ছক্কা মেরে ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়েও নির্লিপ্ত থাকতে পারেন। সেই মহেন্দ্র সিং ধোনিও পরশু ‘সামান্য’ একটা টি-টোয়েন্টি জেতার পর উচ্ছ্বসিত! এমনই হওয়ার কথা। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে গৌতম গম্ভীরকে মিড উইকেট আর মিডঅনের মাঝখান দিয়ে চারটি মারতে দেখে ধোনির বুক থেকে যে পাথরবোঝা নেমে গিয়েছিল। অবশেষে হাপিত্যেশ করে মরতে থাকা ভারত বিদেশের মাঠে পেল একটি জয়ের দেখা।
মানুষের স্মৃতি বড় প্রতারক। উপমহাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের স্মৃতি তো আরও ক্ষীণ। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের ১০ মাসের মাথায় ফাইনাল জেতানো অধিনায়কেরই পদত্যাগের দাবি উঠে গেছে জনতার মঞ্চে! যে সাংবাদিকেরা মাস কয় আগেই স্তুতির বাণ ডাকিয়েছিলেন কলমে, সেই তাঁদের হাতেই এখন সমালোচনার চাবুক।
ধোনি অবশ্য জোর দিয়েই বলছিলেন, একটা জয় পেলেই ছবিটা পাল্টে যাবে। দলের মধ্যে আটকে থাকা গুমোট বাতাস উড়িয়ে দিতে দরকার একটা মাত্র জয়। অবশেষে বহু আরাধ্য সেই জয়টা মেলবোর্নের টি-টোয়েন্টিতে পেয়েছে ভারত। আজ শুরু ত্রিদেশীয় সিবি সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসের জন্য জরুরি জ্বালানিও পেয়েছে ধোনির দল।
ধোনির জন্য বাড়তি সুসংবাদ ওই ম্যাচে খেলা গম্ভীরের অপরাজিত ফিফটির ইনিংসটি। সব ধরনের ক্রিকেটে আগের ১৫ ইনিংসে মাত্র দুটি ফিফটি ছিল গম্ভীরের। পরশুর ইনিংসটিতে ছিল সেই বৃত্ত ভাঙার জেদ। গম্ভীরের ব্যাটেই কিন্তু ২০০৭-০৮ সিবি সিরিজ জিতেছিল ভারত। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৪০৪ রান করেছিলেন সে সময় ক্যারিয়ারেরই সেরা ফর্মে থাকা বাঁহাতি। আরেকটি সিবি সিরিজ আসন্ন বলেই কি গম্ভীরের ব্যাটের ঘুম ভাঙল?
চার বছর আগের সেই সিরিজ জয়ের নায়ক ছিলেন আরও একজন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ওই টুর্নামেন্টের দুটি ফাইনালে শচীন টেন্ডুলকারের ইনিংস দুটি ছিল যথাক্রমে অপরাজিত ১১৭ ও ৯১। বিশ্বকাপ জয়ের পর শুধু টেস্টেই মনোনিবেশ করা টেন্ডুলকার এই ম্যাচ দিয়ে আবারও ওয়ানডেতে ফিরছেন। এই প্রত্যাবর্তনে ফিরে এসেছে তাঁর শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির প্রসঙ্গও। টেন্ডুলকারের জন্য এটা নতুন আরেক চ্যালেঞ্জ। আগামী বিশ্বকাপের দলেও তাঁর থাকা হবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই মিলে যাবে এই সিরিজ থেকে।
ভারত অবশ্যই চায় সিবি সিরিজ গতবারের চিত্রনাট্যই অনুসরণ করুক। এমনিতে মিল তো আছেই। গতবারের মতো এবারও টুর্নামেন্টে তৃতীয় দল হিসেবে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ওয়েবসাইট।
No comments:
Post a Comment