------------------------------
অন্যকে বোকা বানানোর সিস্টেম!
আপনি যদি মদনবাবু (হাবাগোবা) স্বভাবের হন, তাহলে আপনাকে নিশ্চয়ই যুগে যুগে, কালে কালে কতজনে যে কতভাবে ধোঁকা দিয়ে বোকা বনে গিয়েছে তার হিসাব নেই। আপনিও আর বসে থাকবেন কেন? অপরকে বোকা বানানোর আধুনিক ফর্মুলা শিখে নিন এক্ষুনি—
১. অনেকদিন ধরে আপনাকে কেউ কোনো কিছু উপহার দিচ্ছে না? এক কাজ করুন, আপনার নিকটস্থ বন্ধু-বান্ধবকে বলুন—ওমুক তারিখে আমার বিয়ে, তোদের সবার দাওয়াত! ব্যস, কাম হয়ে গেছে! সবাই উপহার সামগ্রী নিয়ে আপনার বাড়ি এসে বিয়ের কোনো আলামত না দেখে বোকা হয়ে যাবে। যাবার বেলায় ভদ্রতার খাতিরে ওরা উপহারগুলো আপনাকে দান করে যাবে।
২. অন্যদের মতো আপনারও নিশ্চয়ই যানবাহনে চড়লে বমি হয়। পলিথিনে মনমতো বমি করে সেগুলো চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে দিন। কোনো বেআক্কেল পথচারী সেটাকে গাড়ি থেকে বেখেয়ালে পড়ে যাওয়া যাত্রীর প্রয়োজনীয় ব্যাগ বলে তুলে নিয়ে ভোঁ দৌড় দিয়ে চুপিসারে নিরালায় বসে খুশি হয়ে খোলার পর...। ওয়াক থু থু...।
এতো বমি! হায়রে বোকা বাবু!
৩. আপনি পয়সাওয়ালা। প্রায়ই আপনার ঘরের টাকা চুরি হয়? কোনো সমস্যা নেই। ঘরে সব জাল টাকা এনে ভরে রাখুন। চুরির পর চোরা বাবাজি নকল টাকার তেলেসমাতি দেখে কী বোকাই না হবে!
৪. কোকের খালি বোতলে আলকাতরা ভরে পরিচিত কাউকে দিয়ে বলেন—‘নেন ভাই, কোক খান...!’ বেচারা আপনার কুকর্মে খুশি হয়ে কী বোকাই না হবে। বোকা নাও হতে পারে। কারণ, বাঙালি তো আবার ফ্রি পেলে আলকাতরাও খেতে এক পায়ে খাড়া।
৫. বন্ধুর পাশাপাশি আপনার শত্রুর সংখ্যাও অনেক। শত্রুমহল আপনাকে নিয়ে টিটকারী করে। আপনার এখন করণীয়—রাতে সাদা কাপড় পরে শত্রুর বাড়ির উঠানে পায়চারি করা। ভূত ভেবে ওরা আতঙ্কে থাকবে। এভাবে রোজ রাতে শত্রুকে বোকা বানাতে পারেন!
৬. আজ আপনার প্রিয় বান্ধবীর বাসর রাত। নববধূ বান্ধবীকে খাটের তলায় পাচার করে নিজে বউ সেজে ঘোমটা দিয়ে ফুলসজ্জায় বসে থাকুন। কিছুক্ষণ পর জামাই বাবু এসে আপনাকে তার কালেমাপড়া বধূ ভেবে জড়িয়ে ধরে বোকা বনে যাবে।
৭. আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে কোনো সুন্দরীর ছবি দিয়ে রাখুন। এবার দেখুন—বোকারা কি পরিমাণ আপনার ফেসবুক জমজমাট রাখে।
মাটির ব্যাংকে সমপরিমাণ বালু ভরে রাস্তায় ফেলে রাখুন, কেউ সেটা কুড়িয়ে পাবার পর ভেঙে টাকার পরিবর্তে বালু দেখে বোকা তো হবেই, সঙ্গে আপনার বাপ-দাদার নাম ধরে গালি গিফট করবে।
জোবায়ের রাজু আমিশাপাড়া, নোয়াখালী\
১. অনেকদিন ধরে আপনাকে কেউ কোনো কিছু উপহার দিচ্ছে না? এক কাজ করুন, আপনার নিকটস্থ বন্ধু-বান্ধবকে বলুন—ওমুক তারিখে আমার বিয়ে, তোদের সবার দাওয়াত! ব্যস, কাম হয়ে গেছে! সবাই উপহার সামগ্রী নিয়ে আপনার বাড়ি এসে বিয়ের কোনো আলামত না দেখে বোকা হয়ে যাবে। যাবার বেলায় ভদ্রতার খাতিরে ওরা উপহারগুলো আপনাকে দান করে যাবে।
২. অন্যদের মতো আপনারও নিশ্চয়ই যানবাহনে চড়লে বমি হয়। পলিথিনে মনমতো বমি করে সেগুলো চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে দিন। কোনো বেআক্কেল পথচারী সেটাকে গাড়ি থেকে বেখেয়ালে পড়ে যাওয়া যাত্রীর প্রয়োজনীয় ব্যাগ বলে তুলে নিয়ে ভোঁ দৌড় দিয়ে চুপিসারে নিরালায় বসে খুশি হয়ে খোলার পর...। ওয়াক থু থু...।
এতো বমি! হায়রে বোকা বাবু!
৩. আপনি পয়সাওয়ালা। প্রায়ই আপনার ঘরের টাকা চুরি হয়? কোনো সমস্যা নেই। ঘরে সব জাল টাকা এনে ভরে রাখুন। চুরির পর চোরা বাবাজি নকল টাকার তেলেসমাতি দেখে কী বোকাই না হবে!
৪. কোকের খালি বোতলে আলকাতরা ভরে পরিচিত কাউকে দিয়ে বলেন—‘নেন ভাই, কোক খান...!’ বেচারা আপনার কুকর্মে খুশি হয়ে কী বোকাই না হবে। বোকা নাও হতে পারে। কারণ, বাঙালি তো আবার ফ্রি পেলে আলকাতরাও খেতে এক পায়ে খাড়া।
৫. বন্ধুর পাশাপাশি আপনার শত্রুর সংখ্যাও অনেক। শত্রুমহল আপনাকে নিয়ে টিটকারী করে। আপনার এখন করণীয়—রাতে সাদা কাপড় পরে শত্রুর বাড়ির উঠানে পায়চারি করা। ভূত ভেবে ওরা আতঙ্কে থাকবে। এভাবে রোজ রাতে শত্রুকে বোকা বানাতে পারেন!
৬. আজ আপনার প্রিয় বান্ধবীর বাসর রাত। নববধূ বান্ধবীকে খাটের তলায় পাচার করে নিজে বউ সেজে ঘোমটা দিয়ে ফুলসজ্জায় বসে থাকুন। কিছুক্ষণ পর জামাই বাবু এসে আপনাকে তার কালেমাপড়া বধূ ভেবে জড়িয়ে ধরে বোকা বনে যাবে।
৭. আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে কোনো সুন্দরীর ছবি দিয়ে রাখুন। এবার দেখুন—বোকারা কি পরিমাণ আপনার ফেসবুক জমজমাট রাখে।
মাটির ব্যাংকে সমপরিমাণ বালু ভরে রাস্তায় ফেলে রাখুন, কেউ সেটা কুড়িয়ে পাবার পর ভেঙে টাকার পরিবর্তে বালু দেখে বোকা তো হবেই, সঙ্গে আপনার বাপ-দাদার নাম ধরে গালি গিফট করবে।
জোবায়ের রাজু আমিশাপাড়া, নোয়াখালী\
দুই ভাইয়ের কাণ্ড
প্রথমে নিজের ঘটনাটাই বলি। নইলে আবার ছোট ভাই বলবে তাকে বোকা বানিয়েছি। ২০০৪ সালের ঘটনা, তখন আমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। দর্শক থুক্কু পাঠককে আগেই বলে রাখি, আমাদের বাড়ি থেকে বাজার প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। একদিন বিকালে বাজার সেরে বাসে করে বাড়ি ফিরছি। বাসে এত জ্যাম, মনে হচ্ছে যেন ঈদে বাড়ি যাচ্ছি। এক হাতে আবার মানিব্যাগ আগলে রেখেছি, বাসে আবার চোর আছে কি না। হঠাত্ করে ব্যাগ থেকে মাছের পানি আমার পায়ে পড়তে লাগল, যেন টেপ থেকে বেসিনে পানি পড়ছে। আমি দারুণ বিরক্ত হয়ে মুখ না দেখেই বলে উঠলাম—কার ব্যাগ থেকে পানি পড়ছে, দেখে ব্যাগ রাখতে পারেন না, যত্তসব...। কিন্তু আমার হুঙ্কারে যিনি আমার দিকে ফিরে তাকালেন, তার মুখের দিকে চেয়ে আমি অন্ধকারে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলাম। কারণ উনি শিক্ষক, আমাদের মাদ্রাসায় সব ছাত্রছাত্রীর আতঙ্কের মূল উত্স। যার লাল-কালো রঙের সুন্ধিবেতকে সবাই সিংহের মতো ভয় না করলেও বাঘের মতো ভয় করে। স্বয়ং তিনি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সেদিনের বোকামির কথা মনে হলে আজও গা ছমছম করে ওঠে। দ্বিতীয় ঘটনাও একই বছরের। দ্বিতীয় ঘটনাটা হচ্ছে আমার ছোট ভাইয়ের। সেদিন আমরা নানাবাড়িতে ছিলাম। খালা মুরগির ওষুধ ভাত দিয়ে মেখে ঘর থেকে মাত্র বেরিয়েছেন। ট্যাবলেটগুলো হলুদ হওয়ার কারণে ভাতগুলো হলুদ হয়ে গেছে। সে খালাকে জিজ্ঞেস করে, প্লেটে কী? খালা কৌতুক করে যখনি বললেন প্লেটে পোলাও আছে, অমনি সে এক লাফে এসে খালার হাত থেকে নিয়ে এক মুষ্টি ভাত মুখে পুরে দিল। আমি চিত্কার দিয়ে বলতে লাগলাম, এটা পোলাও না, মুরগির ওষুধ, মুরগির ওষুধ। আর খালা তো হেসে লুটোপুটি খাচ্ছেন।
শিব্বির আহমদশাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
শিব্বির আহমদশাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
অন্যকে বোকা বানানোর সিস্টেম!
আপনি যদি মদনবাবু (হাবাগোবা) স্বভাবের হন, তাহলে আপনাকে নিশ্চয়ই যুগে যুগে, কালে কালে কতজনে যে কতভাবে ধোঁকা দিয়ে বোকা বনে গিয়েছে তার হিসাব নেই। আপনিও আর বসে থাকবেন কেন? অপরকে বোকা বানানোর আধুনিক ফর্মুলা শিখে নিন এক্ষুনি—
১. অনেকদিন ধরে আপনাকে কেউ কোনো কিছু উপহার দিচ্ছে না? এক কাজ করুন, আপনার নিকটস্থ বন্ধু-বান্ধবকে বলুন—ওমুক তারিখে আমার বিয়ে, তোদের সবার দাওয়াত! ব্যস, কাম হয়ে গেছে! সবাই উপহার সামগ্রী নিয়ে আপনার বাড়ি এসে বিয়ের কোনো আলামত না দেখে বোকা হয়ে যাবে। যাবার বেলায় ভদ্রতার খাতিরে ওরা উপহারগুলো আপনাকে দান করে যাবে।
২. অন্যদের মতো আপনারও নিশ্চয়ই যানবাহনে চড়লে বমি হয়। পলিথিনে মনমতো বমি করে সেগুলো চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে দিন। কোনো বেআক্কেল পথচারী সেটাকে গাড়ি থেকে বেখেয়ালে পড়ে যাওয়া যাত্রীর প্রয়োজনীয় ব্যাগ বলে তুলে নিয়ে ভোঁ দৌড় দিয়ে চুপিসারে নিরালায় বসে খুশি হয়ে খোলার পর...। ওয়াক থু থু...।
এতো বমি! হায়রে বোকা বাবু!
৩. আপনি পয়সাওয়ালা। প্রায়ই আপনার ঘরের টাকা চুরি হয়? কোনো সমস্যা নেই। ঘরে সব জাল টাকা এনে ভরে রাখুন। চুরির পর চোরা বাবাজি নকল টাকার তেলেসমাতি দেখে কী বোকাই না হবে!
৪. কোকের খালি বোতলে আলকাতরা ভরে পরিচিত কাউকে দিয়ে বলেন—‘নেন ভাই, কোক খান...!’ বেচারা আপনার কুকর্মে খুশি হয়ে কী বোকাই না হবে। বোকা নাও হতে পারে। কারণ, বাঙালি তো আবার ফ্রি পেলে আলকাতরাও খেতে এক পায়ে খাড়া।
৫. বন্ধুর পাশাপাশি আপনার শত্রুর সংখ্যাও অনেক। শত্রুমহল আপনাকে নিয়ে টিটকারী করে। আপনার এখন করণীয়—রাতে সাদা কাপড় পরে শত্রুর বাড়ির উঠানে পায়চারি করা। ভূত ভেবে ওরা আতঙ্কে থাকবে। এভাবে রোজ রাতে শত্রুকে বোকা বানাতে পারেন!
৬. আজ আপনার প্রিয় বান্ধবীর বাসর রাত। নববধূ বান্ধবীকে খাটের তলায় পাচার করে নিজে বউ সেজে ঘোমটা দিয়ে ফুলসজ্জায় বসে থাকুন। কিছুক্ষণ পর জামাই বাবু এসে আপনাকে তার কালেমাপড়া বধূ ভেবে জড়িয়ে ধরে বোকা বনে যাবে।
৭. আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে কোনো সুন্দরীর ছবি দিয়ে রাখুন। এবার দেখুন—বোকারা কি পরিমাণ আপনার ফেসবুক জমজমাট রাখে।
মাটির ব্যাংকে সমপরিমাণ বালু ভরে রাস্তায় ফেলে রাখুন, কেউ সেটা কুড়িয়ে পাবার পর ভেঙে টাকার পরিবর্তে বালু দেখে বোকা তো হবেই, সঙ্গে আপনার বাপ-দাদার নাম ধরে গালি গিফট করবে।
জোবায়ের রাজু আমিশাপাড়া, নোয়াখালী\
১. অনেকদিন ধরে আপনাকে কেউ কোনো কিছু উপহার দিচ্ছে না? এক কাজ করুন, আপনার নিকটস্থ বন্ধু-বান্ধবকে বলুন—ওমুক তারিখে আমার বিয়ে, তোদের সবার দাওয়াত! ব্যস, কাম হয়ে গেছে! সবাই উপহার সামগ্রী নিয়ে আপনার বাড়ি এসে বিয়ের কোনো আলামত না দেখে বোকা হয়ে যাবে। যাবার বেলায় ভদ্রতার খাতিরে ওরা উপহারগুলো আপনাকে দান করে যাবে।
২. অন্যদের মতো আপনারও নিশ্চয়ই যানবাহনে চড়লে বমি হয়। পলিথিনে মনমতো বমি করে সেগুলো চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে দিন। কোনো বেআক্কেল পথচারী সেটাকে গাড়ি থেকে বেখেয়ালে পড়ে যাওয়া যাত্রীর প্রয়োজনীয় ব্যাগ বলে তুলে নিয়ে ভোঁ দৌড় দিয়ে চুপিসারে নিরালায় বসে খুশি হয়ে খোলার পর...। ওয়াক থু থু...।
এতো বমি! হায়রে বোকা বাবু!
৩. আপনি পয়সাওয়ালা। প্রায়ই আপনার ঘরের টাকা চুরি হয়? কোনো সমস্যা নেই। ঘরে সব জাল টাকা এনে ভরে রাখুন। চুরির পর চোরা বাবাজি নকল টাকার তেলেসমাতি দেখে কী বোকাই না হবে!
৪. কোকের খালি বোতলে আলকাতরা ভরে পরিচিত কাউকে দিয়ে বলেন—‘নেন ভাই, কোক খান...!’ বেচারা আপনার কুকর্মে খুশি হয়ে কী বোকাই না হবে। বোকা নাও হতে পারে। কারণ, বাঙালি তো আবার ফ্রি পেলে আলকাতরাও খেতে এক পায়ে খাড়া।
৫. বন্ধুর পাশাপাশি আপনার শত্রুর সংখ্যাও অনেক। শত্রুমহল আপনাকে নিয়ে টিটকারী করে। আপনার এখন করণীয়—রাতে সাদা কাপড় পরে শত্রুর বাড়ির উঠানে পায়চারি করা। ভূত ভেবে ওরা আতঙ্কে থাকবে। এভাবে রোজ রাতে শত্রুকে বোকা বানাতে পারেন!
৬. আজ আপনার প্রিয় বান্ধবীর বাসর রাত। নববধূ বান্ধবীকে খাটের তলায় পাচার করে নিজে বউ সেজে ঘোমটা দিয়ে ফুলসজ্জায় বসে থাকুন। কিছুক্ষণ পর জামাই বাবু এসে আপনাকে তার কালেমাপড়া বধূ ভেবে জড়িয়ে ধরে বোকা বনে যাবে।
৭. আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে কোনো সুন্দরীর ছবি দিয়ে রাখুন। এবার দেখুন—বোকারা কি পরিমাণ আপনার ফেসবুক জমজমাট রাখে।
মাটির ব্যাংকে সমপরিমাণ বালু ভরে রাস্তায় ফেলে রাখুন, কেউ সেটা কুড়িয়ে পাবার পর ভেঙে টাকার পরিবর্তে বালু দেখে বোকা তো হবেই, সঙ্গে আপনার বাপ-দাদার নাম ধরে গালি গিফট করবে।
জোবায়ের রাজু আমিশাপাড়া, নোয়াখালী\
এখনও মনে পড়ে
আমি ছোটবেলা থেকেই একটু বোকা টাইপের। বোকাদের মধ্যে নোবেল প্রাইজ দেয়া হলে ‘শ্রেষ্ঠ বোকা’ নোবেল প্রাইজ বোধহয় নিশ্চিত আমিই পেতাম। তো একদিন বাসায় বাবা গেলেন গোসল করতে। মা গেলেন রান্নাঘরে। এমন সময় দরজায় ঘণ্টা বাজল। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলি, দেখি আমাদের পাশের বাসার খলিল কাকা।
কাকা বাইরে দাঁড়িয়ে আমাকে বলছেন, আমি তোমাকে ৫০০ টাকা দেব, যদি তুমি ১০ বার কান ধরে ওঠবস কর। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারলাম না। (ভাবলাম বাসায় তো আর কেউ দেখছে না মন্দ কী!) কিছুক্ষণ চিন্তা করেই ওঠবস শুরু করলাম। প্রতিবার ওঠবসে ৫০ টাকা বলে কথা! ওঠবস শেষ হতেই কাকা আমার হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।
বাবা বাথরুম থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দরজায় কে এসেছিল?’ বললাম, ‘খলিল কাকা’, বাবা বললেন, ‘আমার ৫০০ টাকা কী দিয়ে গেছেন?’ ‘আমি তো থ!’ ব্যাপারটি সবাইকে খুলে বলতেই যে কী হাসির রোল।
জহির উদ্দীন লস্কর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কাকা বাইরে দাঁড়িয়ে আমাকে বলছেন, আমি তোমাকে ৫০০ টাকা দেব, যদি তুমি ১০ বার কান ধরে ওঠবস কর। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারলাম না। (ভাবলাম বাসায় তো আর কেউ দেখছে না মন্দ কী!) কিছুক্ষণ চিন্তা করেই ওঠবস শুরু করলাম। প্রতিবার ওঠবসে ৫০ টাকা বলে কথা! ওঠবস শেষ হতেই কাকা আমার হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।
বাবা বাথরুম থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দরজায় কে এসেছিল?’ বললাম, ‘খলিল কাকা’, বাবা বললেন, ‘আমার ৫০০ টাকা কী দিয়ে গেছেন?’ ‘আমি তো থ!’ ব্যাপারটি সবাইকে খুলে বলতেই যে কী হাসির রোল।
জহির উদ্দীন লস্কর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
হয়তো আপনিও বোকা
* কারণ আপনি বোকা না হলে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দশ টাকা দরে চাল খাওয়ার আশায় ভোট দিয়ে এখন চার দশে চল্লিশ টাকা দিয়ে খাওয়া লাগত না।
* আপনার বাড়ি থেকে শহরে যেতে মাছের প্রজেক্ট করার উপযুক্ত খাদা-খন্দকওয়ালা রাস্তা পার হতে হয়। তারপরও মন্ত্রী মহোদয় ব্রিফিং করেন—দেশের কোথাও রাস্তাতে কোনো খাদা-খন্দক নেই। আপনাকে বোকা ঠাওরালে না এমন কথা কেউ বলত না।
* আপনার নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তারপরও আপনাকে বোকা ভেবে ‘বিজ্ঞজনে’ কম খাওয়ার নসিহত করেন।
* বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রিয় নেতাদের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু আইনের লোকজন আপনাকে এই বলে বুঝ দেয়—‘বিশেষ কারণে’ অপরাধীদের ধরা হচ্ছে না।
* আপনি যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অস্থির, তখন আপনাকে বলা হয়, এটা বিরোধী দলের কারসাজি।
* শেষ কথা হলো, আপনি যদি বোকা নাইবা হতেন তাহলে বোকাদের সরদার আইমিন বি.স. ভাইয়া আপনার বোকামির গল্প নিয়ে পাঠক সংখ্যা বের করার দুঃসাহস দেখাতেন না।
বোকা লেখক
হামীদুল্লাহ শিবলী মাইজদী
* আপনার বাড়ি থেকে শহরে যেতে মাছের প্রজেক্ট করার উপযুক্ত খাদা-খন্দকওয়ালা রাস্তা পার হতে হয়। তারপরও মন্ত্রী মহোদয় ব্রিফিং করেন—দেশের কোথাও রাস্তাতে কোনো খাদা-খন্দক নেই। আপনাকে বোকা ঠাওরালে না এমন কথা কেউ বলত না।
* আপনার নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তারপরও আপনাকে বোকা ভেবে ‘বিজ্ঞজনে’ কম খাওয়ার নসিহত করেন।
* বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রিয় নেতাদের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু আইনের লোকজন আপনাকে এই বলে বুঝ দেয়—‘বিশেষ কারণে’ অপরাধীদের ধরা হচ্ছে না।
* আপনি যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অস্থির, তখন আপনাকে বলা হয়, এটা বিরোধী দলের কারসাজি।
* শেষ কথা হলো, আপনি যদি বোকা নাইবা হতেন তাহলে বোকাদের সরদার আইমিন বি.স. ভাইয়া আপনার বোকামির গল্প নিয়ে পাঠক সংখ্যা বের করার দুঃসাহস দেখাতেন না।
বোকা লেখক
হামীদুল্লাহ শিবলী মাইজদী
রোমান্টিক বোকামি
আমার ক্লাসমেট ফেন্সি খুবই বোকা। কিন্তু তার কিছু কিছু বোকামি অনেক রোমান্টিক। আজ আমি তার একটি আকর্ষণীয় এবং স্মরণীয় রোমান্টিক বোকামি খোলা মনে আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম।
একদিন রাতে বাসায় কারেন্ট ছিল না। ফেন্সি তখন চার্জ লাইট না পেয়ে মোবাইল নিয়ে টয়লেটে গেল। সে মোবাইল হাতে রেখেই প্রাকৃতিক কাজ সারছিল, এমন সময় কিছু উধহপবত্ (মশা) তার সামনে ডান্স শুরু করল। লারে-লাপ্পা ডান্স দেখে সে অসহ্য হয়ে দু’হাত দিয়ে ডান্সারদের মারতে গিয়ে মোবাইলটা ফেলে দিল টয়লেটে। ফেলে দেয়ার পর মোবাইলটার অবস্থান কোথায় সেটা আপনারা সবাই জানেন। কারণ আপনারা তো বোকা।
তারপর
ফেন্সি দামি মোবাইলটার লোভ সামলাতে না পেরে ইয়ের ট্যাংকের ঢাকনা খুলে ঝাঁপ দিল ইয়ের সমুদ্রে। অনেকক্ষণ পর্যন্ত ডুবুরির মতো সমুদ্রের তলায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করল মহামূল্যবান দামি মোবাইলটা। উদ্ধার কাজ শেষে ফেন্সি আমার বেকুবমার্কা হাসি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দিল, বাক্কা মিয়ার রচিত একটি উপদেশ। উপদেশটা আপনাদের কাজে লাগতে পারে। তাই আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা উপদেশটা কণ্ঠস্থ, মুখস্থ, ঠোঁটস্থ, মনস্থ ও পেটস্থ করে নিবেন, কিন্তু ভুলেও টয়লেটস্থ করবেন না। উপদেশটি হল—‘তোমরা বোকামি করবে, বোকামির মাঝে রোমান্টিকতা আছে।’
হাছনা মজুমদার চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
একদিন রাতে বাসায় কারেন্ট ছিল না। ফেন্সি তখন চার্জ লাইট না পেয়ে মোবাইল নিয়ে টয়লেটে গেল। সে মোবাইল হাতে রেখেই প্রাকৃতিক কাজ সারছিল, এমন সময় কিছু উধহপবত্ (মশা) তার সামনে ডান্স শুরু করল। লারে-লাপ্পা ডান্স দেখে সে অসহ্য হয়ে দু’হাত দিয়ে ডান্সারদের মারতে গিয়ে মোবাইলটা ফেলে দিল টয়লেটে। ফেলে দেয়ার পর মোবাইলটার অবস্থান কোথায় সেটা আপনারা সবাই জানেন। কারণ আপনারা তো বোকা।
তারপর
ফেন্সি দামি মোবাইলটার লোভ সামলাতে না পেরে ইয়ের ট্যাংকের ঢাকনা খুলে ঝাঁপ দিল ইয়ের সমুদ্রে। অনেকক্ষণ পর্যন্ত ডুবুরির মতো সমুদ্রের তলায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করল মহামূল্যবান দামি মোবাইলটা। উদ্ধার কাজ শেষে ফেন্সি আমার বেকুবমার্কা হাসি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দিল, বাক্কা মিয়ার রচিত একটি উপদেশ। উপদেশটা আপনাদের কাজে লাগতে পারে। তাই আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা উপদেশটা কণ্ঠস্থ, মুখস্থ, ঠোঁটস্থ, মনস্থ ও পেটস্থ করে নিবেন, কিন্তু ভুলেও টয়লেটস্থ করবেন না। উপদেশটি হল—‘তোমরা বোকামি করবে, বোকামির মাঝে রোমান্টিকতা আছে।’
হাছনা মজুমদার চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
বোকা বানানোর গল্প
সোহেল ও মিশুসহ আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গে আড্ডা দিতাম। কিন্তু যখনই আমি ও সোহেল কোনো কথাবার্তা বলতাম, মিশু তার কথাকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য আমাদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। তাই তাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য একটা বুদ্ধি বের করলাম। একবার আমি মাঠের মধ্যে কিছু মলের ওপর একটা বাটি দিয়ে ঢেকে রেখে বসে রইলাম। (মিশুকে আসতে দেখে) সে আমাকে বলল, কিরে ফকিরের মতো এভাবে বসে রইলি কেন? আমি বললাম, একটা সমস্যায় পড়ে গেছি তাই। কারণ জিজ্ঞেস করতেই আমি বললাম, এই বাটির নিচে একটা পাখি আছে। মিশু বলল, তুই ঢাকনা ওঠা আর আমি পাখিটি ধরি। যখন আমি ঢাকনা উঠালাম অমনি সে দু’হাতে খপ করে পাখি মনে করে মল ধরে ফেলল! এ অবস্থা দেখে মিশু বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইল এবং বুঝলো যে, এটা আমাদের আগেই সাজানো ছিল। আড়াল থেকে আমার সব বন্ধু হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলো। এরপর সে মাথা নিচু করে ওখান থেকে চলে গেল। তখন থেকে সে আমাদের কথাবার্তা নিয়ে আর ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে না।
মো. আনোয়ার হোসাইন বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
মো. আনোয়ার হোসাইন বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
বোকা সমাচার
যারা নতুন প্রেমে মজে উঠেছেন তাদের বোকামিটা ঠিক এ ধরনের—
ক্স পারুল তোমারে না পাইলে আমি কিন্তু আসমান থেইক্যা লাফ দিয়ে ঠাং ভাইঙ্গ্যা চিরস্থায়ী পঙ্গু হইয়া যামু।
ক্স লুলা হইবা যখন বালা মতো হইবা, তাইলে আমার চাচারে দিয়া তুমারে ঢাকায় পাঠাইয়া ভিক্ষাবৃত্তির একটা বিজনেস করবার পারমু।
ক্স নয়া রাজনীতিবিদদের এ ধরনের বোকামি করাটাই স্বাভাবিক। আমার চাচা নির্বাচনের আগে কি বোকামিটাই না করল—আস্ত দশটা গরু জবাই কইরা সবাইরে খাওয়াইল কিন্তু...।
ক্স কিন্তু কী? ভোট পাওয়া তো দূরের কথা নমিনেশনটাই পাইল না।
ক্স নতুন-পুরাতন বউয়ের মাইর খেয়ে অনেকে চির বোকা হয়ে যায়।
ক্স আমার বড় ভাই প্রত্যেক দিন বউয়ের হাতে মাইর খায়, তারপরও একটু টুঁ শব্দ করে না।
ক্স আমার ভাই কিন্তু টুঁ শব্দ করে। বিশেষ কইর্যা বউয়ের মাইরের ঠেলায় আমারে বাঁচাও বইল্যা চিত্কারও মারে। বুড়া বয়সে অনেকে মারাত্মক বোকা হয়ে এলোমেলো সব কাণ্ড ঘটিয়ে দেয়।
ক্স আমার দাদা মারাত্মক বোকা লোক, বিয়ার পরদিনই শ্যালিকাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়া বইছিল।
ক্স আর আমার দাদা খাড়ার উপরে তার আস্ত নানী শাশুড়িকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়া ফেলেছিল। তারে দেওনের জন্য চিঠিও লিখছিল, পরে অবশ্যই ধরা খাইছে।
ক্স বোকা উপাধি দিয়ে অনেকে একে অপরকে দয়া দেখায়।
ক্স শামছু বোকা বইল্যা আজই তুমি আমার ... বাড়ি থেইক্যা বাঁইচ্যা গেলা।
ক্স তাইলে চালাক হইলে কী মুলা চুরির দায়ে আমার জেল ফাঁসি হইত?
ক্স আপনি যতই চালাক হোন না কেন, স্ত্রীকে বোকা বানানো চাট্টিখানি কথা না।
ক্স আমারে আর বোকা ভাইবো না, হেদিন দেখলাম কাজের বুয়ার কাছে গিয়া তুমি তারে কি জানি কইতাছ, কথাডা কী ঠিক?
ক্স একদম ঠিক, ওর সঙ্গে আমি বেকামের জন্য কথা কই নাই, তয় ভালোবাসার দু-চারডা তীব্র জরুরি কথা কইছিলাম।
মোহাম্মদ আলী জনি হারামিয়া, সন্দ্বীপ
ক্স পারুল তোমারে না পাইলে আমি কিন্তু আসমান থেইক্যা লাফ দিয়ে ঠাং ভাইঙ্গ্যা চিরস্থায়ী পঙ্গু হইয়া যামু।
ক্স লুলা হইবা যখন বালা মতো হইবা, তাইলে আমার চাচারে দিয়া তুমারে ঢাকায় পাঠাইয়া ভিক্ষাবৃত্তির একটা বিজনেস করবার পারমু।
ক্স নয়া রাজনীতিবিদদের এ ধরনের বোকামি করাটাই স্বাভাবিক। আমার চাচা নির্বাচনের আগে কি বোকামিটাই না করল—আস্ত দশটা গরু জবাই কইরা সবাইরে খাওয়াইল কিন্তু...।
ক্স কিন্তু কী? ভোট পাওয়া তো দূরের কথা নমিনেশনটাই পাইল না।
ক্স নতুন-পুরাতন বউয়ের মাইর খেয়ে অনেকে চির বোকা হয়ে যায়।
ক্স আমার বড় ভাই প্রত্যেক দিন বউয়ের হাতে মাইর খায়, তারপরও একটু টুঁ শব্দ করে না।
ক্স আমার ভাই কিন্তু টুঁ শব্দ করে। বিশেষ কইর্যা বউয়ের মাইরের ঠেলায় আমারে বাঁচাও বইল্যা চিত্কারও মারে। বুড়া বয়সে অনেকে মারাত্মক বোকা হয়ে এলোমেলো সব কাণ্ড ঘটিয়ে দেয়।
ক্স আমার দাদা মারাত্মক বোকা লোক, বিয়ার পরদিনই শ্যালিকাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়া বইছিল।
ক্স আর আমার দাদা খাড়ার উপরে তার আস্ত নানী শাশুড়িকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়া ফেলেছিল। তারে দেওনের জন্য চিঠিও লিখছিল, পরে অবশ্যই ধরা খাইছে।
ক্স বোকা উপাধি দিয়ে অনেকে একে অপরকে দয়া দেখায়।
ক্স শামছু বোকা বইল্যা আজই তুমি আমার ... বাড়ি থেইক্যা বাঁইচ্যা গেলা।
ক্স তাইলে চালাক হইলে কী মুলা চুরির দায়ে আমার জেল ফাঁসি হইত?
ক্স আপনি যতই চালাক হোন না কেন, স্ত্রীকে বোকা বানানো চাট্টিখানি কথা না।
ক্স আমারে আর বোকা ভাইবো না, হেদিন দেখলাম কাজের বুয়ার কাছে গিয়া তুমি তারে কি জানি কইতাছ, কথাডা কী ঠিক?
ক্স একদম ঠিক, ওর সঙ্গে আমি বেকামের জন্য কথা কই নাই, তয় ভালোবাসার দু-চারডা তীব্র জরুরি কথা কইছিলাম।
মোহাম্মদ আলী জনি হারামিয়া, সন্দ্বীপ
ডাবল বোকা!
রাত ৩টা। গভীর ঘুমের মধ্যে আমি। হঠাত্ মোবাইল বেজে ওঠায় আমার ঘুম ভেঙে গেল। এমন সময় ঘুম ভাঙলে বিরক্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবুও কষ্ট করে মোবাইল রিসিভ করলাম। অপরিচিত নম্বর আর নারীকণ্ঠের আওয়াজ। আমি হ্যালো না বলতেই ওই প্রান্ত থেকে মেয়েটি বলে, আসলে ভাইয়া, আমি এতরাতে আপনার ঘুম ভাঙাতে চাইনি, তবুও কোনো উপায় না থাকায় আপনাকে কল দিতে বাধ্য হলাম।
আমি বিরক্তিকর কণ্ঠে তাকে বললাম, এত কথা না বলে কী বলতে চান তা-ই বলেন।
মেয়েটি বলে, আমি কিছুক্ষণ আগে একশ’ টাকা আমার মোবাইল থেকে পাঠাতে গিয়ে টাকাগুলো আমার বান্ধবীর কাছে না গিয়ে নম্বর ভুল হয়ে আপনার নম্বরে চলে গেছে। যদি পারেন, টাকাগুলো এই নম্বরে পাঠিয়ে দেন।
আমি দিচ্ছি বলে মোবাইল কেটে দিলাম। তারপর দেখি মোবাইলে একটা এসএমএস। মেসেজটাতে লেখা ছিল, You have received taka 100. আমি ভাবলাম, তাই তো আমার মোবাইলে মেয়েটা ভুলে ১০০ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি তার কথামত তার মোবাইলে সেই ১০০ টাকা পাঠিয়ে দিলাম। কিছু না ভেবেই আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে ওঠার পর সকাল ১০টায় মোবাইল হাতে নিয়ে ব্যালেন্স চেক করতেই দেখি আমার মোবাইলে আছে মাত্র ১৩ টাকা। ভাবলাম কী হলো, আমার মোবাইলে গত রাতেও ১১৫ টাকা ছিল। তখনই মনে পড়ল রাতে কল দেয়া মেয়েটার কথা। ভাবলাম তার পাঠানো টাকাই তো আমি তাকে পাঠালাম। তবুও একটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার পাঠানো টাকার এসএমএসটা পড়লাম। দেখেই বুঝতে পারলাম, মেয়েটা আমার সঙ্গে বেঈমানি করেছে। তার এসএমএসটা আসলে সে নিজে এভাবে লিখে আমাকে পাঠিয়েছে। সে কোনো টাকা আমার মোবাইলে পাঠায়নি। বুঝতে পারলাম, মেয়েটা আমাকে বোকা বানানোর জন্য এ কাজটা করেছে।
আমি চিন্তা করতে লাগলাম, কীভাবে মেয়েটাকে বোকা বানানো যায়। পরদিন তার নম্বরে একটা এসএমএস দিলাম, Apnar konthota khuv sundor. (আপনার কণ্ঠটা খুব সুন্দর।) তিন ঘণ্টা পর তার উত্তর, Apnar bondhu hobo. (আপনার বন্ধু হব।) আমি মেয়েটাকে বোকা বানাতে পারলেই মনে করব আমি প্রতিশোধ নিতে পেরেছি। এরপর মেয়েটা প্রায়ই আমাকে বিভিন্ন কিছু লিখে এসএমএস দিত। আমিও দিতাম। আমি সুযোগ খুঁজছি কখন মেয়েটাকে বোকা বানিয়ে আমার প্রতিশোধ নিতে পারব।
কিছুদিন পর মেয়েটা আমাকে এসএমএস দিয়ে জানায়, আমার সঙ্গে সে দেখা করতে চায়। আমি খুব খুশি হলাম যে, তাকে বোকা বানানোর এখনই আসল সময়। দেখা করার জায়গা ঠিক করলাম আমাদের বাজারের একটা রেস্টুরেন্টে। দু’দিন পরে দেখা হবে। সেখানে যে কোনো উপায়ে তাকে বোকা বানাতেই হবে।
এলো প্রত্যাশিত সেই দিনটি। রেস্টুরেন্টে ঢুকেই দেখি মেয়েটা তার একটা বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়েই এসেছে। সেখানে আমরা নাস্তা করলাম। নাস্তা শেষ না হতেই মেয়েটা আমাকে বলে, এই রেস্টুরেন্টের সামনের ঝরনাটা অনেক সুন্দর, পানি পড়ার দৃশ্যটাও খুব সুন্দর। আপনার মোবাইলে দুটা ছবি তুলব? দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাকে আমার ৬১২০ নকিয়া মোবাইলটা দিলাম ছবি তোলার জন্য। ভাবতে থাকলাম, কীভাবে তাকে বোকা বানাতে পারব। কিছুক্ষণ পর দেখি, ছবি তুলতে গিয়ে মেয়েটি আর ফিরে আসছে না। অপেক্ষা করতে করতে প্রায় ৩ ঘণ্টা শেষ। রেস্টুরেন্টের এক বয়-এর কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে মেয়েটাকে কল দিলাম। তার মোবাইল বন্ধ, সঙ্গে আমারটাও! মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে এলাম। অসহায় হয়ে ভাবতে থাকি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মেয়েটাকে বোকা বানাতে গিয়ে আমি সত্যি দ্বিতীয়বার বোকা বনে গেলাম। মেয়েটা আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিল—তা কি আমাকে দ্বিতীয়বার বোকা বানানোর জন্য? প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এ কী হলো। হারালাম আমার দামি মোবাইলটা।
কয়েকদিন পর আমার ক্লাসমেট বান্ধবী পারভীন আমাকে ফোন দিয়ে বলে, আমার বাড়িতে কাল তোর দাওয়াত। পরদিন দাওয়াত খাওয়ার জন্য পারভীনের বাড়িতে গেলাম। তার সঙ্গে অনেকক্ষণ গল্প করলাম। এক ফাঁকে সে একটা ছোট্ট প্যাকেট আমাকে দিয়ে বলে, এই প্যাকেটটা বাড়িতে গিয়ে খুলবি।
আমি মনে করলাম, সে আমাকে কোনো গিফ্ট দিচ্ছে। মন না মানায় প্যাকেটটি খুলে ফেললাম। দেখি কিছুদিন আগে এক জল্লাদ মেয়ে কর্তৃক ছিনতাই হওয়া আমার মোবাইলটি। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বললাম, এই মোবাইলটি কোথায় পেয়েছিস? তার উত্তর, সরি, সরি, সরি। সবটাই আমার কারসাজি। শুধু মজা করার জন্যই আমার এক বান্ধবীকে দিয়ে এ কাজগুলো করিয়েছি। আমি তখনই তাকে বললাম, মজা করার জন্য বল আর অন্য কিছু করার জন্য বল, আমাকে সত্যি তুই ডাবল (দু’বার) বোকা বানিয়ে ছাড়লি।
এম ইয়াসিন আরাফাত
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
আমি বিরক্তিকর কণ্ঠে তাকে বললাম, এত কথা না বলে কী বলতে চান তা-ই বলেন।
মেয়েটি বলে, আমি কিছুক্ষণ আগে একশ’ টাকা আমার মোবাইল থেকে পাঠাতে গিয়ে টাকাগুলো আমার বান্ধবীর কাছে না গিয়ে নম্বর ভুল হয়ে আপনার নম্বরে চলে গেছে। যদি পারেন, টাকাগুলো এই নম্বরে পাঠিয়ে দেন।
আমি দিচ্ছি বলে মোবাইল কেটে দিলাম। তারপর দেখি মোবাইলে একটা এসএমএস। মেসেজটাতে লেখা ছিল, You have received taka 100. আমি ভাবলাম, তাই তো আমার মোবাইলে মেয়েটা ভুলে ১০০ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি তার কথামত তার মোবাইলে সেই ১০০ টাকা পাঠিয়ে দিলাম। কিছু না ভেবেই আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে ওঠার পর সকাল ১০টায় মোবাইল হাতে নিয়ে ব্যালেন্স চেক করতেই দেখি আমার মোবাইলে আছে মাত্র ১৩ টাকা। ভাবলাম কী হলো, আমার মোবাইলে গত রাতেও ১১৫ টাকা ছিল। তখনই মনে পড়ল রাতে কল দেয়া মেয়েটার কথা। ভাবলাম তার পাঠানো টাকাই তো আমি তাকে পাঠালাম। তবুও একটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার পাঠানো টাকার এসএমএসটা পড়লাম। দেখেই বুঝতে পারলাম, মেয়েটা আমার সঙ্গে বেঈমানি করেছে। তার এসএমএসটা আসলে সে নিজে এভাবে লিখে আমাকে পাঠিয়েছে। সে কোনো টাকা আমার মোবাইলে পাঠায়নি। বুঝতে পারলাম, মেয়েটা আমাকে বোকা বানানোর জন্য এ কাজটা করেছে।
আমি চিন্তা করতে লাগলাম, কীভাবে মেয়েটাকে বোকা বানানো যায়। পরদিন তার নম্বরে একটা এসএমএস দিলাম, Apnar konthota khuv sundor. (আপনার কণ্ঠটা খুব সুন্দর।) তিন ঘণ্টা পর তার উত্তর, Apnar bondhu hobo. (আপনার বন্ধু হব।) আমি মেয়েটাকে বোকা বানাতে পারলেই মনে করব আমি প্রতিশোধ নিতে পেরেছি। এরপর মেয়েটা প্রায়ই আমাকে বিভিন্ন কিছু লিখে এসএমএস দিত। আমিও দিতাম। আমি সুযোগ খুঁজছি কখন মেয়েটাকে বোকা বানিয়ে আমার প্রতিশোধ নিতে পারব।
কিছুদিন পর মেয়েটা আমাকে এসএমএস দিয়ে জানায়, আমার সঙ্গে সে দেখা করতে চায়। আমি খুব খুশি হলাম যে, তাকে বোকা বানানোর এখনই আসল সময়। দেখা করার জায়গা ঠিক করলাম আমাদের বাজারের একটা রেস্টুরেন্টে। দু’দিন পরে দেখা হবে। সেখানে যে কোনো উপায়ে তাকে বোকা বানাতেই হবে।
এলো প্রত্যাশিত সেই দিনটি। রেস্টুরেন্টে ঢুকেই দেখি মেয়েটা তার একটা বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়েই এসেছে। সেখানে আমরা নাস্তা করলাম। নাস্তা শেষ না হতেই মেয়েটা আমাকে বলে, এই রেস্টুরেন্টের সামনের ঝরনাটা অনেক সুন্দর, পানি পড়ার দৃশ্যটাও খুব সুন্দর। আপনার মোবাইলে দুটা ছবি তুলব? দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাকে আমার ৬১২০ নকিয়া মোবাইলটা দিলাম ছবি তোলার জন্য। ভাবতে থাকলাম, কীভাবে তাকে বোকা বানাতে পারব। কিছুক্ষণ পর দেখি, ছবি তুলতে গিয়ে মেয়েটি আর ফিরে আসছে না। অপেক্ষা করতে করতে প্রায় ৩ ঘণ্টা শেষ। রেস্টুরেন্টের এক বয়-এর কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে মেয়েটাকে কল দিলাম। তার মোবাইল বন্ধ, সঙ্গে আমারটাও! মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে এলাম। অসহায় হয়ে ভাবতে থাকি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মেয়েটাকে বোকা বানাতে গিয়ে আমি সত্যি দ্বিতীয়বার বোকা বনে গেলাম। মেয়েটা আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিল—তা কি আমাকে দ্বিতীয়বার বোকা বানানোর জন্য? প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এ কী হলো। হারালাম আমার দামি মোবাইলটা।
কয়েকদিন পর আমার ক্লাসমেট বান্ধবী পারভীন আমাকে ফোন দিয়ে বলে, আমার বাড়িতে কাল তোর দাওয়াত। পরদিন দাওয়াত খাওয়ার জন্য পারভীনের বাড়িতে গেলাম। তার সঙ্গে অনেকক্ষণ গল্প করলাম। এক ফাঁকে সে একটা ছোট্ট প্যাকেট আমাকে দিয়ে বলে, এই প্যাকেটটা বাড়িতে গিয়ে খুলবি।
আমি মনে করলাম, সে আমাকে কোনো গিফ্ট দিচ্ছে। মন না মানায় প্যাকেটটি খুলে ফেললাম। দেখি কিছুদিন আগে এক জল্লাদ মেয়ে কর্তৃক ছিনতাই হওয়া আমার মোবাইলটি। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বললাম, এই মোবাইলটি কোথায় পেয়েছিস? তার উত্তর, সরি, সরি, সরি। সবটাই আমার কারসাজি। শুধু মজা করার জন্যই আমার এক বান্ধবীকে দিয়ে এ কাজগুলো করিয়েছি। আমি তখনই তাকে বললাম, মজা করার জন্য বল আর অন্য কিছু করার জন্য বল, আমাকে সত্যি তুই ডাবল (দু’বার) বোকা বানিয়ে ছাড়লি।
এম ইয়াসিন আরাফাত
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
বোকা রাজার কাণ্ড
এক যে ছিল রাজা। তিনি রাজ্যের মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা, নদী-পুকুর—সবার বিচার করতেন। এক কচ্ছপ করল কিনা মহা এক দোষ। রাজা বিচার করে তাকে মহা এক শাস্তি দেবেন ঠিক করলেন। অনেক ভেবেচিন্তে বললেন, দাও ওটাকে উল্টে। চিত্ হয়ে রোদে শুয়ে থাক।
শাস্তির বয়ান শুনে চতুর কচ্ছপ বলল, মহারাজ, এটা আমার জন্য চমত্কার শাস্তি হবে। অনেকদিন ধরে আমার হজমে একটু গোলমাল যাচ্ছে। ওতে আমার পাকস্থলী রোদ পোহাতে পারবে।
রাজা সঙ্গে সঙ্গে ভেবে নিলেন—ওতে যদি কচ্ছপের উপকার হয়, তাহলে তো শাস্তি হলো না। তাই তিনি সেই দণ্ড ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, আমি তোমার পিঠে চাবুক মারব।
ভালো। তাতে আমার পিঠ শক্ত হবে, কচ্ছপ বলল।
অমনি রাজা এই শাস্তিও বাতিল করে দিলেন। তখন ঠিক করলেন কচ্ছপকে পানিতে ছুঁড়ে মারবেন। সঙ্গে সঙ্গে তা কচ্ছপকে শুনিয়েও দিলেন।
অমনি কচ্ছপ হাউ মাউ কান্না জুড়ে দিয়ে বলল, দোহাই মহারাজ, অন্য যে কোনো শাস্তি দিন, তা আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু দোহাই রাজামশাই, পানিতে ফেলবেন না যেন।
রাজা কিন্তু অটল। এই শাস্তি কচ্ছপকে পেতেই হবে। তাই ওকে তক্ষুনি পানিতে ছুঁড়ে মারা হলো। রাজা খুব খুশি হলেন, কারণ কচ্ছপকে তিনি উপযুক্ত শাস্তি দিতে পেরেছেন। কচ্ছপও খুব খুশি ও সুখী হলো নিরাপদ জায়গায় ফিরে যাওয়ার জন্য।
(শ্রীলঙ্কার রূপকথা)
মুহাম্মদ আবু তালহা, কাউখালী, পিরোজপুর
শাস্তির বয়ান শুনে চতুর কচ্ছপ বলল, মহারাজ, এটা আমার জন্য চমত্কার শাস্তি হবে। অনেকদিন ধরে আমার হজমে একটু গোলমাল যাচ্ছে। ওতে আমার পাকস্থলী রোদ পোহাতে পারবে।
রাজা সঙ্গে সঙ্গে ভেবে নিলেন—ওতে যদি কচ্ছপের উপকার হয়, তাহলে তো শাস্তি হলো না। তাই তিনি সেই দণ্ড ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, আমি তোমার পিঠে চাবুক মারব।
ভালো। তাতে আমার পিঠ শক্ত হবে, কচ্ছপ বলল।
অমনি রাজা এই শাস্তিও বাতিল করে দিলেন। তখন ঠিক করলেন কচ্ছপকে পানিতে ছুঁড়ে মারবেন। সঙ্গে সঙ্গে তা কচ্ছপকে শুনিয়েও দিলেন।
অমনি কচ্ছপ হাউ মাউ কান্না জুড়ে দিয়ে বলল, দোহাই মহারাজ, অন্য যে কোনো শাস্তি দিন, তা আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু দোহাই রাজামশাই, পানিতে ফেলবেন না যেন।
রাজা কিন্তু অটল। এই শাস্তি কচ্ছপকে পেতেই হবে। তাই ওকে তক্ষুনি পানিতে ছুঁড়ে মারা হলো। রাজা খুব খুশি হলেন, কারণ কচ্ছপকে তিনি উপযুক্ত শাস্তি দিতে পেরেছেন। কচ্ছপও খুব খুশি ও সুখী হলো নিরাপদ জায়গায় ফিরে যাওয়ার জন্য।
(শ্রীলঙ্কার রূপকথা)
মুহাম্মদ আবু তালহা, কাউখালী, পিরোজপুর
মুরব্বিদের নাম ধরে কথা বলিস!
আমার ছোট ভাই রিফাত একটু দুরন্ত টাইপের। ও করিমপুর নূরানি মাদরাসায় ক্লাস টুতে পড়ে। মাঝেমধ্যে ও এমন কাণ্ড করে বসে, যা শুনে আমরা হতবাক হয়ে যাই। একদিন সন্ধ্যায় বাসায় গেলাম। রিফাত আমাকে দেখামাত্রই বলে উঠল, ভাইয়া, জান... (আব্বুর নাম ধরে বলল) আমাকে খুব মেরেছে। আমি ওর মুখে আব্বুর নাম শুনে একেবারে থ!
কিছুক্ষণ পর ধমক দিয়ে বললাম, তুই বেয়াদব হয়ে গেছিস। মুরব্বিদের নাম ধরে কথা বলিস।
নাজমুল হুদার কাছে নালিশ করব! (আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল।) আমার কথা শুনে রিফাত হেসে উঠল, আর বলল, ভাইয়া আপনিও...! নাজমুল হুদা সাহেব হচ্ছেন করিমপুর নূরানি মাদরাসার মাননীয় প্রধান শিক্ষক, যিনি কিনা আমারও সম্মানিত শিক্ষক ছিলেন। সেদিন নিজেকে ভীষণ বোকা মনে হয়েছিল।
মো. ইয়াছিন রুবেল চৌমুহনী, নোয়াখালী
কিছুক্ষণ পর ধমক দিয়ে বললাম, তুই বেয়াদব হয়ে গেছিস। মুরব্বিদের নাম ধরে কথা বলিস।
নাজমুল হুদার কাছে নালিশ করব! (আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল।) আমার কথা শুনে রিফাত হেসে উঠল, আর বলল, ভাইয়া আপনিও...! নাজমুল হুদা সাহেব হচ্ছেন করিমপুর নূরানি মাদরাসার মাননীয় প্রধান শিক্ষক, যিনি কিনা আমারও সম্মানিত শিক্ষক ছিলেন। সেদিন নিজেকে ভীষণ বোকা মনে হয়েছিল।
মো. ইয়াছিন রুবেল চৌমুহনী, নোয়াখালী
গাছে উঠে বোকামি
তখন আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি। একদিন মা বললেন, শবরিকলা পেকে গেছে। কলাগাছ কেটে কলাগুলো বাড়ি নিয়ে আয়। আমি দা নিয়ে যখন কলাগাছ কাটতে গেলাম, তখন আমার বন্ধু রমেশ বলল, কলাগাছ কাটলে মাটিতে পড়ে সব কলা নষ্ট হয়ে যাবে। তখন তোরা আর খেতে পারবি না। আমি বললাম, তাহলে আমি কলাগাছে উঠেই কলার কান কেটে হাতে ধরে নিচে নেমে আসব।
তারপর বহু কষ্টে কলাগাছে উঠে এক হাত দিয়ে কলার কান ধরে কলা কাটলাম। কিন্তু কলার ওজন সইতে না পেরে কলার সঙ্গে আমিও নিচে পড়ে গেলাম। হাতটা বাঁকা হয়ে মাটিতে লেগেছিল বলে হাত ভেঙে গেল। এরপর থেকে বাড়ির সবাই আমাকে ক্যাবলা কলা বলে ডাকতো।
একদিন কলেজ থেকে বাড়ি ফিরলে মা বললেন, আমগুলো পেকে গেছে। গাছ থেকে পেড়ে আন। আমি গাছে উঠলাম আম পাড়ার জন্য। আমি আম পাড়তে পাড়তে একেবারে সরু ডালে চলে গেলাম। একসময় পায়ের তলার চিকন ডাল ভেঙে গেলে আমি হাতের ডাল শক্ত করে ধরে বাদুড়ের মতো ঝুলতে লাগলাম। মাটির দিক তাকিয়ে দেখি মাটি অনেক নিচে। ভয়ে আমার হাত-পা কাঁপতে লাগল। আমি চিত্কার করে বললাম, সুমন, তোরা চারজন লেপ এনে শক্ত করে উঁচু করে ধর। আমি হাত ছেড়ে নিচে পড়ে যাচ্ছি। সুমনরা চারজন লেপ এনে ধরল। কিন্তু আমি দুর্ভাগ্যবশত লেপের মাঝে না পড়ে আমার ছোট বোন সুমীর ঘাড়ের ওপর পড়লাম। তারপর আমরা দুই ভাইবোন হাসপাতালে ভর্তি হলাম। সাত দিন পর দুই ভাইবোন গলায় হাত ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
বিপ্লব, মহম্মদপুর
তারপর বহু কষ্টে কলাগাছে উঠে এক হাত দিয়ে কলার কান ধরে কলা কাটলাম। কিন্তু কলার ওজন সইতে না পেরে কলার সঙ্গে আমিও নিচে পড়ে গেলাম। হাতটা বাঁকা হয়ে মাটিতে লেগেছিল বলে হাত ভেঙে গেল। এরপর থেকে বাড়ির সবাই আমাকে ক্যাবলা কলা বলে ডাকতো।
একদিন কলেজ থেকে বাড়ি ফিরলে মা বললেন, আমগুলো পেকে গেছে। গাছ থেকে পেড়ে আন। আমি গাছে উঠলাম আম পাড়ার জন্য। আমি আম পাড়তে পাড়তে একেবারে সরু ডালে চলে গেলাম। একসময় পায়ের তলার চিকন ডাল ভেঙে গেলে আমি হাতের ডাল শক্ত করে ধরে বাদুড়ের মতো ঝুলতে লাগলাম। মাটির দিক তাকিয়ে দেখি মাটি অনেক নিচে। ভয়ে আমার হাত-পা কাঁপতে লাগল। আমি চিত্কার করে বললাম, সুমন, তোরা চারজন লেপ এনে শক্ত করে উঁচু করে ধর। আমি হাত ছেড়ে নিচে পড়ে যাচ্ছি। সুমনরা চারজন লেপ এনে ধরল। কিন্তু আমি দুর্ভাগ্যবশত লেপের মাঝে না পড়ে আমার ছোট বোন সুমীর ঘাড়ের ওপর পড়লাম। তারপর আমরা দুই ভাইবোন হাসপাতালে ভর্তি হলাম। সাত দিন পর দুই ভাইবোন গলায় হাত ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
বিপ্লব, মহম্মদপুর
কার কাছে কে বোকা
* মা-বাবার কাছে বোকা—সন্তান।
* প্রেমিকার কাছে বোকা—প্রেমিক।
* বউয়ের কাছে বোকা—স্বামী।
* বসের কাছে বোকা—অধস্তন কর্মকর্তা।
* শিক্ষকের কাছে বোকা—ছাত্রছাত্রী।
* দুষ্টু বন্ধুর কাছে বোকা—সরল বন্ধু।
* সরকারি দলের কাছে বোকা—বিরোধী দল।
* নেতার কাছে বোকা—আমজনতা।
* আধুনিক সন্তানদের কাছে বোকা—বাবা-মা (সেকেলে)।
* বি.স-এর কাছে বোকা—ভিমরুলের এই সংখ্যা।
সুমন, পটিয়া
* প্রেমিকার কাছে বোকা—প্রেমিক।
* বউয়ের কাছে বোকা—স্বামী।
* বসের কাছে বোকা—অধস্তন কর্মকর্তা।
* শিক্ষকের কাছে বোকা—ছাত্রছাত্রী।
* দুষ্টু বন্ধুর কাছে বোকা—সরল বন্ধু।
* সরকারি দলের কাছে বোকা—বিরোধী দল।
* নেতার কাছে বোকা—আমজনতা।
* আধুনিক সন্তানদের কাছে বোকা—বাবা-মা (সেকেলে)।
* বি.স-এর কাছে বোকা—ভিমরুলের এই সংখ্যা।
সুমন, পটিয়া
আমরা সবাই বোকা...
প্রথমেই বোকার মতো নিজের বোকামি দিয়ে শুরু করি। আমি এক ছাত্রীকে পড়াই। সে খুবই দুষ্টু। বলা যায়, ভয়ঙ্কর দুষ্টু। আর ভুল ধরতে মহাওস্তাদ। আর আমি খেলার জন্য একটু পাগল আর কি! একবার বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের খেলা চলছিল। ও পানি খেতে চাইলে শর্ত দিলাম, স্কোরটাও দেখে আসতে হবে। ৩৫ রানে ১ উইকেট বললে আমি জানতে চাইলাম কে কে আউট হয়েছে। ওর উত্তর শুনে বুঝতে পারলাম কত বড় বোকামিটা করেছি। কর্কশ কণ্ঠে বলল, তামিম ইকবাল এবং আপনার মাথা আউট হয়েছে। বললাম ১ উইকেট, আর আপনি জানতে চাচ্ছেন কে কে। ভিমরুল কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আমার দেশ পত্রিকার বৃহস্পতিবার থেকে আবার বের হওয়ার ঘোষণা দেখে ছোট বোন ডলি অনেক খুশি হয়ে বলেছিল, ‘ভাইয়া, ভিমরুল আগে বের হতো শনিবারে এখন থেকে বৃহস্পতিবারে। তার মানে এখন থেকে সপ্তাহে ২ দিন আগেই পাব। এক সপ্তাহ যাওয়ার পর তার হাহাকার—ভাইয়া, ভিমরুল আগে পেতাম শনিবারে এখন বৃহস্পতিবারে। আমাদের ৫ দিন বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে! একবার ছোট ভাই সাইফুলকে ইরেজার দিতে বললে পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে আধা ঘণ্টা খোঁজার পর কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে, ভাইয়া, আমি ইরেজার কী, চিনি না।
একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক একজন গীতিকারকে বলে আপনি নিশ্চয় অনেক রবীন্দ্রসংগীতও লিখেছেন? গীতিকারও মাথা দুলিয়ে জানায়, হ্যাঁ। কোনো এক মন্ত্রী একদা বলেছিল—আমাদের দেশ সব রফতানি বিদেশ থেকেই করে। হলে অবৈধ ছাত্র উচ্ছেদ করতে গিয়ে এক পুলিশ এক ছাত্রের কাছে জানতে চায়—তোমার বিভাগ কী? ছাত্রটি ইকনোমিকস বললে পুলিশ খেপে গিয়ে বলে, তোমার আইডি কার্ডে তো লেখা অর্থনীতি। এক পণ্ডিতের বোকামিটা ছিল এ রকম—এক লোক বলেছিল, পণ্ডিত মহাশয়, আপনার জন্য একটা ভারী দুঃসংবাদ! আপনার স্ত্রী তো বিধবা হয়ে গেছে। তখন পণ্ডিত মহাশয় বলেছিল, হায়! হায়! আমার স্ত্রী বিধবা হয়ে গেছে! এখন আমার কী হবে, আমি বেঁচে থেকে লাভ কী! তখন লোকটি বলল, পণ্ডিত মহাশয়, আপনি বেঁচে থাকতে আপনার স্ত্রী কী বিধবা হতে পারে? লেখাটা শেষ করি বর্তমান সরকারের বোকামি দিয়ে—বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে ১০ টাকা চাল, ফ্রি সার, প্রতি ঘরে একজনকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। সরকার ভাবছে জনগণকে কত সহজেই বোকা বানালাম! একটা কৌতুক—এক ট্রাক ড্রাইভার তার ট্রাক থামিয়ে চায়ের দোকানে ঢুকল। তিন বদমাশ মোটরসাইকেল আরোহীও ঢুকল। তারপর তারা ট্রাক ড্রাইভারের মাথায় টোকা দিতে লাগল। চায়েও থুতু দিল। কিন্তু ট্রাক ড্রাইভারটি কিছুই না বলে বের হয়ে গেল। তখন বদমাশরা দোকানিকে বলল, লোকটা মনে হয় বোকা টাইপের? দোকানি উত্তর দিল, হতে পারে। ট্রাকও ভালোমত চালাতে পারে না। আপনাদের হোন্ডার ওপর দিয়েই ট্রাকটি চালিয়ে নিয়ে গেল। তিনটি হোন্ডাই পিষ্ট হয়ে গেল। হোন্ডাগুলোর বারোটা বেজে গেল। এই বোকা জনগণ যদি ট্রাক ড্রাইভারের মতো সময়মত বোকামিটা করে, তাহলে বোকা কী জনগণ নাকি সরকার? আসুন আমরা একসঙ্গে গেয়ে উঠি—আমরা সবাই বোকা আমাদেরই বোকার... ।
শহীদুল আনোয়ার জয়
হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম
একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক একজন গীতিকারকে বলে আপনি নিশ্চয় অনেক রবীন্দ্রসংগীতও লিখেছেন? গীতিকারও মাথা দুলিয়ে জানায়, হ্যাঁ। কোনো এক মন্ত্রী একদা বলেছিল—আমাদের দেশ সব রফতানি বিদেশ থেকেই করে। হলে অবৈধ ছাত্র উচ্ছেদ করতে গিয়ে এক পুলিশ এক ছাত্রের কাছে জানতে চায়—তোমার বিভাগ কী? ছাত্রটি ইকনোমিকস বললে পুলিশ খেপে গিয়ে বলে, তোমার আইডি কার্ডে তো লেখা অর্থনীতি। এক পণ্ডিতের বোকামিটা ছিল এ রকম—এক লোক বলেছিল, পণ্ডিত মহাশয়, আপনার জন্য একটা ভারী দুঃসংবাদ! আপনার স্ত্রী তো বিধবা হয়ে গেছে। তখন পণ্ডিত মহাশয় বলেছিল, হায়! হায়! আমার স্ত্রী বিধবা হয়ে গেছে! এখন আমার কী হবে, আমি বেঁচে থেকে লাভ কী! তখন লোকটি বলল, পণ্ডিত মহাশয়, আপনি বেঁচে থাকতে আপনার স্ত্রী কী বিধবা হতে পারে? লেখাটা শেষ করি বর্তমান সরকারের বোকামি দিয়ে—বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে ১০ টাকা চাল, ফ্রি সার, প্রতি ঘরে একজনকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। সরকার ভাবছে জনগণকে কত সহজেই বোকা বানালাম! একটা কৌতুক—এক ট্রাক ড্রাইভার তার ট্রাক থামিয়ে চায়ের দোকানে ঢুকল। তিন বদমাশ মোটরসাইকেল আরোহীও ঢুকল। তারপর তারা ট্রাক ড্রাইভারের মাথায় টোকা দিতে লাগল। চায়েও থুতু দিল। কিন্তু ট্রাক ড্রাইভারটি কিছুই না বলে বের হয়ে গেল। তখন বদমাশরা দোকানিকে বলল, লোকটা মনে হয় বোকা টাইপের? দোকানি উত্তর দিল, হতে পারে। ট্রাকও ভালোমত চালাতে পারে না। আপনাদের হোন্ডার ওপর দিয়েই ট্রাকটি চালিয়ে নিয়ে গেল। তিনটি হোন্ডাই পিষ্ট হয়ে গেল। হোন্ডাগুলোর বারোটা বেজে গেল। এই বোকা জনগণ যদি ট্রাক ড্রাইভারের মতো সময়মত বোকামিটা করে, তাহলে বোকা কী জনগণ নাকি সরকার? আসুন আমরা একসঙ্গে গেয়ে উঠি—আমরা সবাই বোকা আমাদেরই বোকার... ।
শহীদুল আনোয়ার জয়
হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম
আমি কত বোকা!!!
তখন আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। একদিন প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরে যখন আমাদের উঠোনে ক্রিকেট খেলছিলাম, তখন আমার ক্লাসটিচার (ওয়ালীউল্লাহ স্যার) আমার কাছে এসে বললেন, ‘সমুদ্র, তোমার পরীক্ষা কেমন হয়েছে?’ আমি বললাম, ‘ভালো, সব প্রশ্নের উত্তর লিখেছি।’ স্যার বললেন, ‘দেখি তোমার খাতা।’ আমি দৌড়ে ঘর থেকে খাতা এনে স্যারকে দিলাম। স্যার বললেন, পরীক্ষার খাতা জমা না দিয়ে বাড়ি এনেছো কেন?’ ‘স্যার এটা তো আমার খাতা। অন্যের খাতা তো আমাদের বাড়িতে আনিনি’, আমার কথা শুনে বাড়িসুদ্ধ সবাই হাসতে লাগল। এর কিছু দিন পর স্বর্ণা দিদিমণি মধুমতি নদীর তীরে বেড়াতে যাবে বলে রেডি হলো। আমি বললাম, ‘দিদিমণি, আমি তো কোনোদিন নদী দেখিনি, আমিও তোমার সাথে যাব।’ দিদিমণি বলল, ‘তোর যাওয়ার দরকার নেই।’ কিন্তু আমিও নাছোড়বান্দা। শেষ পর্যন্ত দিদিমণি আমাকে নিয়ে নদী দেখতে গেল। নদীর তীরে গিয়ে আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, ‘বাপরে কত্তো বড় পুকুর।...আচ্ছা দিদিমণি, কারা এই পুকুর কেটেছিল? আর কত দিনইবা সময় লেগেছিল?’ দিদিমণি হাসতে হাসতে বলল, ‘এটা পুকুর নয়, এটাই মধুমতি নদী। আর এটা মানুষে কাটেনি এটা ভূতে বানিয়েছে।’
আমি বললাম, ‘ও ভূতে! তাহলে তো ভূতের অনেক শক্তি। চল না, উনার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসি। আর উনার বাড়িতে যদি ফুলগাছ থাকে তাহলে ফুল নিয়ে এসে মালা বানাব।’ দিদিমণি বলল, ‘উনার বাড়ি স্বর্গলোকে। উনার বাড়ি বেড়াতে যাওয়া যাবে না।’ ‘কেন যাবে না, উনার বাড়ির সামনে কি পাগলা কুত্তা আছে?’ দিদিমণি ধমক দিয়ে বলল, ‘চুপ কর।’ কেন? কারণ ভূত বলেছে ছোট ছেলেদের বেশি বকবক করতে নেই। তাহলে উনি একেবারে বোবা বানিয়ে দেবেন। আমি বললাম, ‘তাহলে তুমিও ভূতকে বলে দিও, ওরা যদি কখনো আমাদের বাড়ির কাছ দিয়ে যায় আমি তাহলে আমাদের বিষমাখা তীর দিয়ে ওনার ভুঁড়ি ফুটা করে দেব। দিদিমণি আমার কথা শুনে হাঃ হাঃ হাঃ করে হাসতে লাগল। এখন আমি বড় হয়েছি। এখনও বোকামি করি। মাঝে মাঝে স্বর্ণা দিদিমণি রাগ করে বলে, তুই কবে চালাক হবি, কবে মানুষ হবি? তোর বোকামির জন্য তো তুই নিজেই বকা খাস। দিদিমণিকে উত্তরে একদিন বললাম, আচ্ছা দিদিমণি, ইভটিজাররাও তো বকা খায়। আমি কি ইভটিজারদের চেয়ে খারাপ? দিদিমণি বলল, ‘না রে তোকে আর চালাকও হতে হবে না, ইভটিজারও হওয়া লাগবে না।’ আমি তখন বাথরুমে গিয়ে কর্কশ কণ্ঠে গেয়ে উঠলাম, ‘আমি সারাজীবন বোকাই রব এটাই আমার অ্যাম্বিশন।’
সমুদ্র বিপ্লব মহম্মদপুর, মাগুরা
আমি বললাম, ‘ও ভূতে! তাহলে তো ভূতের অনেক শক্তি। চল না, উনার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসি। আর উনার বাড়িতে যদি ফুলগাছ থাকে তাহলে ফুল নিয়ে এসে মালা বানাব।’ দিদিমণি বলল, ‘উনার বাড়ি স্বর্গলোকে। উনার বাড়ি বেড়াতে যাওয়া যাবে না।’ ‘কেন যাবে না, উনার বাড়ির সামনে কি পাগলা কুত্তা আছে?’ দিদিমণি ধমক দিয়ে বলল, ‘চুপ কর।’ কেন? কারণ ভূত বলেছে ছোট ছেলেদের বেশি বকবক করতে নেই। তাহলে উনি একেবারে বোবা বানিয়ে দেবেন। আমি বললাম, ‘তাহলে তুমিও ভূতকে বলে দিও, ওরা যদি কখনো আমাদের বাড়ির কাছ দিয়ে যায় আমি তাহলে আমাদের বিষমাখা তীর দিয়ে ওনার ভুঁড়ি ফুটা করে দেব। দিদিমণি আমার কথা শুনে হাঃ হাঃ হাঃ করে হাসতে লাগল। এখন আমি বড় হয়েছি। এখনও বোকামি করি। মাঝে মাঝে স্বর্ণা দিদিমণি রাগ করে বলে, তুই কবে চালাক হবি, কবে মানুষ হবি? তোর বোকামির জন্য তো তুই নিজেই বকা খাস। দিদিমণিকে উত্তরে একদিন বললাম, আচ্ছা দিদিমণি, ইভটিজাররাও তো বকা খায়। আমি কি ইভটিজারদের চেয়ে খারাপ? দিদিমণি বলল, ‘না রে তোকে আর চালাকও হতে হবে না, ইভটিজারও হওয়া লাগবে না।’ আমি তখন বাথরুমে গিয়ে কর্কশ কণ্ঠে গেয়ে উঠলাম, ‘আমি সারাজীবন বোকাই রব এটাই আমার অ্যাম্বিশন।’
সমুদ্র বিপ্লব মহম্মদপুর, মাগুরা
আজব বোকা
২০১০ সলের রমজান মাসের ঘটনা। আমাদের মেসে রকিব (ছদ্মনাম) নামে একটা ছেলে ছিল। সে আমার এক বছরের জুনিয়র। তার বোকামি লিপিবদ্ধ করতে গেলে আর সব পাঠক চান্স পাবেন না বলে দু-একটাই লিখব। যাক, আসল কথায় আসি। সে ভালো করে কাপড় ধুতে পারত না বলে সব কাপড় বাড়িতে যাওয়ার সময় নিয়ে যেত। আর ওর বোনকে দিয়ে ধুইয়ে আনত। একদিন দেখি সে সব ময়লা কাপড় ইস্ত্রি করে এনে ব্যাগে ঢোকাচ্ছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ময়লা কাপড় ইস্ত্রি করলে কেন? সে বলল, কাপড়গুলো ধোয়ার জন্য বাড়িতে নেব, কিন্তু ব্যাগে জায়গা হচ্ছে না বলে ইস্ত্রি করে নিয়ে এলাম, যাতে সহজে ব্যাগে ঢুকানো যায়।
এর এক সপ্তাহ আগের ঘটনা হচ্ছে, একদিন তার খালার বাসায় ইফতারের দাওয়াত ছিল। সেদিন সে মেসে ইফতারের মিল বন্ধ রাখল। আগেই বলে রাখি আমাদের এখান থেকে তার খালার বাসায় যেতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট লাগবে। সে বসে আছে খালার কাছ থেকে ফাইনাল ফোন এলে তবেই যাবে। এদিকে আসর গড়িয়ে ইফতার ঘনিয়ে আসছে, অথচ ফোন আসছে না। শেষ পর্যন্ত ফোন এলো না, কিন্তু ইফতারের ১০ মিনিট আগেই দেখি সে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমরা বললাম, এখন তো যেতে পারবে না। রাস্তায় ইফতারের সময় হয়ে যাবে। কিন্তু সে আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে যেতে পারবে বলে চলেই গেল। তারপর ইফতার শেষে আমরা যখন নামাজে গেলাম, দেখি সেও আমাদের সঙ্গে নামাজে উপস্থিত। নামাজ পরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি ৩০ মিনিটের রাস্তা ১০ মিনিটে গেলে আর ২ মিনিটে এলে কীভাবে? সে কিছু না বলে মুচকি হেসে কথা উড়িয়ে দিল। পরে জানলাম সে তার খালার বাসায় যায়নি। কিন্তু আমাদের কাছে লজ্জা পাবে মনে করে সে মেসে ইফতার থাকা অবস্থায়ও নিচে রেস্টুরেন্টে টাকা দিয়ে ইফতার করেছিল।
আহমদ
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
এর এক সপ্তাহ আগের ঘটনা হচ্ছে, একদিন তার খালার বাসায় ইফতারের দাওয়াত ছিল। সেদিন সে মেসে ইফতারের মিল বন্ধ রাখল। আগেই বলে রাখি আমাদের এখান থেকে তার খালার বাসায় যেতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট লাগবে। সে বসে আছে খালার কাছ থেকে ফাইনাল ফোন এলে তবেই যাবে। এদিকে আসর গড়িয়ে ইফতার ঘনিয়ে আসছে, অথচ ফোন আসছে না। শেষ পর্যন্ত ফোন এলো না, কিন্তু ইফতারের ১০ মিনিট আগেই দেখি সে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমরা বললাম, এখন তো যেতে পারবে না। রাস্তায় ইফতারের সময় হয়ে যাবে। কিন্তু সে আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে যেতে পারবে বলে চলেই গেল। তারপর ইফতার শেষে আমরা যখন নামাজে গেলাম, দেখি সেও আমাদের সঙ্গে নামাজে উপস্থিত। নামাজ পরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি ৩০ মিনিটের রাস্তা ১০ মিনিটে গেলে আর ২ মিনিটে এলে কীভাবে? সে কিছু না বলে মুচকি হেসে কথা উড়িয়ে দিল। পরে জানলাম সে তার খালার বাসায় যায়নি। কিন্তু আমাদের কাছে লজ্জা পাবে মনে করে সে মেসে ইফতার থাকা অবস্থায়ও নিচে রেস্টুরেন্টে টাকা দিয়ে ইফতার করেছিল।
আহমদ
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
ডিজিটাল বোকা প্রেমিক
বিয়ের পর প্রায়ই শাশুড়ির মুখে শুনি, ‘আমার ছেলেরা সোনার টুকরা, কারও সঙ্গে ওদের তুলনা হয় না...’ এমন অনেক অনেক কথা। শাশুড়ির বড়টি তো আমার কপালে ঝুলছে আর ছোট মিঠু মাত্র দশম শ্রেণীতে পড়ে। মিঠুকে গ্রাম থেকে শহরে এনে ভর্তি করাই। সারাক্ষণ ও-ই থাকে আমার পথচলার সঙ্গী। প্রায়ই দেখি ও রাস্তায় হা করে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে। বুঝতে পারি শাশুড়ির ছেলেরা সব দিকে ভালো হলেও ১% একটু খারাপ আছে। একটা নতুন মোবাইল নিয়ে গোপনে ওদের দুই ভাইকে এসএমএস লিখতে শুরু করি। ওরাও আমায় এসএমএস দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দু’জনের পরিবর্তন দেখি। দু’জনই পরিচয় দেয়, ওরা ভার্সিটির ছাত্র। বড়জন বলে, উনি বিয়ে করবে পাত্রী খুঁজছেন। বেডরুমে বসে যখন ড্রইংরুমে মিঠুকে এসএমএস পাঠাই, ও মিটিমিটি হাসে। ঘরে বসে অফিসে যখন বড়কে এসএমএস দিই, উনি ঘরে ফেরেন আনন্দের ঝলকানি নিয়ে। তখন আমরা সাভারে থাকতাম। ছোটকে দেখা করব বলে নিয়ে যাই মার্কেটে। ও সেদিন খুব হ্যান্ডসাম সেজে ঘর থেকে বের হয়। দেখা হয় না। বড়কে এসএমএস দিই পার্কে দেখা করব বলে। উনি হাতে-পায়ে-বুকে-কোমরে আর চুলে পারফিউম মেখে ঘর থেকে বের হয়। দুপুরে কল করার পর আমায় বলে, জরুরি কাজে বের হবে বিকালে। কাজ শেষে কল দেবে আমায়। আমি তো জানি কাজটা কী। সন্ধ্যার পর বাসায় আসে খুব শান্ত আর আনমনা হয়ে। প্যান্টের পকেটে একটা গোলাপ পেলাম। ওটাকে যত্ন করে রাখলাম। এরপর ২ জনকে আলাদাভাবে ডাকলাম স্মৃতিসৌধে। আমি গেলাম ভাইদের সঙ্গে। ২ ভাই ২ তোড়া ফুল নিয়ে হাজির হলো। একই স্থানে একে অন্যকে দেখে খুব বোকা হয়ে গেল। আমি গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দিয়ে ২ জনের হাত থেকে ফুলের তোড়াগুলো নিয়ে নিলাম। এই ডিজিটাল যুগে ওরা বোকা প্রেমিক হলো। ওরা আজও জানে না, ওদের দুজনের ডিজিটাল এসএমএস প্রেমিকা ছিলাম আমি। আজ মিঠু এক সন্তানের বাবা আর আমি... এরপর থেকে ওদের অনেক পরিবর্তন। ডিজিটালের ঘোষণায় ওরা নিজেদের ভাসিয়ে নিতে চাইল। সত্যিকারের ভালোবাসা-প্রেম ডিজিটালভাবে হয় না। ডিজিটাল মানুষকে বোকা প্রেমিক-প্রেমিকাও বানায়।
আকাশ বন্ধু, ঢাকা হইতে
আকাশ বন্ধু, ঢাকা হইতে
প্রশ্ন নেই উত্তরে পাহাড় আমি
আঁধার রাতে ঝলমলে চাঁদের আলো সবারই ভালো লাগে। সময় ছিল সেদিন রাত সাড়ে দশটা। তীব্র আলো নিয়ে চন্দ্রকে পূর্ব আকাশে দৃশ্যমান দেখে আমার ছোট বোন আমাকে ডাক দিল। আর চাঁদের এই অপরূপ রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। মনে পড়ে গেল গত রাতের কথা। আমার এক ফ্রেন্ড কল করেছিল। ও আমাকে বলেছিল, ‘শিশির, আমি এখন ভাবছি।’ আমি বিস্মিত কণ্ঠে বলেছিলাম, ‘কী ভাবছ?’ ও বলল, ‘চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূর্য থেকেই আলো গ্রহণ করে। আচ্ছা বল তো, মানুষ চাঁদকে কেন বেশি ভালোবাসে।’ এ সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি সময় নিয়েছিলাম। প্রকৃতই আমার কর্মকাণ্ডে বোকামি প্রচণ্ডভাবে প্রকাশ পায়। ছোট বোনকে প্রশ্ন করেছিলাম, জবাব পেলাম—চাঁদ সুন্দর তো তাই। আমিও তাই বললাম। ও বলল, ‘কবি-সাহিত্যিকরাও এ কথা বলেন। কিন্তু জানতে চাইছি কেন বলে?’ আমি উত্তর দিয়েছিলাম, ‘হ্যাঁ তাই তো, আমিও কবিতা লিখেছিলাম।’ পরে এ ব্যাপারে আর কথা হয়নি। সে কথা মনে পড়তেই আম্মুকে প্রশ্ন করলাম—‘আচ্ছা আম্মু, সূর্য থেকে চাঁদ আলো পায় তবে সবাই চাঁদকে সুন্দর বলে কেন?’ আম্মু বললেন, ‘এ তো খুবই সহজ। সূর্য একটি আলোকময় নক্ষত্র। যার প্রখরতা অনেক বেশি। মানুষের অনেক উপকার করলেও তাকে কেউ উপভোগ করতে পারে না। অন্যদিকে চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। কিন্তু সে সূর্যপ্রাপ্ত আলোতেই অনন্য। কাস্তে বাঁকা থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত প্রতিটি রাতই উপভোগ্য।’ আমি প্রতিউত্তর দিলাম, ‘আম্মু আমি এ কথা মোটেও চিন্তা করিনি।’ আম্মু বলল, ‘শিশির, তোমার কাছ থেকে কেউ এ ধরনের কথা আশা করে না। তুমি যে মাঝে মধ্যে বোকার মতো কাণ্ড কর, এটাও একটি দৃষ্টান্ত।’ আমি তো একেবারে প্রশ্ন নেই উত্তরে পাহাড় (বোকা বনে যাওয়া)। তারপরও বোকার মতো ছোট বোনকে প্রশ্ন ছুঁড়লাম, ‘বল তো, বোকা সম্পর্কে কী জানিস?’ ‘যে আমাকে প্রশ্ন করেছে সে একজন ছোট্ট বোকা নয়, সে বড় বোকা। বোকার মতো কথাবার্তা বলে। বোকার মতো কবিতা লেখে (যা আমার খুবই প্রিয়), যার মা তাকে বোকা উপাধি দেয়, ক্লাসে কম কথা বলার অপরাধে সবাই বোকা ভাবে। (তার ফ্রেন্ডরা অনুপস্থিত হলে এমনটি হয়। ফ্রেন্ডরা একীভূত হলে তো সব বোকার গল্প জুড়ে দেয়। কারণ এরা সবাই বোকা।) ভাবছি তার সঙ্গে থাকতে থাকতে কবে নিজেও বোকা বনে যাই!!! ইত্যাদি... কিন্তু কষ্ট লাগছে এই বোকা নেটওয়ার্কের একজন বোকার আগামী শুক্রবার বিয়ে। হিঃ হিঃ হিঃ! আমাকে দলভুক্ত করলে আমি বোকামিতে যারা ফার্স্ট অয় তাদের উপহার দিমু...’
মাহবুবা নাছরিন শিশির, নোয়াখালী
মাহবুবা নাছরিন শিশির, নোয়াখালী
বোকা সালাম
বোকা সালাম মানুষের ক্ষেত-খামারে দৈনিক মজুরি হিসেবে কাজ করত।
তাকে নামেমাত্র মজুরি দেয়া হতো। কারণ সে কাজ কম করত ও ভাত বেশি খেত। বোকারা মনে হয় একটু বেশিই খায়। তার খাবারের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। বড় একটা ডিশের মধ্যে মাছ, শাক, ভর্তা, ডাল, দুধ, কলা, চিনি, লেবু—সব একসঙ্গে মিশিয়ে খায়। প্রশ্ন করলে বলে—‘একই পেটে যহন যাইব তহন এক লগে গেলে ক্ষতি কি?’
উল্টা-পাল্টা খাওয়ার কারণে প্রায়ই তার পাতলা পায়খানা হতো। পাতলা পায়খানা সম্পর্কে সালাম যে তথ্য দিল তাতে বিজ্ঞান ফেল। সে বলে ‘হন মিয়া আমার পেটের অজম শক্তি বেশি। হেই কারণে সবকিছু পিষাইয়া পাতলা বানাইয়া ফালায়।’
সালাম মিয়া মাসে একবার গোসল করে। এ ব্যাপারে তার লজিক হলো—‘কম গোসল করলে শরীর মোটা হইব (ময়লা পড়ে) আর সাবান খরচা কম হইব।’ তার প্রতিটি কাজের পেছনে একটি শক্ত যুক্তি সে দাঁড় করাত আর সেই কাজটা সে ভালোবেসেই করত। এই সহজ-সরল মানুষটি প্রতিটি কাজই নিজ বিচার-বিবেচনায় করত। সে কখনই তার বোকা নামের প্রতিবাদ করেনি।
কিন্তু গভীর রাতে সে খুব কান্নাকাটি করত। রাতের সব নীরবতা-নিস্তব্ধতা ভেঙে সেই কান্না পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ত। কুকুর অথবা শেয়ালগুলো হয়তো ‘বোকা সালাম’ বলে সেই কান্নাকে উপহাস করত।
মুজাহিদুর রহমান ফাহিম
সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজার
তাকে নামেমাত্র মজুরি দেয়া হতো। কারণ সে কাজ কম করত ও ভাত বেশি খেত। বোকারা মনে হয় একটু বেশিই খায়। তার খাবারের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। বড় একটা ডিশের মধ্যে মাছ, শাক, ভর্তা, ডাল, দুধ, কলা, চিনি, লেবু—সব একসঙ্গে মিশিয়ে খায়। প্রশ্ন করলে বলে—‘একই পেটে যহন যাইব তহন এক লগে গেলে ক্ষতি কি?’
উল্টা-পাল্টা খাওয়ার কারণে প্রায়ই তার পাতলা পায়খানা হতো। পাতলা পায়খানা সম্পর্কে সালাম যে তথ্য দিল তাতে বিজ্ঞান ফেল। সে বলে ‘হন মিয়া আমার পেটের অজম শক্তি বেশি। হেই কারণে সবকিছু পিষাইয়া পাতলা বানাইয়া ফালায়।’
সালাম মিয়া মাসে একবার গোসল করে। এ ব্যাপারে তার লজিক হলো—‘কম গোসল করলে শরীর মোটা হইব (ময়লা পড়ে) আর সাবান খরচা কম হইব।’ তার প্রতিটি কাজের পেছনে একটি শক্ত যুক্তি সে দাঁড় করাত আর সেই কাজটা সে ভালোবেসেই করত। এই সহজ-সরল মানুষটি প্রতিটি কাজই নিজ বিচার-বিবেচনায় করত। সে কখনই তার বোকা নামের প্রতিবাদ করেনি।
কিন্তু গভীর রাতে সে খুব কান্নাকাটি করত। রাতের সব নীরবতা-নিস্তব্ধতা ভেঙে সেই কান্না পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ত। কুকুর অথবা শেয়ালগুলো হয়তো ‘বোকা সালাম’ বলে সেই কান্নাকে উপহাস করত।
মুজাহিদুর রহমান ফাহিম
সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজার
কখন বুঝবেন আপনি বোকা!
২. নিয়মিত স্কুল-কলেজ করলেও নিজেকে বাহাদুরি সাজাতে যখন হাজিরা দেন না!
৩. চুরি অথবা ডাকাতি হওয়ার ভয়ে যখন আপনি উপার্জনই করেন না!
৪. ফেসবুকে কারিনা-ক্যাটরিনার ছবি দেখে যখন তাদের বন্ধুরা প্রেমিক হওয়ার আশায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান আর মনে মনে ভাবতে থাকেন এই বুঝি প্রেম হয়ে গেল!!
৫. ১০০ টাকার টকটাইম পাওয়ার বাসনায় যখন বি.স. মহোদয়ের মোবাইলে ৫০০ টাকার লোড পাঠান!!
বো কা দে র কা ণ্ড
মা বোকা সাজে বাবার সঙ্গী হয়ে
বাবা বোকা সাজে ২টা বিয়ে করে
ভাই বোকা সাজে সিনিয়র বান্ধবীর প্রেমে পড়ে
বোন বোকা সাজে বাবার বয়সীকে বন্ধু বানিয়ে।
দাদা বোকা সাজে ইন্টারনেটে ফেসবুক দেখে
দাদি বোকা সাজে মোবাইল মেসেজ পড়ে।
মামা বোকা সাজে গার্ল ফ্রেন্ডকে ফ্যাক্স করে।
নানি বোকা সাজে ই-মেইলে না বুঝে নক করে।
প্রধানমন্ত্রী বোকা সাজে উপযুক্ত লোককে নমিনেশন না দিয়ে
মন্ত্রীরা বোকা সাজে মুখ ফসকে কথা বলে।
এমপিরা বোকা সাজে বেশি দামে গাড়ি কিনে
কর্মকর্তা বোকা সাজে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা লুট করে।
কর্মচারী বোকা সাজে বসের মাথায় তেল ঘষে
শেয়ার ব্যবসায়ী বোকা সাজে লোভের মাঝে পড়ে।
সাংবাদিকরা বোকা সাজে ভুল খবর ছাপিয়ে
শিক্ষক বোকা সাজে ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে।
আমি বোকা সাজি ভিমরুল ম্যাগাজিন পড়ে
পাঠক,
আপনারা বোকা সাজবেন আমার এই অবাস্তবের
মাঝে বাস্তব বোকামির কবিতা পড়ে।
তেজগাঁও, ঢাকা।
বাবা বোকা সাজে ২টা বিয়ে করে
ভাই বোকা সাজে সিনিয়র বান্ধবীর প্রেমে পড়ে
বোন বোকা সাজে বাবার বয়সীকে বন্ধু বানিয়ে।
দাদা বোকা সাজে ইন্টারনেটে ফেসবুক দেখে
দাদি বোকা সাজে মোবাইল মেসেজ পড়ে।
মামা বোকা সাজে গার্ল ফ্রেন্ডকে ফ্যাক্স করে।
নানি বোকা সাজে ই-মেইলে না বুঝে নক করে।
প্রধানমন্ত্রী বোকা সাজে উপযুক্ত লোককে নমিনেশন না দিয়ে
মন্ত্রীরা বোকা সাজে মুখ ফসকে কথা বলে।
এমপিরা বোকা সাজে বেশি দামে গাড়ি কিনে
কর্মকর্তা বোকা সাজে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা লুট করে।
কর্মচারী বোকা সাজে বসের মাথায় তেল ঘষে
শেয়ার ব্যবসায়ী বোকা সাজে লোভের মাঝে পড়ে।
সাংবাদিকরা বোকা সাজে ভুল খবর ছাপিয়ে
শিক্ষক বোকা সাজে ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে।
আমি বোকা সাজি ভিমরুল ম্যাগাজিন পড়ে
পাঠক,
আপনারা বোকা সাজবেন আমার এই অবাস্তবের
মাঝে বাস্তব বোকামির কবিতা পড়ে।
তেজগাঁও, ঢাকা।
বোকার হাট-বাজার!
জামসেদুর রহমান সজীব
চরনারায়ণপুর, রাজবাড়ী
চরনারায়ণপুর, রাজবাড়ী
খুব ভালো লাগল...
ReplyDelete