমন কারও জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।
সুনীল গাভাস্কার: ও ছিল পুরোদস্তুর এক ধ্রুপদি খেলোয়াড়—মাঠে, মাঠের বাইরেও। কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, নিজেকে যেভাবে মেলে ধরেছে, যেভাবে প্রয়োগ করেছে; সবকিছু মিলেই সে তরুণদের জন্য আদর্শ। ভারতীয় ক্রিকেটে এখন একটা শূন্যতা তৈরি হবে। ওর মতো কৌশলগত নৈপুণ্য নিয়ে খেলবে এমন কোনো ক্রিকেটারকে আর পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না।
সৌরভ গাঙ্গুলী: এই সিদ্ধান্তে আমি মোটেও অবাক নই। সবকিছু মিলিয়েই ও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে আছে দলের পারফরম্যান্সও। ও ছিল খুঁতখুঁতে। সব সময় আরও বেশি নিখুঁত হয়ে ওঠার চেষ্টা করত। খেলাটির প্রতি ওর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা, টেকনিক, দায়বদ্ধতা—সবকিছুই ছিল স্পেশাল। আরেকজন রাহুল দ্রাবিড় হয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন। রাতারাতি তা হয় না। যেকোনো পেশা থেকেই অবসর নেওয়া সব সময়ই কঠিন। খুবই কষ্ট লাগে। কিন্তু খেলাটায় সময় একটা বড় ব্যাপার। অনেক কিংবদন্তিকেই বিদায় নিতে হয়েছে। পেলে-ম্যারাডোনা নিয়েছেন, ফেদেরারকেও নিতে হবে।
অনিল কুম্বলে: তোমার সঙ্গে খেলা প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। এটা ছিল বিরাট সম্মানেরও। ও সেই বিরল প্রতিভাধরদের একজন, যাদের মধ্যে অনন্যসাধারণ প্রতিভা আর দায়বদ্ধতা দুটিই ছিল। দীর্ঘ সময়ের জন্য মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা ওর মতো আর কারও নেই। ও এমন একজন, যে সব সময় আরও নিখুঁত হয়ে ওঠার চেষ্টা করত। ক্রিকেটের সত্যিকারের এক দূত তুমি, আদর্শ দল-অন্তঃপ্রাণ।
শেন ওয়ার্ন: অবসর নেওয়ায় আমার বন্ধু রাহুল দ্রাবিড় আর তার পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাই। ওর প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে।
জ্যাক ক্যালিস: আমাদের মধ্যে সব সময় একটা ইতিবাচক দ্বৈরথ ছিল। ও খুবই চুপচাপ ধরনের, বিনয়ী। আইপিএলে ওর সঙ্গে খেলার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। ও এমন একজন খেলোয়াড় ছিল, সব সময় নিজের খেলাকে শাণিয়ে নিতে কঠোর পরিশ্রম করত। ক্রিকেটে ওর অর্জন অবিশ্বাস্য। ক্রিকেটে টেকনিকের দিক দিয়ে সেরা ব্যাটসম্যানদের অন্যতম ছিল ও। ওর উইকেট পাওয়াও তাই ছিল একটা পুরস্কার। ওকে ছাড়া ক্রিকেট একটু রং হারাবে।
বীরেন্দর শেবাগ: জ্যাম (দ্রাবিড়ের ডাকনাম), তোমার সঙ্গে খেলতে পারাটা ছিল একই সঙ্গে তৃপ্তি আর গর্বের। ড্রেসিংরুমে তোমার উপস্থিতি সব সময়ই আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দিত। তোমাকে অনেক বেশি মিস করব।
কেভিন পিটারসেন: রাহুল দ্রাবিড়—কিংবদন্তি!! সরল, সাধারণ...অবিশ্বাস্য এক ক্যারিয়ারের জন্য তোমাকে অভিনন্দন!! ভারত অবশ্যই ‘দ্য ওয়াল’-এর শূন্যতা অনুভব করবে।
ক্রিস গেইল: দুর্দান্ত, অসাধারণ আন্তর্জাতিক এক ক্যারিয়ারের জন্য তোমাকে অভিনন্দন! দ্য গ্রেট লিজেন্ড রাহুল দ্রাবিড়!! দ্য ওয়ালকে অবশ্যই আমরা মিস করব!!
হরভজন সিং: পরশুর আগের দিন ও আমাকে ফোন করে জানাল এই সিদ্ধান্তের কথা। ওকে শুভকামনা জানিয়েছি। সবাই জানে ও ক্রিকেটের এক কিংবদন্তি। ও ছিল প্রেরণার অন্তহীন উৎসও। ও যেভাবে প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য নিজেকে তৈরি করত, আমরা সবাই সেটা দেখতাম। আমাদের সবার জন্য সেটা ছিল শিক্ষণীয়।

টেস্টে তাঁর কীর্তি
 দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান, ৫২.৩১ গড়ে ১৩২৮৮ ও চতুর্থ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি, ৩৬টি
 সবচেয়ে বেশি বল খেলা ব্যাটসম্যান, ৩১২৫৮
 সব দেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান
 ৩ নম্বরে ১০ হাজার রান করা একমাত্র ব্যাটসম্যান
 দুই শ ক্যাচ নেওয়া একমাত্র ফিল্ডার (২১০)
 চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান, ১৫৭৫
 দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফিফটি (৬৩) ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাউন্ডারি (১৬৫৪)
 সফলতম টেস্ট জুটির অংশীদার, শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে ৬৯২০ রান
 সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি জুটির অংশীদার, ৮৮টি
 একজনের সঙ্গে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি জুটির অংশীদার, টেন্ডুলকারের সঙ্গে ২০টি
 টানা ১৫ পঞ্জিকাবর্ষে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান, প্রথম জ্যাক ক্যালিস
 বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশিবার ম্যাচসেরা হওয়া ভারতীয় (৮)
 সবচেয়ে বেশিবার (১০) নড়বড়ে নব্বইয়ে আটকা পড়া ব্যাটসম্যান, যৌথভাবে টেন্ডুলকার ও স্টিভ ওয়াহর সঙ্গে

Sunday, 4 March 2012

টাস্কবারে ব্যক্তিগত নাম লেখা

টাস্কবারে ব্যক্তিগত নাম লেখা
টাস্কবারে সময়ের পাশে নিজের নাম লেখার জন্য Start “ Control Panel “ Regional and language options “ Customize “ Time ক্লিক “ এরপর AM ও PM-এর পাশে নিজের নাম লিখুন। শেষে Apply “ Ok (দুবার)। টাস্কবারে ঘড়ির পাশে নাম দেখাবে।
নাম বাতিল বা মুছে দেওয়ার জন্য একই নিয়মে গিয়ে AM ও PM-এর পাশে লেখা নাম মুছে দিয়ে Apply “ Ok (দুবার) করুন।
মো. শফিকুর রহমান

Saturday, 3 March 2012

ভাইরাস থেকে বাঁচতে

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্যআতঙ্কের নাম ভাইরাস এবং ওয়ার্ম। নানা উৎস থেকে কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে পেনড্রাইভ, ডিস্ক, মেমোরি কার্ডসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মাধ্যমে। আর ইন্টারনেট থেকেও কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভাইরাস।
ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, মানসম্মত হালনাগাদ অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা। অ্যান্টিভাইরাস থাকার পরও কিছু বিষয়ে সতর্কথাকা জরুরি।এর একটা হচ্ছে অটোরান সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া। সাধারণত বাইরের যন্ত্রাংশ (এক্সটারনাল ডিভাইস) থেকে কম্পিউটারে ভাইরাস ঢোকার হার বেশি। এসব যন্ত্রাংশেভাইরাস বা ওয়ার্মথাকলে যন্ত্রাংশটি কম্পিউটার চলা শুরু হলেই ভাইরাস কার্যকর হয়ে ওঠে। এসব যন্ত্র সরাসরি না চালানো ভালো।তাই অটোরান বন্ধ রাখতে হবে।
অটোরান বন্ধ করতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে Start\Run-এ গিয়ে gpedit.msc লিখে OK করুন। এবার নতুন উইন্ডো আসবে। এখান থেকে computer configuration নির্বাচন করুন। এরপর Administrative Templates\System-এ যান। এবার Turn off Autoplay-এ দুই ক্লিক করুন। এরপর ‘Turn off Autoplay’ সক্রিয় করতে হবে এবং ‘Turn off autoplay on’ বক্স থেকে ‘All drives’ নির্বাচন করতে হবে। এবার OK করলেই কম্পিউটারের সব ধরনের যন্ত্রের অটোরান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে কোনো পেনড্রাইভ বা অন্য যন্ত্র কম্পিউটারে লাগালেই সেটির ফাইলগুলো খুলবে না এবং ভাইরাসগুলো আক্রমণ করতে পারবে না।
অনেক সময় এক্সটারনাল ড্রাইভগুলো থেকে কম্পিউটারে তথ্য স্থানান্তরের সময়েও ভাইরাস ঢুকে পড়তে পারে। তাই ড্রাইভগুলো না খুলেই তথ্য আদান-প্রদান করার ব্যবস্থা করতে হবে। আর এর জন্য রয়েছে কিছু সফটওয়্যার। ভাইরাস ছড়ায় এমন ফাইলের বড় একটি অংশে .exe এক্সটেনশন থাকে।তাই পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য উৎস না হলে .exe এক্সটেনশনের ফাইল কম্পিউটারে না নেওয়াই ভালো।
—মাসুদ, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী)

Monday, 6 February 2012

'চিকনি চামেলি'র জের ধরে মুম্বাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

বিনোদন ডেস্ক গেল মাসে 'চিকনি চামেলি'র জের ধরে মুম্বাইয়ের এশটি হোটেলে ঘটে গেছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। যাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল দু'জন। আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটল সেই সংঘর্ষের। এবার একই পরিবারের নয় সদস্যের ওপর হামলা চালালো কিছু উচ্ছৃঙ্খল 'চিকনি চামেলি' ভক্ত। যার ফলে, ওই পরিবারের সবাই এখন হাসপাতালে ভর্তি এবং তাদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জানা গেছে, মুম্বাইয়ের দহিসারের মুভি জেম সিনেমা হলে ভাই, ভাবি ও তাদের সন্তান নিয়ে 'অগি্নপথ' ছবিটি দেখতে গিয়েছিলেন লুইস ও আমোল ভাইপে। ছবি ভালোই উপভোগ করছিলেন তারা। কিন্তু যখন 'চিকনি চামেলি' গানটি শুরু হয় তখন তাদের পেছনের সারিতে বসা ১০ স্কুল ছাত্র খুবই অশ্লীলভাবে নাচ এবং চিৎকার করে গাইতে শুরু করে। যা লুইস ও আমোল পরিবারের সদস্যদের অস্বস্তিতে ফেলে। এক সময় আমোল ও লুইস তাদের থামতে অনুরোধ করলে, বেড়ে যায় ছাত্রদের উৎপাতের মাত্রা। পরে হলের ম্যানেজার এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষ এসে ওই উচ্ছৃঙ্খল দর্শকদের এসে হল থেকে বের করে দেয়। কিন্তু ছবি শেষে যখন লুইস ও আমোল পরিবার হলের পার্কিং লটে আসে, দেখতে পায় তাদের গাড়ি ওই ছাত্ররা ভেঙে ফেলেছে এবং হকি স্টিক ও রড হাতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লুইস ও আমোল যখন গাড়ির কাছে পেঁৗছায় তখন, তাদের বেধড়ক পেটাতে শুরু কওে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বিতাড়িত যুবকরা। এতে সবচেয়ে বেশি আহত হন লুইস ও আমোলা। এছাড়াও মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হসপিটালের আইসিইউতে ভর্তি আছে আমোলের ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাবি। পরিবারের বাকি সদস্যরাও এখন হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তারা জানিয়েছেন 'চিকনি চামেলি'র এ তা-বের কথা। পুলিশ বখাটেদের আটক করেছে বলে জানা গেছে।

আইটেম গানে কারিশমা

বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন না দীর্ঘসময়। সম্প্রতি ‘ডেঞ্জারাস ইশক’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বলিউডে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন কারিশমা। বিক্রম ভাটের পরিচালনায় ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন কারিশমা। অভিনয়ের পাশাপাশি এবার অক্ষয় কুমার ও সোনাক্ষী সিনহা অভিনীত ‘রাওডি রাঠোর’ ছবির আইটেম গানেও দেখা মিলবে কারিশমার। বোঝাই যাচ্ছে, জোর আওয়াজ তোলার সব রকম প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছেন তিনি।
এরই মধ্যে প্রভু দেবার পরিচালনায় ‘রাওডি রাঠোর’ ছবির আইটেম গানে অভিনয়ের জন্য সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছেন কারিশমা। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিওআই। গানটির কোরিওগ্রাফি করবেন প্রভু দেবা নিজেই। বলিউডের বহুল আলোচিত আইটেম গান ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’ ও ‘চিকনি চামেলি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই গানটি তৈরি করবেন প্রভু দেবা।
১৯৯১ সালে ‘প্রেম কয়েদি’ ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করেছিলেন কারিশমা কাপুর। নব্বইয়ের দশকে বেশ কয়েকটি সফল বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ ছবিটি তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। স্বীকৃতি হিসেবে জিতে নেন ফিল্মফেয়ারের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। পরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আরও অনেক পুরস্কারও ঝুলিতে ভরেছেন তিনি। ২০০২ সালে ‘শক্তি’ ছবিতে তাঁর অভিনয় সব মহলে প্রশংসিত হয়। একই বছর অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে কারিশমার বাগদানের ঘোষণা দেন অমিতাভ বচ্চন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২০০৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করেন কারিশমা। বিয়ের পর থেকেই অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। অবশেষে ২০১১ সালে ‘ডেঞ্জারাস ইশক’ ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর।

ভারতের জন্য স্মৃতিকাতর সিরিজ

ছক্কা মেরে ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়েও নির্লিপ্ত থাকতে পারেন। সেই মহেন্দ্র সিং ধোনিও পরশু ‘সামান্য’ একটা টি-টোয়েন্টি জেতার পর উচ্ছ্বসিত! এমনই হওয়ার কথা। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে গৌতম গম্ভীরকে মিড উইকেট আর মিডঅনের মাঝখান দিয়ে চারটি মারতে দেখে ধোনির বুক থেকে যে পাথরবোঝা নেমে গিয়েছিল। অবশেষে হাপিত্যেশ করে মরতে থাকা ভারত বিদেশের মাঠে পেল একটি জয়ের দেখা।
মানুষের স্মৃতি বড় প্রতারক। উপমহাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের স্মৃতি তো আরও ক্ষীণ। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের ১০ মাসের মাথায় ফাইনাল জেতানো অধিনায়কেরই পদত্যাগের দাবি উঠে গেছে জনতার মঞ্চে! যে সাংবাদিকেরা মাস কয় আগেই স্তুতির বাণ ডাকিয়েছিলেন কলমে, সেই তাঁদের হাতেই এখন সমালোচনার চাবুক।
ধোনি অবশ্য জোর দিয়েই বলছিলেন, একটা জয় পেলেই ছবিটা পাল্টে যাবে। দলের মধ্যে আটকে থাকা গুমোট বাতাস উড়িয়ে দিতে দরকার একটা মাত্র জয়। অবশেষে বহু আরাধ্য সেই জয়টা মেলবোর্নের টি-টোয়েন্টিতে পেয়েছে ভারত। আজ শুরু ত্রিদেশীয় সিবি সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসের জন্য জরুরি জ্বালানিও পেয়েছে ধোনির দল।
ধোনির জন্য বাড়তি সুসংবাদ ওই ম্যাচে খেলা গম্ভীরের অপরাজিত ফিফটির ইনিংসটি। সব ধরনের ক্রিকেটে আগের ১৫ ইনিংসে মাত্র দুটি ফিফটি ছিল গম্ভীরের। পরশুর ইনিংসটিতে ছিল সেই বৃত্ত ভাঙার জেদ। গম্ভীরের ব্যাটেই কিন্তু ২০০৭-০৮ সিবি সিরিজ জিতেছিল ভারত। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৪০৪ রান করেছিলেন সে সময় ক্যারিয়ারেরই সেরা ফর্মে থাকা বাঁহাতি। আরেকটি সিবি সিরিজ আসন্ন বলেই কি গম্ভীরের ব্যাটের ঘুম ভাঙল?
চার বছর আগের সেই সিরিজ জয়ের নায়ক ছিলেন আরও একজন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ওই টুর্নামেন্টের দুটি ফাইনালে শচীন টেন্ডুলকারের ইনিংস দুটি ছিল যথাক্রমে অপরাজিত ১১৭ ও ৯১। বিশ্বকাপ জয়ের পর শুধু টেস্টেই মনোনিবেশ করা টেন্ডুলকার এই ম্যাচ দিয়ে আবারও ওয়ানডেতে ফিরছেন। এই প্রত্যাবর্তনে ফিরে এসেছে তাঁর শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির প্রসঙ্গও। টেন্ডুলকারের জন্য এটা নতুন আরেক চ্যালেঞ্জ। আগামী বিশ্বকাপের দলেও তাঁর থাকা হবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই মিলে যাবে এই সিরিজ থেকে।
ভারত অবশ্যই চায় সিবি সিরিজ গতবারের চিত্রনাট্যই অনুসরণ করুক। এমনিতে মিল তো আছেই। গতবারের মতো এবারও টুর্নামেন্টে তৃতীয় দল হিসেবে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ওয়েবসাইট।