Friday, 3 February 2012

‘হিট’ ওয়ার্নারের সুইচ হিট

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ডেলিভারিটি ছিল লেগ স্টাম্পে। বোলার বল ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বাঁহাতি থেকে ডানহাতি হয়ে গেলেন ডেভিড ওয়ার্নার। বলকে পাঠিয়ে দিলেন গ্যালারিতে, ১০০ মিটার লম্বা ছয়। তবে কোন এলাকা দিয়ে ছয় হলো বলা মুশকিল। বাঁহাতির জন্য জয়গাটা এক্সট্রা কভার, কিন্তু ‘ডানহাতি’ ওয়ার্নারের জন্য হয়ে গেল মিড উইকেট!
ঘটনা পরশু সিডনিতে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টি-টোয়েন্টির। আধুনিক ক্রিকেটের নবতম আবিষ্কারগুলোর একটি এই সুইচ হিট। উদ্ভাবক কেভিন পিটারসেন, মূলত মুত্তিয়া মুরালিধরনকে শায়েস্তা করতে এ অস্ত্রটি আবিষ্কার করেছিলেন ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান। দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায় এই শট। এখন তো শটটাকে প্রায় নিজের করে নিয়েছেন ওয়ার্নার। টি-টোয়েন্টি-ওয়ানডেতে খেলেন মোটামুটি নিয়মিতই। মেলবোর্নে আজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও হয়তো দেখা যাবে ওয়ার্নারের এই সুইচ হিট।
তবে শুরু থেকেই এই সুইচ হিটের সঙ্গে লেগে আছে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন। পরশু ওয়ার্নারের চোখ ধাঁধানো সুইচ হিটে প্রশ্নটা উঠছে আবারও। এখন পর্যন্ত সুইচ হিট আইসিসির দৃষ্টিতে বৈধ। কিন্তু বোলার যদি ডান হাত থেকে বাঁ হাতে বোলিং করে কিংবা বাঁ হাত থেকে ডান হাতে, তাহলে ডেলিভারির আগে আম্পায়ারকে বলে নিতে হয়। বোলার রানআপ শুরু করার পর ফিল্ডাররা জায়গা পরিবর্তন করতে পারেন না। তাহলে ব্যাটসম্যানরা কেন এই সুবিধা পাবেন? প্রশ্ন আছে আরও, ওয়াইড কিংবা এলবিডব্লু দেওয়ার ক্ষেত্রে আম্পায়ার বিবেচনায় নেবেন কোনটিকে, মূল পজিশন নাকি নতুন পজিশন?
উদ্ভাবক পিটারসেনের যুক্তি ছিল, সুইচ হিটে শুধু ব্যাটসম্যানরা নন, বাড়তি সুবিধা পান বোলাররাও। এই শট খেলতে অনেক ঝুঁকি নিতে হয় ব্যাটসম্যানকে, বোলারের উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায় অনেক। কাজেই এটার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। কাল অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ সম্মেলনে এটা নিয়ে কথা বলতে হলো ডেভিড হাসিকে। এই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টের অভিমত, অবৈধ ঘোষণা নয়, সুইচ হিটকে বরং উপভোগ করা উচিত, ‘উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায় এই শটে। ডেভ (ওয়ার্নার) দারুণ এক ব্যাটসম্যান, ডান-বাঁ দুই হাতেই খেলতে পারে। সুইচ হিটকে অবশ্যই চলতে দেওয়া উচিত। এখন তো সবকিছুতেই টি-টোয়েন্টি প্রভাব, টেস্টে চার-পাঁচ করে রান উঠছে। কে জানে, একদিন হয়তো দেখা যাবে কেউ টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি ছোঁবে সুইচ হিটে ছয় মেরে!’
তবে সুইচ হিট যে বোলারের জন্য বিরক্তিকর, নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই সেটা জানালেন মজা করে, ‘নেটে আমার বোলিংয়ে ডেভ (ওয়ার্নার) এই শট প্রায়ই খেলে এবং খুব বিরক্ত লাগে। থামানোর জন্য আমি ওকে বিমার দিয়েছিলাম। চেষ্টা করেছিলাম ওর মাথায় লাগানোর। কাজে লাগেনি, উল্টো ও আরও মেরেছে।’ তবে সুইচ হিট খেলতে যাওয়া ব্যাটসম্যানকে থামাতে কার্যকর একটা অস্ত্রও বাতলে দিয়েছেন ছোট হাসি, ‘ব্যাটসম্যানের ঠিক পায়ের আঙুলে বল করতে হবে, যাতে হাত খুলতে না পারে।’ ওয়েবসাইট।

No comments:

Post a Comment